রঙ পেনসিল https://rongpencil.net তথ্যের ষোলকলা Tue, 27 Oct 2020 17:19:37 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.4.2 https://i2.wp.com/rongpencil.net/wp-content/uploads/2019/10/cropped-icon.png?fit=32%2C32&ssl=1 রঙ পেনসিল https://rongpencil.net 32 32 166584991 ফরাসি শোষণের শেষ কোথায়? https://rongpencil.net/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f/#respond Tue, 27 Oct 2020 17:18:12 +0000 https://rongpencil.net/?p=1375 রঙ পেনসিল ডেস্ক:  বিশ্বে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পরিচয় শিল্পকলা, চলচ্চিত্র আর সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। এই পরিচয়ের ছিটেফোঁটাও সাবেক ফরাসি অবশ্য উপনিবেশগুলোর ভাগ্যে জোটেনি। সেই সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা। যারফলে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দেশটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে ফরাসি পণ্য বয়কটেরও ডাক দিয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে প্রায় দুই শতাব্দীর ফরাসি ঔপনিবেশিক ...

The post ফরাসি শোষণের শেষ কোথায়? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রঙ পেনসিল ডেস্ক:  বিশ্বে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পরিচয় শিল্পকলা, চলচ্চিত্র আর সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। এই পরিচয়ের ছিটেফোঁটাও সাবেক ফরাসি অবশ্য উপনিবেশগুলোর ভাগ্যে জোটেনি। সেই সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা। যারফলে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দেশটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে ফরাসি পণ্য বয়কটেরও ডাক দিয়েছে।

আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে প্রায় দুই শতাব্দীর ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকালে ফ্রান্স মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে, তৎকালীন ইন্দোচীন বলে পরিচিত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায়।

উপনিবেশগুলোর মানুষের জীবনমান ও অগ্রসরতা নিয়ে উদ্বেগ না থাকলেও অবশ্য ফ্রান্স এখনও বহু দরিদ্র আফ্রিকান দেশকে কর ও ভাড়া দিতে বাধ্য করছে। এর মাঝে ১০টি দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে শিক্ষা হার পুরো বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে কম।

প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষাহারসহ হতভাগ্য দেশগুলোর মধ্যে ৮টি দেশের দিকে নজর দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এই ৮ দেশ হলো; বেনিন (৪০%), বুর্কিনা ফাসো (২৬%), চাদ (৩৪%), আইভরি কোস্ট (৪৯%), গায়ানা (২৯%), মালি (২৩%), নাইজার (২৯%) এবং সেনেগাল (৪২%)।

দেড়শো বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনে এটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল!

শিক্ষা নিয়ে আরেক বঞ্চনার উদাহরণ নমুনা দেওয়া যেতে পারে। দেড়শো বছর পর ১৯৬০ সালে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র যখন ফ্রান্স থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভ করে তখন পর্যন্ত সে দেশটির মাত্র একজন ব্যক্তি পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করতে পেরেছিলেন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত ফ্রান্স ন্যাক্কারজনক অবস্থা রেখে গেছে তার আফ্রিকান কলোনিগুলোয়। আর এই অনগ্রসরতার সুযোগ নিয়ে এখনও এই ইউরোপীয় প্রভু আফ্রিকাকে সাংস্কৃতিক নির্ভরতা আর আর্থিক শোষণের বেড়াজালে বন্দি রাখতে পারছে।

আইভরি কোস্টে বিদ্রোহীদের ঠেকাতে মোতায়েন করা কিছু সেনা সদস্যএসব দেশে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণহত্যা অধিকাংশ সময়েই ঔপনিবেশিক শক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে সংগঠিত হয়। ফ্রান্স এখনও এসব দেশে ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত সরকারি ভবন ও স্থাপনার ভাড়া আদায় করে। খবর সিজিএস গ্লোবের।

এই প্রেক্ষিতে এখন ধরে নেওয়া যাক, স্বাধীনতার পরেও যুক্তরাষ্ট্রকে হোয়াইট হাউজের ভাড়া যুক্তরাজ্যকে দিতে হচ্ছে। কিংবা প্রাক্তন সোভিয়েত আমলে তৈরি করা পূর্ব ইউরোপের আবাসিক ভবনগুলোর ভাড়া আদায় করছে রাশিয়া!

অবিশ্বাস্য এবং অবাস্তব এই শোষণ কিন্তু আফ্রিকার বাস্তবতা। প্রাকৃতিক সম্পদও অবাধে উত্তোলনের সুযোগ পায় ফরাসি কোম্পানিগুলো। নিয়ন্ত্রণ করে অনেক দেশের মুদ্রানীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ।

আরেকটি পরিসংখ্যান জেনে রাখা দরকার। ১৯৯০’এর দশকে যখন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন প্রত্যেকটি দেশেই শতভাগ শিক্ষার হার ছিল। একটি দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

শুধু শিক্ষাহার নয় সোভিয়েত শাসনামলের অবসান হওয়ার সময় এদেশগুলোতে ছিল হাজার হাজার সুপ্রশিক্ষিত চিকিৎসক আর প্রকৌশলী। সোভিয়েতরা তৈরি করেছিল মানসম্মত বহু বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, আবাসন এলাকা। একই কথা বলা যেতে পারে যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো স্থাপনের ক্ষেত্রে।

পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত আমলে তৈরি করা এক আবাসন কমপ্লেক্স
স্বাধীনতা লাভের দুই দশক পর আজও পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন, অন্যান্য অবকাঠামো সেই সোভিয়েত আমলেই তৈরি করা হয়।

সেই তুলনায় মুক্তবিশ্বের সংস্কৃতিমনা নক্ষত্র ফ্রান্সের অবদান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাই নয় কি?

The post ফরাসি শোষণের শেষ কোথায়? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f/feed/ 0 1375
ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির হিসাব নিকাশ https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%b0/ https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%b0/#respond Tue, 20 Oct 2020 14:28:34 +0000 https://rongpencil.net/?p=1370 রংপেনসিল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তুরস্কের ভূরাজনীতির পট পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের ওপর ভর করে জ্বালানি চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে দেশটি আমদানি নির্ভরতার ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে চাচ্ছে। কারণ দেশটির জ্বালানির প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির জ্বালানির ৯০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসকেন্দ্রিক, যার অধিকাংশই আমদানির ...

The post ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির হিসাব নিকাশ appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রংপেনসিল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তুরস্কের ভূরাজনীতির পট পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের ওপর ভর করে জ্বালানি চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে দেশটি আমদানি নির্ভরতার ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে চাচ্ছে। কারণ দেশটির জ্বালানির প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির জ্বালানির ৯০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসকেন্দ্রিক, যার অধিকাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে তুরস্ক। আর জ্বালানি, বিশেষত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটির অন্যতম উৎস আরেক মুসলিম দেশ ইরান। তবে দেশটির সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিনের যে জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেটির স্থায়িত্ব বা আরো ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কারে মনোনিবেশ করছে তুরস্ক। একই সঙ্গে ইরানের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানির পরিমাণ বাড়াচ্ছে দেশটি। এ অবস্থায় জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইরান তুরস্ক সম্পর্ক’র ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান অন্যতম খেলোয়াড়। অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে এরদোগান সরকারও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুটি দেশই পশ্চিমাদের রোষানলের মুখে থাকার কারণে তাদের মধ্যে বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মিত্র সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য তুরস্কের জ্বালানি চাহিদার একটা বড় অংশই ইরাননির্ভর। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য দেশ দুটোর মধ্যে ২৫ বছরের চুক্তিও রয়েছে। একই অবস্থা রাশিয়ার সঙ্গেও। তুরস্কের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আসে দেশটি থেকে। যদিও চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দেশ দুটো থেকে তুরস্কের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। এর পরিবর্তে আজারবাইজাইন, কাতার, আলজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে তুরস্ক।

কয়েক দশক ধরে তুরস্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দ্রুত উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। যে কারণে দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৮৭ সালে দেশটিতে গ্যাসের চাহিদা ছিল ৫০ কোটি ঘনমিটার, যা ২০১৭ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫০ কোটি ঘনমিটারে। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের এ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তুরস্ক নিজেদের অভ্যন্তরীণ উত্তোলন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে বেশ জোরেশোরে কাজ করছে। সম্প্রতি কৃষ্ণসাগরে দেশটির কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার সেই চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। তিনি সে সময় জানান, এতে প্রায় ৩২ হাজার কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হবে। এরই মধ্যে দুদিন আগে কৃষ্ণসাগরে নতুন করে আরো সাড়ে আট হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস আবিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান এরদোগান।

ইরান তুরস্ক সম্পর্ক’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে

ইরান তুরস্ক সম্পর্ক’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে

জ্বালানি চাহিদায় বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে আনার বিষয়টি যে বেশ গুরুত্বে সঙ্গে নিয়েছেন তিনি, সেটি তার কথায় বারবার উঠে এসেছে। এদিন তিনি নিজেই কৃষ্ণসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজে কার্যক্রম চালানো জাহাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, কৃষ্ণসাগরে এ-যাবত্কালের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি হাইড্রোকার্বনযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে কেবল সাকারিয়া গ্যাসফিল্ডের টুনা-১ কূপে ৪০ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে নতুন এসব গ্যাসক্ষেত্র আমাদের বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে আনবে।

আরও পড়ুন-বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা : ক্রীতদাস সংগ্রহই ছিল যার প্রধান উদ্দেশ্য

দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এত বড় গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কারই বলে দেয় জ্বালানির বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক। এখন প্রশ্ন হলো, কয়েক বছরের মধ্যে ইরান, রাশিয়ার মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের পাশ কাটিয়ে কেন জ্বালানিতে আত্মনির্ভরশীল হতে উঠেপড়ে লেগেছে আঙ্কারা। খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক মনে করে অদূরভবিষ্যতে ইরান আর জ্বালানিক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করবে না। এ কারণেই দেশটি এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছে যেন সামনে আর ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজন না হয় তাদের।

রাজনৈতিক অর্থনীতির বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি স্টাডিজের (আইআইইএস) জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মাদ সাদেক জোকার সম্প্রতি তেহরান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ’র ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, জ্বালানি নিয়ে তুরস্কের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আমাদের তিনটি বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। এক. তুরস্ক নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের দিকে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প খাতে কয়লার ব্যবহার বাড়াচ্ছে; দুই. দেশটির রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন; নতুন জোট গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বন্ধনও তৈরি হচ্ছে এবং তিন. কৃষ্ণসাগরে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার।

এর মধ্যে সবচেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন। এরই মধ্যে সৌদি আরবের আগ্রাসন ঠেকাতে কাতার ও তুরস্কের মধ্যে শক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি হুমকি ঠেকাতে প্রক্সি সিকিউরিটি হিসেবে কাজ করছে তুরস্ক। এর বিনিময়ে নামমাত্র দামে দেশটিকে এলএনজি সরবরাহ করছে কাতার।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান অন্যতম খেলোয়াড়

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান অন্যতম খেলোয়াড়

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তুরস্কের বাজারে এলএনজির সরবরাহ বাড়াতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে ওয়াশিংটনকে কাছে পেতে আঙ্কারাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজির আমদানি বাড়াচ্ছে। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নিজেদের প্রয়োজনেই তুরস্ককে কাছে রাখতে হচ্ছে রাশিয়ার। কারণ ইউরোপের বাজারে দেশটির গ্যাসের যে সরবরাহ লাইন, নর্ড স্ট্রিম-২, সেটি তুরস্কের মধ্যে দিয়েই গেছে। ফলে তুরস্ককে সামরিক সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি বড় ছাড়ে গ্যাস সরবরাহ করছে রাশিয়া। আবার সংস্কৃতি ও মতাদর্শগত কারণে আজারবাইজাইন থেকে গ্যাস আমদানি বাড়াচ্ছে তুরস্ক। এ কারণে চলতি বছর রাশিয়া ও ইরানকে হটিয়ে তুরস্কের বাজারে শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিকারক হতে যাচ্ছে আজারবাইজাইন।

সব মিলিয়ে তুরস্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উত্তোলন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য মিত্র দেশ থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে। বিপরীতে ভূরাজনৈতিক উত্তোজনা থেকে নিজেদের এড়াতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা গুটিয়ে আনছে আঙ্কারা। এ অবস্থায় ইরানের জন্য করণীয় কী হতে পারে সেটির উত্তর দিয়েছেন আইআইইএস জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মাদ সাদেক জোকার। তিনি মনে করেন, ইরান তুরস্ক’র মধ্যে এখন যে চুক্তি রয়েছে, তাতে বছরে এক হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানি করবে আঙ্কারা। তবে এ চুক্তি ২০২৬ সালে শেষ হবে। এরই মধ্যে ইরানকে বড় উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ তুরস্ক মেশিনারিজ, মোটর ভেহিকল, লোহা, ইস্পাত, তামাকজাত ও ইলেকট্রিকের মতো গুটি কয়েক পণ্য ইরানে রফতানি করে। অন্যদিকে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের রফতানির সিংহভাগেরই গন্তব্য তুরস্ক। ফলে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে তেলনির্ভর অর্থনীতির স্বার্থে বড় ছাড়টাই এখন দিতে হবে তেহরানকে। ইরান তুরস্ক সম্পর্ক’র উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সম্পর্কের । এছাড়াও আরও বেশ কিছু রাজণৈতিক অজুহাত রয়েছে ইরান তুরস্ক সম্পর্ক প্রশ্নবিদ্ধ করতে। তবে শক্তিশালী দুই মুসলিমরাষ্ট্রের বন্ধন অটুট থাকুক, সেটাই সবার চাওয়া।

সূত্র: তেহরান টাইমস, আল জাজিরা, আইএএনএস, আনাদোলু এজেন্সি

The post ইরান তুরস্ক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির হিসাব নিকাশ appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%b0/feed/ 0 1370
আর্মেনিয়া আজারবাইজান যুদ্ধ ও তুরস্কের লাভ-ক্ষতির সমীকর https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6/ https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6/#respond Thu, 15 Oct 2020 13:08:40 +0000 https://rongpencil.net/?p=1365 সাইফুল বিন শরীফ: আর্মেনিয়া আজারবাইজান দুটি রাষ্ট্রই মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ ককেশাসে অবস্থিত। আর্মেনিয়া হচ্ছে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, আর আজারবাইজান শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র।ইতিহাসের এক সময় এ অঞ্চলগুলো পারস্য সম্রাজ্য তথা ইরানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। উনিশ শতকের দিকে রুশ ও পারস্য যুদ্ধে ইরান রাশিয়ার কাছে পরাজিত হলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পারস্য সম্রাজ্যের ওপর তুর্কিমানচাই চুক্তিসহ আরও কিছু ...

The post আর্মেনিয়া আজারবাইজান যুদ্ধ ও তুরস্কের লাভ-ক্ষতির সমীকর appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
সাইফুল বিন শরীফ: আর্মেনিয়া আজারবাইজান দুটি রাষ্ট্রই মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ ককেশাসে অবস্থিত। আর্মেনিয়া হচ্ছে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, আর আজারবাইজান শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র।ইতিহাসের এক সময় এ অঞ্চলগুলো পারস্য সম্রাজ্য তথা ইরানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। উনিশ শতকের দিকে রুশ ও পারস্য যুদ্ধে ইরান রাশিয়ার কাছে পরাজিত হলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পারস্য সম্রাজ্যের ওপর তুর্কিমানচাই চুক্তিসহ আরও কিছু চুক্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো দখল করে নেয়। পরে ১৯১৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আজারবাইজান দখলের ফলে সেখানে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯২০ সালে সোভিয়েত লালফৌজ আজারবাইজান দখল করে নেয়। পরে সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক আজারবাইজানকে তাদের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার করে। ঠিক একইভাবে আর্মেনিয়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনাধীন ছিল।

আর্মেনিয়া আজারবাইজান দুটি পাশাপাশি রাষ্ট্র, এ দুটি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার যেমন সীমান্ত আছে তেমনিভাবে ইরানের সঙ্গেও সীমান্ত রয়েছে। আবার আজারবাইজানের সঙ্গে তুরস্কেরও কিছুটা সীমান্ত আছে। আপনি যদি দেখেন এ রাষ্ট্রগুলোর প্রাচীন যে দ্বন্দ্ব তা শতাব্দীব্যাপী চলমান দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বগুলো আমরা অনেকেই ধর্মীয় দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলেও আসলে তা যতটা না ধর্মীয় তার চেয়ে বেশি দ্বন্দ্বের কারণ হচ্ছে জাতিগত এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দ্বন্দ্ব। আর্মেনিয়া আজারবাইজান দুটি রাষ্ট্রই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। সেই তখন থেকে আর্মেনিয়া আজারবাইজান-এর মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আর সেই অঞ্চল হলো নাগার্নো কারাবাখ।

৫০০০ বর্গ কিলোমিটারের এ অঞ্চলের প্রায় ৭৬% জনগণ আর্মেনীয় বংশধূত এবং আশির দশক থেকে আজারবাইজানের কাছ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল আর্মেনীয়রা। ১৯৮৮ সালের দিকে এসে তাদের এ আন্দোলন অনেক বেশি পুঞ্জীভূত হতে থাকে। ১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর আর্মেনিয়া তাদের অধু্যষিত অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করে এবং তাদের জনগণ আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে মত দেন আজারবাইজান তাদের এ মতকে সমর্থন না করাই আর্মেনিয়া সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দিতে থাকে, এবং তারা সেখানে যুদ্ধের মধ্যদিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাধী সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়। যার ফলে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে একটা বিরাট সংকট তৈরি হয়। আইনগতভাবে নাগার্নো কারাবাখ এ অঞ্চলটি এখনো পর্যন্ত আজারবাইজানের আছে। যদিও এটি নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল।

একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল

একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ৪ বার আর্মেনিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এ ভূখন্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য রেজুলেশন হয়েছিল। মুসলিমদের সর্বোচ্চ সংস্থা ওআইসি ১৯৯৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় তিন দশক ধরে অনেকবার এ ভূখন্ডের বিরোধ নিয়ে ওয়াইসি শীর্ষ সম্মেলনে কথা বলেছে। ওয়াইসি বলেছে, আর্মেনিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদী দল যেন আজারিদের ন্যায্য ভূখন্ড ছেড়ে চলে যায়। এ ভূখন্ড নিয়ে পর্যায়ক্রমে ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১৬ সালেও যুদ্ধ হয়েছিল এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে।

আরও পড়ুন – চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব, পৃথিবী ছাপিয়ে রণক্ষেত্র এখন মঙ্গল গ্রহে

সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর আজারবাইজান নাগার্নো কারাবাখ অঞ্চল দখল নেওয়ার জন্য অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত এ অভিযান ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তাদের এ যুদ্ধের পেছনে রয়েছে মূলত ভূখন্ডগত বিরোধ এবং জাতিগত বিদ্বেষ। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান যুদ্ধে তুরস্ক কেন নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন এ প্রশ্ন সবার এবং এ যুদ্ধে তুরস্কের লাভ-ক্ষতির সমীকরণ কি? আমরা অনেকে তার হিসাব মেলাতে চাই। তুরস্কের এ যুদ্ধে আজারবাইজানকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করার পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে। তুরস্ক আর আজারবাইজান শিয়া ও সুন্নি মতাদর্শের বিশ্বাসী হলেও তারা জাতিগতভাবে একই বংশের। তুর্কিরা যেমন অর্ঘুজ বংশের বংশধর, ঠিক একইভাবে আজারিরাও অর্ঘুজ বংশের বংশধর। তাই তুরস্ক আর আজারবাইজানকে বলা হয় এক জাতি দুই দেশ।

তুরস্ক ১৯৯৪ সালেও আজারিদের যুদ্ধে সহায়তা করেছিল, কিন্তু তখনকার তুরস্ক আজকের এ অবস্থানে ছিল না। বর্তমানে এরদোয়ানের তুরস্ক সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম। ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক বিশ্বের আইকন। তুরস্ক এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হতে পারে, সিরিয়ার পিকেকে নিয়ে যে শান্তি চুক্তি হয়েছিল তুরস্কের সঙ্গে আমেরিকা এবং রাশিয়ার। যার ফলে আমেরিকা সিরিয়া ছেড়ে চলে যায়। আমেরিকা চলে যাওয়ায় রাশিয়া একাই এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এরদোয়ান এ অঞ্চলে নিজের প্রভাব স্থায়ী করতে যুদ্ধকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এরদোয়ান হয়তো মনে করেন, দক্ষিণ ককেশাসের এ রাষ্ট্রে যদি নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারে তাহলে তার কিছুটা দাবানল ছড়িয়ে পড়বে উত্তর ককেশাসে রাশিয়ার মুসলিম অধু্যষিত কিছু রাজ্যে। যার ফলে এরদোয়ান সহজে পুতিনকে কাছে পাবেন। পুতিনকে এরদোয়ানের কাছে রাখা দরকার আমেরিকার চাপ থেকে বাঁচার জন্য। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে কারণ হতে পারে, তুরস্ক আর আজারবাইজান জাতিভাই হিসেবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সহযোগিতা। তুরস্ক তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দিয়ে আজারিদের সহযোগিতা করেছে, ইতিমধ্যে তুর্কি ড্রোন বেশ সফল হয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া, আজারবাইজানে তুর্কি ড্রোনের সাফল্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তুর্কি ড্রোনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, ইতিমধ্যে বেশকটি দেশ তুর্কি ড্রোন কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে রাশিয়া আর্মেনিয়ার মিত্র হলেও এখনো পর্যন্ত রাশিয়া আর্মেনিয়াকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। এমনকি রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়ার ভূখন্ডের বাইরে গিয়ে রাশিয়া কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়ার যেমন ভালো সম্পর্ক রয়েছে তেমনি আজারবাইজানের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে, সুতরাং রাশিয়া চাইবে না কোনো দেশের সঙ্গে ঝামেলা করে নিজেদের ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হোক। তা ছাড়া তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার বেশকিছু চুক্তি রয়েছে। রাশিয়া যদি আজারবাইজানের বিপক্ষে যায় তাহলে নিঃসন্দেহে তুরস্কের বিপক্ষে যাওয়া হবে, যা রাশিয়া চাইবে না। ইসরাইল এ অঞ্চলের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি। ইসরাইলের সঙ্গে আজারবাইজান ও তুরস্কের অস্ত্র বাণিজ্য রয়েছে। তাই ইসরাইল তার ক্রেতাকে সন্তুষ্ট রাখার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর আমেরিকা যেহেতু ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র তাই আমেরিকাও তার মিত্রের ব্যবসায় ব্যাঘাত ঘটে এমন কোনো কাজ করবে না। সুতরাং আমেরিকা এ যুদ্ধে এখনো পর্যন্ত হঁ্যা না সাড়া দিচ্ছে না। আর দেবে বলেও সম্ভাবনা খুব কম, কারণ সামনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সুতরাং এ যুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে আজারবাইজান। আর্মেনিয়া পুরো বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, কারণ এ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ন্যায্য অধিকার। আজারিরা তাদের নিজেদের ভূখন্ড উদ্ধারে যুদ্ধ করছে। কেউ যদি আজারবাইজানের বিপক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। ইরান এ যুদ্ধে জাতিভাই আজারিদের সহযোগিতা না করে সহযোগিতা করছে আর্মেনিয়াকে।

আরও পড়ুন- উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায় : পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি

এ থেকে প্রতীয়মান হয়, এখানে ধর্মভিত্তিক যুদ্ধের কোনো উপস্থিতি নেই, আছে মূলত আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। আর্মেনিয়ার সঙ্গে যেহেতু ইরানের ভালো সম্পর্ক সুতরাং ইরান আর্মেনিয়াকে সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইরান এ যুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। যদি এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তার প্রভাব ইরানের উপরেও যাবে, কারণ ইরানে প্রায় ২ কোটি আজারবাইজানি বসবাস করে। এ ২ কোটি আজারি যদি কখনো দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজারবাইজানের সঙ্গে একত্রিত হতে চায় তাহলে ইরানে একটা ফাটল ধরবে। তাই ইরান যুদ্ধ বিরতির জন্য বারবার আহ্বান করছে, যুদ্ধের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটুক এটা ইরান চায় না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বর্তমানে তুরস্কের যে পদচারণা, তা রীতিমতো বিশ্বকে হতবাক করে দিচ্ছে। সিরিয়া, লিবিয়া, আজারবাইজান সব জায়গায় তুরস্কের সশস্ত্র অবস্থান চোখে পড়ার মতো। তুরস্ক মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে হয়তো। মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের প্রশ্নে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে তাতে সবার উপরের সারিতে এরদোয়ান থাকবেন নিঃসন্দেহে। সৌদি আরব, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া এ সব পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে তুরস্ক কতটুকু এগিয়ে যেতে পারে তাই দেখার বিষয়। ঝুঁকি নিয়েই এরদোয়ান এগিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে এরদোয়ানের তুরস্ক সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম

বর্তমানে এরদোয়ানের তুরস্ক সামরিক দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম

ইতিমধ্যে আজারবাইজান ইসু্যতে অবরোধের হুমকিও দেওয়া হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। এ যুদ্ধ পশ্চিমাদের তুরস্কের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বোঝার মতো। সামনে গ্রিস, আর্মেনিয়া, সিরিয়া, পেছনে কলকাঠি নাড়ছে পশ্চিমারা। তাই তুরস্ককে অনেক সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা যদি দেখি যুদ্ধের ময়দানে আর্মেনিয়া বেশ কোণঠাসা হয়ে গেছে। আজারবাইজানের হামলায় এ পর্যন্ত আর্মেনিয়ার প্রায় ৪০০ শতাধিক সৈন্যের মৃতু্যর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া গেছে, বেশকিছু ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম তুর্কি ড্রোনের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। আজারি সেনারা নাগার্নো করাবাখের ২৭টির মতো এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। আজারিদের চেয়ে আর্মেনিয়ানদের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। এ যুদ্ধে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করেছে তুর্কি ড্রোন। শেষ পর্যন্ত আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান করা হয়েছে। আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। যুদ্ধবিহীন এর সমাধান হোক। আজারবাইজান তার নিজের ভূখন্ড ফিরে পাক।

কৃতজ্ঞতা : যায়যায়দিন

The post আর্মেনিয়া আজারবাইজান যুদ্ধ ও তুরস্কের লাভ-ক্ষতির সমীকর appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6/feed/ 0 1365
ইমাম গাজ্জালি: মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কারক https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be/ https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be/#respond Thu, 24 Sep 2020 14:18:20 +0000 https://rongpencil.net/?p=1359 ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক ছিলেন একাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেম আবু হামিদ আল গাজ্জালি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই তিনি ইমাম গাজ্জালি (রহ.) নামে বেশি পরিচিত। সে সময় ইসলামের নামে প্রচলিত থাকা ভয়ঙ্কর মতবাদ ও ভ্রান্ত দর্শন মুসলমানদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ইমাম গাজ্জালি মূলত সেসবের বিরুদ্ধে কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে হুজ্জাতুল ইসলাম বা ...

The post ইমাম গাজ্জালি: মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কারক appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক ছিলেন একাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেম আবু হামিদ আল গাজ্জালি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই তিনি ইমাম গাজ্জালি (রহ.) নামে বেশি পরিচিত। সে সময় ইসলামের নামে প্রচলিত থাকা ভয়ঙ্কর মতবাদ ও ভ্রান্ত দর্শন মুসলমানদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ইমাম গাজ্জালি মূলত সেসবের বিরুদ্ধে কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে হুজ্জাতুল ইসলাম বা ইসলামের সাক্ষ্য উপাধি দেওয়া হয়। গ্রিক দর্শন থেকে শুরু করে শিয়া মতবাদের উত্থান ও জোয়ার- সবকিছুর বিরুদ্ধেই তিনি ছিলেন সোচ্চার।

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম এই শিক্ষাবিদ জন্মগ্রহণ করেন ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে। ইমাম গাজ্জালি -র বাবা মুহাম্মদ আল গাজ্জালি তখনকার সময়ে একজন স্বনামধন্য সুতা ব্যবসায়ী ছিলেন। গাজল অর্থ সুতা, নামকরণের এই সামঞ্জস্যতা তাই তাঁর বংশকে নির্দেশ করে। আবার কারও মতে তিনি হরিণের চক্ষুবিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন। আর গাজাল অর্থ হরিণ। তাই বাবা-মা তাঁকে শৈশবে আদর করে গাজ্জালি বলে ডাকতেন। ১০৯১ সালে ইমাম গাজ্জালি বাগদাদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র নিজামিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেন। তাঁর নিয়মিত লেকচারগুলোতে জনসমাগম ঘটত উল্লেখ করার মতো। অথচ ১০৯৫ সালে নিজের আধ্যাত্মিকতার সংকট অনুভব করে নিজামিয়া থেকে পদত্যাগ করেন। তারপর দামেস্ক, জেরুজালেম এবং হেজাজ সফরে বেরিয়ে পড়েন। এই দীর্ঘ ভ্রমণকালে তিনি আত্মশুদ্ধির প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং প্রচলিত ইসলামী ধ্যান-ধারণার নানান দিকগুলো বিশ্লেষণ করতে থাকেন। অবশেষে ১১০৬ সালে তিনি বাগদাদে ফিরে পুনরায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

আত্মশুদ্ধি ও নিয়তের পরিশুদ্ধির উপায় অনুসন্ধানে তাঁর কর্মকান্ড ও চিন্তাধারা জনগণের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। বাগদাদে অবস্থানকালে তৎকালীন শাসকদের সঙ্গে তাঁর কিছু বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজ শহর তুশে ফিরে যান। এই মহামনীষী ১১১১ সাল মোতাবেক ৫০৫ হিজরি সনে নিজ জন্মভূমি তুশ নগরীতে সুস্থ অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মৃত্যুর দিন ভোর বেলায় তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। পরে তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিজ হাতে কাফনের কাপড় পরিধান করেন। তারপর কেবলার দিকে মুখ করে শুয়ে পড়েন। ইমাম গাজ্জালির মরদেহ ইরানের অমর কবি ফেরদৌসীর সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।

তাঁকে হুজ্জাতুল ইসলাম বা ইসলামের সাক্ষ্য উপাধি দেওয়া হয়

তাঁকে হুজ্জাতুল ইসলাম বা ইসলামের সাক্ষ্য উপাধি দেওয়া হয়

নিজের আত্মজীবনী ‘আল মুনকিজ মিন আল-দালাল’ গ্রন্থে ইমাম গাজ্জালি মানুষের সত্যের পথ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া বর্ণনা করেছেন। সে সময় প্রচলিত নানা আদর্শের মধ্যে অন্যতম ছিল গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের ভাবাদর্শভিত্তিক ন্যায়শাস্ত্র। এমনকি বিখ্যাত মুসলিম মনীষী ইবনে সিনা ও আল ফারাবিও এমন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন। ইমাম গাজ্জালির মতে, এরিস্টটলের দর্শন ও যুক্তির ফলে মানুষ যেসব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, সেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। অনেক দার্শনিকই সৃষ্টির অবিনশ্বরতা, খোদার অস্তিত্বহীনতা কিংবা তাঁর সর্বজ্ঞানী হওয়া অসম্ভব বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে।

এমতাবস্থায় ইমাম গাজ্জালি ও প্রকৃত ইসলামে বিশ্বাসী মুসলমানদের কাছে এসব ধ্যানধারণা ছিল স্পষ্টতই কুফরি। ইমাম গাজ্জালি দেখলেন যে, কোনো আলেমই কার্যকরভাবে দার্শনিকদের যুক্তি খন্ডন করতে পারছিলেন না। কেননা এসব দার্শনিকরা ছিলেন যুক্তি ও বিতর্কে বিশেষজ্ঞ। তারা তাদের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে ও বোধগম্য যুক্তির সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিতর্কিত কিছু উপায় অবলম্বন করছিলেন। ইমাম গাজ্জালি দার্শনিকদের যুক্তি ও পরিভাষা দিয়েই তাদের অবস্থানের অসারতা তুলে ধরেন। দার্শনিকদের যুক্তিকে সেসব আলেমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে তিনি সেসব দর্শনের ফাঁকফোকরগুলো দেখিয়ে দেন। এই কাজ করতে গিয়ে তাঁকে দর্শনশাস্ত্র গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে হয়েছিল। বিভ্রান্তিতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সর্বসাধারণের জন্য দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়নকে তিনি অনাবশ্যক মনে করতেন। তিনি সব সময় তাঁর লেখাগুলোতে প্রচলিত ভ্রান্ত মতবাদের গবেষণার আগে ইসলামের সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: আসমা বিনতে শিহাব: মরু দাপানো এক নারী শাসক 

আরেকটি বিরাট সমস্যা যা ইমাম গাজ্জালিকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল, সেটি হলো ইসমাঈলি শিয়া মতবাদের উপদ্রব। এরিস্টটলের দর্শন, শিয়া মতবাদ ও অন্যান্য মতবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামের নানা দিক বিশ্লেষণ করার পর ইমাম গাজ্জালি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বিশ্বপ্রকৃতিকে বুঝার একমাত্র কার্যকর পন্থা হলো ইসলামের অনুশীলন যা মহানবী (স.) ও তাঁর অনুসারীরা শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) চারশর বেশি বই লিখেছেন। তাঁর বইয়ে বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও সুফিবাদ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন। প্রাচ্যবিদরা ঢালাওভাবে অভিযোগ করেন ইমাম গাজ্জালির দর্শন ও যুক্তি ইসলামের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। মূলত বিশদ গবেষণার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন বিশ্বে বিজ্ঞানচর্চার অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ও আল ফারাবির মতো বিজ্ঞানীদের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করেছিলেন। তাদের যুক্তি খন্ডন করতে গিয়ে গাজ্জালি বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, ‘গণিত এবং অন্যান্য বিজ্ঞানশাস্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা ক্ষতিকর ও পরিত্যাজ্য নয়। তবে শিক্ষার্থীদের উচিত সতর্কতার সঙ্গে জ্ঞান অর্জন করা এবং দর্শন ও অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা যেসব বৈজ্ঞানিক ধারণা দিয়েছেন সেসব অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা।’ অনেকে ভাবতে পারেন, বিজ্ঞানীদের সমস্ত আবিষ্কার ও উদ্ভাবন প্রচলিত ধ্যান-ধারণা বিরোধী। তাঁর ভাষ্য হলো, ‘কেউ যদি ধারণা করে বসে যে, গণিত ও বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করেই ইসলামের পক্ষে থাকা যায় তবে তা হবে মস্ত বড় অপরাধ। কেননা ইসলামী আইন এসব বিষয়কে প্রত্যাখ্যান কিংবা সত্যায়ন করেনি এবং ধর্মীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্তও করেনি। শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানে অবদানের কারণেই বিজ্ঞানীদের দার্শনিক ধ্যান-ধারণাগুলোকেও পুরোপুরি গ্রহণ না করতে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাত্ত্বিক দর্শন থেকে পৃথক করে বৈজ্ঞানিক কর্মকা-কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষা করে যাওয়া। এটি না হলে বিজ্ঞান নিজেই দর্শনের মতো অনুমান ও যুক্তিনির্ভর কিন্তু কোথাও প্রয়োগ হয়নি এমন একটি ক্ষেত্রের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যেত।

তিনি হরিণের চক্ষুবিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন

তিনি হরিণের চক্ষুবিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন

ফার্সিভাষী পরিবারের উত্তরসূরি হয়েও আরবি ভাষাতেও তিনি ছিলেন সাবলীল এবং অন্যান্য মুসলিম মনীষীদের মতো আরবি ভাষাতেই লেখালেখি করেছেন। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান ও ইসলামী আইনে তিনি অল্প বয়সেই ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। শাফেয়ি মাজহাবের প্রখ্যাত আলেম আল জুয়াইনি ছিলেন তাঁর অন্যতম শিক্ষক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি সেলজুক সাম্রাজ্যের অধীনে মুসলিম বিশ্বে আধুনিক শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত কর্মকান্ডের জন্য সুপরিচিত নিজামুল মুলক শাসিত ইস্পাহান প্রদেশের আদালতে যোগদান করেন। জ্ঞানচর্চায় ইমাম গাজ্জালি (রহ.) তীক্ষ মেধা ও অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের কাছে বিশেষ সম্মান পেতেন। সে সময় ছাত্রদের পাঠ্য বিষয়ে শিক্ষকদের দেওয়া ব্যাখ্যা ও বক্তব্য হুবহু লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য করা হতো। লিখিত এই নোটগুলাকে ‘তালিকাত’ বলা হতো। এভাবে ইমাম গাজ্জালি (রহ.) এর কাছে তালিকাতের এক বিরাট ভান্ডার তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক লেখাপড়া করেন তুশ শহরে। শিক্ষক ছিলেন ইমাম রাদাখানি এবং পরে চলে যান জুরান শহরে। সেখানে শিক্ষক ছিলেন হজরত ইমাম আবু নসর ইসমাঈল (রহ.)। তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠতম ধর্মতত্ত্ববিদ আলেম ইমামুল হারামাইন আল জুয়াইনি, আল্লামা আবু হামিদ আসকারায়েনি, আল্লামা আবু মুহাম্মদ যোবায়নি প্রমুখ মহাজ্ঞানী ছিলেন তাঁর শিক্ষক। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সব দার্শনিকদের মতবাদও তিনি অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে পাঠ করে নিজেকে সেসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

মুসলিম বিশ্ব আজীবন ইমাম গাজ্জালি (রহ) এর কাছে ঋণী থাকবে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য। ইতিহাস প্রমাণ দেয়, সেলজুক বংশীয় তুর্কীরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করেন তখন থেকে ইসলামী স্বভাব-চরিত্র ও মূল্যবোধে বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। সেলজুক সুলতানদের যুগে মুসলমানদের বিদ্যার্জন স্পৃহা বেড়ে যায়। মুসলিমরা তখনকার ইহুদি, খ্রিস্টান ও পারসিকদের প্রচলিত জ্ঞানার্জন করার পর প্রাচীন গ্রিক দর্শন, মিসরীয় ও ভারতীয় জ্ঞান সংগ্রহ করেন। এসবের মধ্যে ছিল জ্যোতিষশাস্ত্র, জড়বাদ, নাস্তিকতা ইত্যাদি। তবে এসব মতবাদের প্রসার মুসলমান সমাজে বহু মতানৈক্য সৃষ্টি করে। অত্যধিক পরিমাণে পার্থিব জড়বাদের প্রভাবে ধর্ম জ্ঞানের ওপর বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। অপরদিকে প্রাচীন গ্রিক দর্শনের প্রভাবেও ইসলামে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) এই সমস্যা থেকে সমাজকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন। অতুলনীয় প্রতিভা ও নিপুণতার সঙ্গে তিনি এই বিভ্রান্তিকর পরিবেশ থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। তথাকথিত জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ যাবতীয় ইসলামবিরোধী মতাদর্শ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বুুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান এবং দার্শনিক চিন্তা-ভাবনার প্রয়োগ ঘটান।

কৃতজ্ঞতা : তানিয়া তুষ্টি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন।

The post ইমাম গাজ্জালি: মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কারক appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be/feed/ 0 1359
সিনেমা পোস্টার: সময়ের দৌড়ে রূপ হারিয়েছে যে শিল্প https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8c%e0%a7%9c/ https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8c%e0%a7%9c/#respond Thu, 17 Sep 2020 15:17:17 +0000 https://rongpencil.net/?p=1354 রায়হান রহমান: কথায় আছে- আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী। সিনেদুনিয়ায় এই লোককথার প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি। তাই দীর্ঘকাল পোস্টারের শিল্পশৈলী দেখে সিনেমা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতেন দর্শকরা। সিনেমা সংশ্লিষ্টরাও প্রথম দর্শনে দর্শকের মন পেতে পোস্টারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। এখন আর সে চিত্রটি নেই। সময়ের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে সিনে পোস্টারে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পাল্টে গেছে এর রকম-সকম ...

The post সিনেমা পোস্টার: সময়ের দৌড়ে রূপ হারিয়েছে যে শিল্প appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রায়হান রহমান: কথায় আছে- আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী। সিনেদুনিয়ায় এই লোককথার প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি। তাই দীর্ঘকাল পোস্টারের শিল্পশৈলী দেখে সিনেমা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতেন দর্শকরা। সিনেমা সংশ্লিষ্টরাও প্রথম দর্শনে দর্শকের মন পেতে পোস্টারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। এখন আর সে চিত্রটি নেই। সময়ের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে সিনে পোস্টারে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পাল্টে গেছে এর রকম-সকম ও আকার আয়তন।

একটা সময় দর্শক আকর্ষণে বিচিত্র সব কম্পোজিশনে আঁকা হতো সিনেমার ব্যানার। সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য পোস্টারে প্রাধান্য দেওয়া হতো গোলাপি, হলুদ, উজ্জ্বল নীল ও উজ্জ্বল সবুজ রং। প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের সামনেই সেগুলো ঝুলিয়ে রাখা হতো। এতে শিল্পী তার শৈল্পিক জাদুতে ফুটিয়ে তুলতেন সিনেমার পুরো আবহ। নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের ফটো ইমেজ দেখেই আঁকতেন তারা। বেশির ভাগ ছবির পোস্টারে দেখা যেত, হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভিলেন। তার ঠিক সামনেই রিভলবারের ট্রিগার চেপে ধরে আছেন তেজি নায়ক। নায়কের দুই পাশে রয়েছেন দুই নায়িকা। একজন লাস্যময়ী ভঙ্গিমায়, অন্যজন কুড়াল হাতে রণমূর্তি হয়ে। বিশেষ করে কাইয়ুম চৌধুরীর ‘মিলন’ ও ‘ইন্ধন’, আবদুল সবরের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী, নিতুন কুন্ডুর ‘তানহা’ এবং সুভাষ দত্তের আঁকা বাংলাদেশের প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নান্দনিক পোস্টার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উচ্চকিত রঙের সঙ্গে অনবদ্য লেটারিং আর জোরালো রেখার টানে এসব সিনে ব্যানার পেইন্টিং এখন আর নেই। ডিজিটাল ব্যানারের বদৌলতে হারিয়ে গেছে হাতে আঁকা সিনেমার পোস্টার। স্বাধীনতার পর থেকেই ব্যাপকভাবে সিনেমার পোস্টার ছাপা হতে থাকে। যদিও সে সময় পোস্টারগুলো ছাপা হতো এক রঙের। পরে সত্তরের দশকের শেষার্ধে প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ছাপারও উন্নয়ন ঘটে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। সত্তরের দশকের শেষ দিকে রঙিন পোস্টার ছাপা হতে থাকে। সিনেমার পোস্টারে আমূল পরিবর্তন ঘটে ২০০৬ সালে। আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে দেশে প্রথম ডিজিটাল প্রিন্টের আবির্ভাব ঘটে। ব্যস, সেই থেকেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায়। এরপরও দু’একটি পোস্টার হাতে আঁকা হলেও ২০১০ সালের পর দেশীয় কোনো সিনেমার পোস্টার আর আঁকা হয়নি।

কথায় আছে- আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী

কথায় আছে- আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী

সস্তামূল্যে অধিক পোস্টার পাওয়ার সুযোগ ও চলচ্চিত্রের বাজেট ঘাটতি থাকায় প্রযোজকরাও ডিজিটালে ঝুঁকেছেন। তা ছাড়া দ্রম্নত সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার পোস্টার পাওয়া যায় বলে অনেকেই এটিকে প্রাধান্য দেন। অতি সাম্প্রতিক সময়ে মোশন পোস্টার বা অ্যানিমেশন করা সিনেমার পোস্টার অবমুক্ত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার পাশাপাশি পোস্টারেও আধুনিকতার ছোয়া আসবে, এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ নির্মাতারা। তাদের মতে, এখন অনলাইনের যুগ। দর্শকরা হতে আঁকা পোস্টারের চেয়ে মোশন পোস্টার বা ডিজিটাল পোস্টার দেখতে বেশি পছন্দ করেন। আর দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তাদের কাজ করতে হয়।

এদিকে সিনেমার পোস্টারের অবয়বেও এসেছে পরিবর্তন। আগে প্রতিটি পোস্টারে একাধিক চরিত্র উপস্থাপন করা হতো। এখন বেশির ভাগ সময়ই নায়ক ও নায়িকার ছবি দিয়ে পোস্টার করা হয়। কখনো কখনো শুধু নায়কের ছবি দিয়েও প্রকাশ তৈরি করতে দেখা গেছে। বিগত তিন বছরে এর মাত্রা আরও বেড়েছে।

অথচ বাইরের দেশে এখনো হাতে আঁকা সিনেমার পোস্টারের কদর রয়েছে। ক’বছর আগেও ফ্রান্সের পস্নাই দ্য টোকিও মিউজিয়াম আয়োজিত সিটি প্রিন্সেস শীর্ষক প্রদর্শনীতে সমাদৃত হয় বাংলাদেশের মোহাম্মদ শোয়েবের আঁকা একটি ব্যানার পেইন্টিং। ১৮ ফুট বাই ১০ ফুটের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের বিশাল পেইন্টিংটি ছিল ওই প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। আরেক বাংলাদেশি ব্যানার শিল্পী শীতেশ সুরের কাজ প্রশংসিত হয়েছে জাপান ও লন্ডনে। অধুনালুপ্ত ঢাকা আর্ট সেন্টারে ব্যানার পেইন্টার বাহরামের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

কৃতজ্ঞতা: যায়যায়দিন

The post সিনেমা পোস্টার: সময়ের দৌড়ে রূপ হারিয়েছে যে শিল্প appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8c%e0%a7%9c/feed/ 0 1354
বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা : ক্রীতদাস সংগ্রহই ছিল যার প্রধান উদ্দেশ্য https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a6%a6%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a6%a6%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95/#respond Sat, 12 Sep 2020 15:46:03 +0000 https://rongpencil.net/?p=1343 এক শতাব্দীরও বেশি সময় বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সবচেয়ে আতংকের নাম। কারণ জলদুস্যরা আক্রমণ করে লুটরাজ ও ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে ক্রীতদাস বানিয়ে প্রেরণ করতো নিজ দেশে। পর্তুগিজ আর ম্রাউক-ইউ রাজ্যের মগ জাতিগোষ্ঠী দ্বারাই বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা বেশি ঘটতো। জলদস্যুরা যুদ্ধজাহাজ আর দ্রতগতির নৌকা নিয়ে উপকূলীয় শহর ও গ্রামে এবং গঙ্গাবিধৌত এ ...

The post বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা : ক্রীতদাস সংগ্রহই ছিল যার প্রধান উদ্দেশ্য appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
এক শতাব্দীরও বেশি সময় বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সবচেয়ে আতংকের নাম। কারণ জলদুস্যরা আক্রমণ করে লুটরাজ ও ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে ক্রীতদাস বানিয়ে প্রেরণ করতো নিজ দেশে। পর্তুগিজ আর ম্রাউক-ইউ রাজ্যের মগ জাতিগোষ্ঠী দ্বারাই বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা বেশি ঘটতো। জলদস্যুরা যুদ্ধজাহাজ আর দ্রতগতির নৌকা নিয়ে উপকূলীয় শহর ও গ্রামে এবং গঙ্গাবিধৌত এ বদ্বীপের অনেক শহরে অতর্কিতে হামলা করত।

ম্রাউক-ইউ রাজ্যটি বর্তমানে রাখাইনের উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে বৌদ্ধ ও মুসলিম উভয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করত এবং রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও বিপজ্জনক অবস্থানের কারণে রাজ্যটি ছিল কিছুটা ভৌতিক ও রণলিপ্সু। অবশেষে দক্ষ মোগল সরকার বিশেষ কৌশল আর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এ হুমকি দমন করে।

ক্রীতদাস সংগ্রহের উদ্দেশে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা র পেছনে অবশ্য সুনির্দিষ্ট কারণও ছিল। শাসকরা বুঝতে পারছিল, অর্থনীতিকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে স্থানীয় আদিবাসী ক্রীতদাসের চেয়ে বিদেশী ক্রীতদাসই বেশি প্রয়োজন। এছাড়া নতুন অধিকৃত অনগ্রসর অঞ্চলের জন্য অর্ধ কিংবা পুরোপুরি দক্ষ ক্রীতদাসের প্রয়োজন। ক্রমবর্ধিষ্ণু ডাচ সাম্রাজ্যে মসলার আবাদ কিংবা খনির কাজে প্রচুর ক্রীতদাসের প্রয়োজন দেখা দেয়। সুমাত্রার আচেহ সালতানাতেও আবাদ কিংবা টিনের খনির জন্য অনেক দাসের প্রয়োজন ছিল। এ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ট অগ্রসরমান নাগরিক ছিল বাংলায়। এছাড়া কারুশিল্প ও কাপড় তৈরির কাজেও ভারতীয় দাসদের দক্ষতার অনেক বেশি মূল্য ছিল। এ কারণেই তাদের অনেককে সুদূর আফ্রিকার উপনিবেশ অঞ্চলেও প্রেরণ করা হতো।

ক্রীতদাস সংগ্রহের উদ্দেশে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা র পেছনে অবশ্য সুনির্দিষ্ট কারণও ছিল

ক্রীতদাস সংগ্রহের উদ্দেশে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা র পেছনে অবশ্য সুনির্দিষ্ট কারণও ছিল

এ অঞ্চলে পর্তুগিজদের বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা বা অভিযান পরিচালনার স্পর্শকাতর কেন্দ্র ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় নতুন উপনিবেশকে সাহায্য করতে দাস সংগ্রহের এ অভিযান তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে হুগলি থেকে সম্রাট শাহজাহান তাদের বহিষ্কার করার পর এটি আরো প্রকট হয়। এমনকি তাদের অবস্থা যখন তুঙ্গে তখনো অনেক সাহসী পর্তুগিজ নাগরিক জলদস্যুতা আর দাস ব্যবসায় প্রবেশ করে। কিন্তু এক শতকের মধ্যেই ডাচদের কাছে পর্তুগিজদের কর্তৃত্ব খর্ব হয়ে যায়। তখন পর্তুগিজরা রাখাইন রাজ্যের কাছে সাহায্যের মিনতি করে। যদিও অতীতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে দুই পক্ষ। মোগল সাম্রাজ্য আর বার্মিজ রাজ্যের মধ্যে ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে পড়া মগ জাতি বুঝতে পারল, আক্রমণই হতে পারে সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা। তাদের এ কৌশলে পর্তুগিজ নৌবাহিনী হতে পারে বিশেষ গুরুত্ববহ এক হাতিয়ার। এছাড়া অভিযান কিংবা দাস ব্যবসাটা হতে পারত আয়ের দারুণ এক উৎসও। এ অভিযানের শুরু হয় ১৬১০ সালের দিকে পর্তুগিজ ও মগদের নিয়ে গঠিত রণতরীর বিশাল বহর বাংলায় আক্রমণ চালাত। তাদের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল ভয়ানক এবং এ কারণেই হার্মাদ (আরমাডা থেকে আসা) শব্দটি অভিধানে যুক্ত হয়, যার অর্থ ঘৃণ্য অপরাধ। মগরা ছিল দক্ষ নাবিক এবং দ্রুতগতির রণতরী জেলিয়াস নিয়ে বদ্বীপে হামলা করত। আতঙ্কে বহু শহর ও গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ত কিংবা অভিযানে খালি হয়ে যেত। মোগলদের প্রথমদিকের প্রতিরোধ ছিল কার্যত ব্যর্থ ছিল। কারণ তুলনামূলকভাবে তাদের নৌবাহিনী ছিল দুর্বল ও রাখাইন ছিল এমন লুণ্ঠনকারী অভিযানের জন্য কার্যকর এক ভূখণ্ড।

১৬৬৩ সালে সংকটে পড়ে যায় বাংলা। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক যুদ্ধগুলো সমগ্র মোগল সাম্রাজ্যের কাজেও বিঘ্ন ঘটায়। পর্তুগিজ ও মগদের আক্রমণে এ প্রদেশের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। ‘আহোম’-দের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যয় ঘটার পর মারা যান আগের প্রাদেশিক গভর্নর মীর জুমলা। নতুন গভর্নর শায়েস্তা খান ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা। শায়েস্তা খানের রেকর্ড বেশ প্রশংসনীয় হলেও মারাঠার অধিপতি ছত্রপতী শিবাজির কাছে আশ্চর্যজনভাবে পরাজিত হলে তাকে ‘নির্বাসন’ হিসেবে বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন ক্ষুব্ধ সম্রাট।

শায়েস্তা খান দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই জলদস্যুদের হুমকি মোকাবেলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এখানে প্রতিশোধস্পৃহার একটা বিষয়ও ছিল। যুদ্ধে ভাই আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হওয়ার পর যুবরাজ সুজা সপরিবারে রাখাইন রাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছিলেন। বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাখাইন রাজা বিশ্বাসঘাতকতা করে সুজা ও তার সন্তানদের হত্যা করে এবং সুজার মেয়েকে বলাত্কার করে, যে পরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এই রক্তের বদলা নিতে ও সুজার পরিবারের কেউ জীবিত আছে কিনা তা খুঁজে বের করার মিশনে নামেন শায়েস্তা খান।

পর্তুগিজ নাগরিকরা জলদস্যুতা আর দাস ব্যবসায় প্রবেশ করে

পর্তুগিজ নাগরিকরা জলদস্যুতা আর দাস ব্যবসায় প্রবেশ করে

শায়েস্তা খান দ্রুতই রাজকীয় অবকাঠামো উন্নত করতে থাকেন: দুর্গ ও অন্যান্য সরকারি নির্মাণকাজ জোরেশোরে চলছিল। নৌ ও সেনাবাহিনীতে সৈন্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৬৬৫ সালে ডাচ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আরাকানদের কাছ থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ সন্দ্বীপ দখল করে মোগলরা। চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা শায়েস্তা খানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এ সময় তিনি রাখাইনদের সঙ্গে পর্তুগিজদের দ্বন্দ্বের সুযোগটি নেন। অপেক্ষাকৃত স্থিরীকৃত ও ব্যবসাবান্ধব মোগলদের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রস্তাবে রাজি হয় পর্তুগিজরা। এজন্য বড় অংকের ঘুষও দিতে হয়েছিল তাদের। পর্তুগিজ বাহিনী সদলবলে ঢাকায় জড়ো হয়। রাখাইন সৈন্যবাহিনীও চট্টগ্রামে জড়ো হতে থাকে। শায়েস্তা খান সড়কপথে সৈন্যদের একটি দল পাঠান আর নৌপথে চট্টগ্রামের পথে ছুটে আসে মোগল-পর্তুগিজ সম্মিলিত বাহিনী। সাগরে এবং পরবর্তী সময়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়, যাতে রাখাইন বাহিনী ধ্বংস হয়।

শায়েস্তা খানের এ বিজয়ের পরও বঙ্গোপসাগরের জলদস্যুতা নির্মূল হয়নি, এমনকি আজকের একুশ শতকের এ সময়ে এসেও রোহিঙ্গা নৌকা কিংবা বাংলাদেশী জেলেদের নৌকায় হানা দেয় জলদস্যুরা। অধিকন্তু চট্টগ্রাম হারানো আর মোগলদের প্রতি পর্তুগিজদের সহযোগিতা রাখাইন রাজ্যের জন্য ছিল বিরাট আঘাত। মগরা আসলে জানত না কীভাবে বড় যুদ্ধজাহাজ তৈরি ও পরিচালনা করতে হয়, তাই যুদ্ধে তারা ধরাশায়ী হয়। এরপর শায়েস্তা খান শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। তাই অতীতের মতো আর লুটচরাজ চালাতে পারত না রাখাইনরা। লেজহীন সাম্রাজ্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে লাগল আর অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হওয়ায় ১৭৮৪ সালে বার্মা কর্তৃক অধিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত এর কর্তৃত্ব ছিল ভাড়াটে সৈনিকদের হাতে। এদিকে শায়েস্তা খানের দীর্ঘ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলায় বেশ উন্নতি সাধিত হয়।

মূল: অনন্ত কার্তিকেয়ান। অনুবাদ: গাজী রাকিব
কৃতজ্ঞতা : সিল্করুট

The post বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা : ক্রীতদাস সংগ্রহই ছিল যার প্রধান উদ্দেশ্য appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a6%a6%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95/feed/ 0 1343
আসমা বিনতে শিহাব: মরু দাপানো এক নারী শাসক https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be/ https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be/#respond Wed, 09 Sep 2020 15:16:24 +0000 https://rongpencil.net/?p=1339 এম এ মোমেন : ইউরোপ নারী স্বাধীনতা, অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যত অহংকারই করুক মধ্যপ্রাচ্যের মরুর রানী আসমা বিনতে শিহাব ইউরোপের অষ্টসহস্র বছর আগে যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন তা তখন তাদের নারীরা কল্পনাও করতে পারেনি। ইয়েমেনের আসমা বিনতে শিহাব আল-সালেহি ১০৪৭-৮৭ সাল পর্যন্ত রাজার স্ত্রী রানী হিসেবে নয় বরং ক্ষমতা প্রয়োগের রানী হিসেবে রাজত্ব ...

The post আসমা বিনতে শিহাব: মরু দাপানো এক নারী শাসক appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
এম এ মোমেন : ইউরোপ নারী স্বাধীনতা, অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যত অহংকারই করুক মধ্যপ্রাচ্যের মরুর রানী আসমা বিনতে শিহাব ইউরোপের অষ্টসহস্র বছর আগে যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন তা তখন তাদের নারীরা কল্পনাও করতে পারেনি। ইয়েমেনের আসমা বিনতে শিহাব আল-সালেহি ১০৪৭-৮৭ সাল পর্যন্ত রাজার স্ত্রী রানী হিসেবে নয় বরং ক্ষমতা প্রয়োগের রানী হিসেবে রাজত্ব করেছেন। আর ক্যাস্তিলের রানী ইসাবেলার রাজত্বকাল ১৪৭৪ থেকে ১৫০৫। ক্যাস্তিলে বর্তমান স্পেনের অংশ। সে হিসেবে স্পেনের রানী প্রথম ইসাবেলা।

আসমাকে বুঝতে হলে তার সময় ও পরিবেশ কিছুটা জানা প্রয়োজন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম। তার জন্মকালে আরবের যে বর্ণনা আমাদের সবার মনে গাঁথা আছে তা হচ্ছে: আরব দেশ বালির দেশ, প্রচণ্ড গরমের দেশ, হানাহানি ও খুনোখুনির দেশ—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি হচ্ছে যে সময় কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে জীবন্ত কবর দেয়া হতো, বঞ্চনার শীর্ষে ছিল নারী। যখন ইসলাম প্রচার ও ইসলাম ধর্মগ্রহণ শুরু হয়ে যায়, কন্যাশিশু জীবন্ত কবরদান মহাপাপ হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে হলেও রাতারাতি নারীর মর্যাদার পরিবর্তন ঘটে।

৬৩০ সালের দিকে মহানবী তার চাচা আবু তালিবের পুত্র ও নিজ কন্যা ফাতিমার স্বামী হযরত আলীকে ইয়েমেনে বিরাজমান গোত্রদ্বন্দ্ব নিরসন করতে পাঠান। সে সময় আরব অঞ্চলের সবচেয়ে উন্নত ও অগ্রগামী এলাকা ছিল ইয়েমেন। সমষ্টিগতভাবে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা গোত্রই ইয়েমেনের বানু হামদান। ইয়েমেনি মুসলমানরাই মিসর, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি ও আন্দালুসিয়ায় ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করে। খোলাফায়ে রাশেদিন যুগে ইয়েমেন বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এরপর আন্তঃগোত্রীয় ক্ষমতার লড়াই বরাবরই ছিল। আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল সালেহি নামের উচ্চাভিলাষী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তরুণের হাতেই ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত হলো সালেহি সুলতানাত। তার বাবা ছিলেন শাফিই মাজহাবভুক্ত বিশিষ্ট সুন্নি কাজি। কিন্তু আলী বিন মুহাম্মদ শিয়া সম্প্রদায়ের ইসমাইলিয়া গোত্রভুক্ত হন এবং নতুন করে দীক্ষা নেন। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের উত্থান ও বিকাশে সুলতান আলী বিন মুহাম্মদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তবে ক্ষমতা দখলের জন্য তার হাতও রক্তাক্ত করতে হয়েছে।

সে আমলে ইয়েমেন তুলকমূলকভাবে যথেষ্ট উন্নত হলেও সেখানে দ্বিতীয় সহস্রাব্দে একেবারে সূচনায় কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল না। স্থানীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরগনার রাজাদের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে সাম্রাজ্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা লেগেই থাকত। একদল ক্ষমতাসীন হলে আরো তিন দল তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠত।

সম্ভ্রান্ত বংশজাত আলী ইবনে মুহাম্মদ আল সালেহিকেও সালেহি রাজবংশ প্রতিষ্ঠায় একই কাজ করতে হয়েছে। ১০৬০ সালে আলী বিন মুহাম্মদ জাবিদ বিজয় করে নাজাহ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আল নাজাহকে হত্যা করেন, পালিয়ে যাওয়ায় তার ছেলেরা প্রাণে বেঁচে যায়। আলী বিন মুহাম্মদের সামরিক দক্ষতায় বৃহত্তর ইয়েমেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আলী তার চাচাতো বোন আসমা বিনতে শিহাবকে বিয়ে করেন এবং তাকে সহশাসক ঘোষণা করেন। আসমার উপাধি হয় ‘আল-সাইয়েদা আল হুররাতুল’। অর্থাৎ মহীয়সী নারী, যিনি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম যাকে কোনো ঊর্ধ্বতন শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে মাথা নত করতে হয় না। পুত্ররাজতান্ত্রিক নারীবিদ্বেষী সমাজে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে সার্বভৌম হিসেবে মসজিদের খুতবায়ও আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম উচ্চারিত হতে থাকে। সারা মুসলিম বিশ্বে আসমা বিনতে শিহাবের আগে কখনো কোনো নারীর নাম খুতবায় উচ্চারিত হয়নি। তিনি রাজকার্য পরিচালনা করতেন এবং ঘোমটা উঠিয়ে সভাসদদের সঙ্গে বৈঠক করতেন বলে ঐতিহাসিকরা বর্ণনা করেছেন।

১০৪৭ সালে বাদশাহ হয়ে আলীই তাকে রাজনৈতিক অংশীদার ঘোষণা করেন। তিনি স্বামী, পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে সহশাসক হয়ে দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনা করেন, প্রজামহলে ব্রতী হন, প্রতিবেশী, রাজন্যদের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শাসনের যে ধরন তাতে আলী বিন মুহাম্মদ ও তার স্ত্রীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের পুরো শাসনকার্য পরিচালিত হয়েছে যৌথ শাসনে। ছেলে আল-মুকাররাম ও বউমা আরওয়ার সঙ্গেও একইভাবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেছেন। বন্দিদশার প্রায় এক বছর বাদে ১০৪৭-৮৭ পর্যন্ত ইসলামের কেন্দ্রভূমি আরবের তিনিই ছিলেন সবচেয়ে দীর্ঘকালীন শাসক।

তার সৌন্দর্যের খ্যাতি ছিল, তিনি শিল্পমনা ছিলেন, তিনি কবিতা লিখতেন। এ রচনাটিতে ১০৪৭-এ ক্ষমতারোহণ থেকে ১০৮৭-তে তার মৃত্যুবরণ পর্যন্ত বৃহত্তর ইয়েমেনের যে কাহিনী বিবৃত হচ্ছে মূলত তা হবে আসমার শাসনকালের কথা। তিনি ও তার পুত্রবধূ দুজনই মালিকা হাজিমা বা সহশাসক। আরবের এক কবি আসমার প্রশংসায় লিখেছেন—

আমি বলি মানুষ যখন বিলকিসের সিংহাসনের গৌরবগাথা

রচনা করে, আসমা তো সেই সিংহাসনও ম্লান করে দেয়,

তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সে-ই।

এ কবিতার বিলকিস মানে কুইন অব শেবা বাদশাহ সোলায়মানের পত্নী। আধুনিক ইয়েমেনি ইতিহাসিক মুহাম্মদ আল-তাওয়ার লিখেছেন: আসমার সময়ে তার সমকক্ষ এবং তার মতো ক্ষমতাশালী কেউ ছিলেন না। তিনি সবার বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলেন। তার পরামর্শ নিয়েই ৪০ বছর ইয়েমেন শাসিত হয়েছে।

খ্রিস্টীয় ১০৬৬ সালে আলী বিন মুহাম্মদ স্ত্রী আসমা বিনতে শিহাবকে নিয়ে হজব্রত পালনের জন্য রাজকীয় কাফেলায় ইয়েমেন থেকে মক্কার পথে রওনা হলেন। ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও রাজকীয় উৎসব দুই-ই ছিল কাফেলায়। উমমাবাদে পৌঁছাতে অপরাহ্ন গড়িয়ে যায়। সেখানেই রাতযাপনের জন্য তাঁবু খাটাতে হয়। আসমা ব্যস্ত ছিলেন নারী সখীদের সঙ্গে আর আলী বিন মুহাম্মদ তাঁবুতে তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সুলতান মনে করতেন তার আমির-ওমরাহদের কেউ তার অনুপস্থিতকালে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে, সেজন্য তিনি তার পুত্র আহমাদ-আল-মুকাররামকে সায়িকভাবে তার রাজত্বের ভার দিয়ে তার পরিষদের সবাইকেই হজ কাফেলায় শরিক হতে বাধ্য করেছিলেন। এ কাফেলায় প্রতিরক্ষার জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন পাঁচ হাজার আরিমিনিয়া (এখনকার ইথিওপিয়া) সৈন্য। ইবনে খালদুন মনে করেন, দলবলসহ এ হজের ভিন্ন একটি উদ্দেশ্যও ছিল, সেটিই মুখ্য উদ্দেশ্য—মক্কা শরিফে শিয়াবাদ পুনরুদ্ধার ও কায়েম করা। কারণ সেখানকার শাসক বানু হাসিম গোত্রের মুহাম্মদ ইবনে জাফর ফাতেমিয় খেলাফত-ইসমাইলিয়া অনুশাসন মানতে নারাজ। এটা সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের তুল্য। তিন বছর আগে ১০৬৩ সালের শেষ দিকে আলী বিন মুহাম্মদ সসৈন্যে হেজাজ গমন করেন এবং আব্বাসীয়দের চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করে ১০৬৪ সালে মক্কা বিজয় করেন। এ মক্কা বিজয় শিয়া ভাবাদর্শের প্রচারে এর ফাতেমীয় খলিফাদের নাম খুতবায় পাঠ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বিলাসবহুল কাফেলায় সুলতান ও তার সহশাসক আসমা বিনতে শিহাবের ইয়েমেন ত্যাগের বার্তাটি বহুল প্রচারিত হয়। আলী বিন মুহাম্মদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত নাজাহর পুত্র সাইদ আল-আওয়াল এ কাফেলার রুট সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতির নেন।

ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন লিখেছন, জাবিদের শাসক ও আলী বিন মুহাম্মদের সম্বন্ধি আসাদ বিন শিহাব তার বোনের স্বামীকে সঙ্গোপন বার্তা দিয়েছেন যে নিহত শাসক নাজাহর দুই পুত্র আল-আওয়াল ও জায়াজ ইবনে নাজাজ তাদের গোপনি আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং সুলতানের কাফেলা আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। বার্তা পেয়ে তিনি তার ইথিওপিয়া সৈন্যদের কাফেলা প্রতিরক্ষা ও মুখোমুখি হলে নাজাহর দুই পুত্রকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।

ঐতিহাসিক ইবনে খলিকান লিখেছেন, হেজাজের একটি খামারের সামনে তাঁবু গেড়ে কাফেলার সাম্যকরা যখন অবস্থান করেছিলেন সৈন্যদের প্রহরার ভেতর দিয়েই আল-আওয়াল এবং হাতেগোনা তার ক’জন দক্ষ অনুসারী লুকিয়ে তাবুতে প্রবেশ করল। সুলতানের প্রহরীরা তাদের স্বপক্ষীয় সৈন্য মনে করে বাধা দেয়নি। কিন্তু সুলতানের ভাই আব্দুল্লাহ চেঁচিয়ে উঠলেন, গতকাল আসাদ ইবনে শিহাব তাদের কথাই বলেছেন, তারা এসে গেছে। সন্ত্রস্ত আলী বিন মুহাম্মদ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তার অবস্থান থেকে এক পাও সরতে পারলেন না, আল-আওয়াল তাকে হত্যা করল।

ইবনে খালদুন মনে করেন, ইথিওপিয়া সৈন্যরা সাবেক সুলতানের পুত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অস্বীকার করে এবং অনেকে নিজের অবস্থান থেকে পালিয়ে যায়। অবরোধকারীরা সুলতান তার ভাই আব্দুল্লাহ এবং আরো ১৭০ জন পুরুষকে হত্যা করে বিশিষ্টজনদের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

আসমা বিনতে শিহাবকে বন্দি করে। তাকে যে কক্ষে রাখা হয় তার জানালা দিয়ে বাইরে দৃষ্টি গেলে দেখা যায় সুলতানের দেহবিচ্ছিন্ন মাথা একটি লম্বা লাঠিতে গেঁথে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ব্যক্তির মাথাও এভাবে গেঁথে রাখা হয়েছে। ইবনে খালদুন মনে করেন, জায়াজ ইবনে নাজাজ সুলতানকে হত্যা করেছিল। এ হত্যাকাণ্ড ইয়েমেনবাসীকে ক্ষব্ধ করে। প্রজাদরদি হিসেবে আলী বিন মুহাম্মদ ও আসমা বিনতে শিহাব নাগরিকদের কাছে প্রিয় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর নারী ও অন্যান্য জীবিত সদস্যদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। নিহত সুলতানের ইথিওপীয় বাহিনীকে আল-আওয়াল সেনাদলে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের জাবিদ শহরে মার্চ করিয়ে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন- হায়া সোফিয়া : তুরস্কের গোয়ার্তুমি নাকি ইসলামের বিজয়

সুলতানের পুত্র আল-মুকাররাম হতভম্ব হয়ে যান। কারাগার থেকে গোপনে পাঠানো মায়ের একটি চিঠি পান। এ চিঠি তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনে। চিঠিতে আসমা কাপুরুষতার কারণে ছেলেকে ধিক্কার দেন। শক্তিশালী হয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাকে এবং গোটা আরব জাতিকে উদ্ধার করার নির্দেশ দেন। নতুবা সবাইকে কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে।

ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ মনে করেন, কারারুদ্ধ আসমাকে আল-আওয়াল ধর্ষণ করেন এবং তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সেজন্যই তিনি ছেলেকে লেখেন আমার নামে কলঙ্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে আমাকে উদ্ধার করো। অবশ্য আসমা বিনতে শিহাবের গর্ভবতী হয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক আছে; কারো মতে তিনি নির্যাতিত হয়েছিলেন কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার মতো ব্যাপার ঘটেনি।

আল-মুকাররামের পেছনে তিন হাজার অশ্বারোহী সৈন্য প্রস্তুত হয়ে জাবিদ শহরের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। নগর রক্ষায় নিয়োজিত ২০ হাজার সেনা দিশেহারা হয়ে পড়লে আর প্রতিরোধ গড়ে তোলতে পারেনি। আল-মুকাররাম মা যেখানে বন্দি সে প্রকোষ্ঠের সামনে যুদ্ধের শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় জিন্দানখানায় প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।

নিরুদ্বেগ কণ্ঠে আসমা বিনতে শিহাব জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি?

আল-মুকাররাম জবাব দিলেন, আমি আহমেদ, আলীর পুত্র।

সন্দিহান রানী বললেন, আরবদের মধ্যে অনেক আলী ও আলীর পুত্র আহমেদ আছে।

ঠিক তখনই আল-মুকাররাম শিরস্ত্রান খুলে মাকে তার চেহারা দেখালেন, তিনি রজকীয় প্রথা অনুযায়ী স্বাগত প্রভু আল-মুকাররাম বলে তাকে আমন্ত্রণ জানালেন।

সে আমলে ইয়েমেন তুলকমূলকভাবে যথেষ্ট উন্নত ছিল

সে আমলে ইয়েমেন তুলকমূলকভাবে যথেষ্ট উন্নত ছিল

একসময় তার শরীরে এমন ঝাঁকুনি অনুভব করলেন যে কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের একাংশ স্থায়ীভাবে অসার হয়ে গেল। আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় তাকে জিন্দানখানা থেকে তোলা হলো। বাকী জীবনে তিনি আর সেরে ওঠেননি। অশ্বারোহী সৈন্যরা রানী আসমা বিনতে শিহাব ও তাদের সুলতান আল-মুকাররামকে নিয়ে রাজধানী সানায় রওনা হলো।

শয্যাশায়ী পুত্রের পাশে থেকে তিনি রাজন্য পরিচালনা করতে থাকলেন। একসময় আল-মুকাররাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রী আরওয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন। আসমা বিনতে শিহাব তার পাশেও দাঁড়ালেন এবং কিছুটা আড়ালে থেকে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার জটিল বিষয়গুলো সামাল দিতে থাকলেন।

আল-মুকাররাম যখন রানীকে উদ্ধার করার যুদ্ধে বিজয়ী হন, পিতার ঘাতক ও মায়ের সম্ভ্রমহানির খলনায়ক সায়িদ তখন সমুদ্রপথে পালিয়ে যায়। কিন্তু প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে তার পুত্রবধূ নতুন রানী আরওয়ার মনে। কৌশলগত কারণে নতুন রানী রাজধানীর সানা থেকে জাবালায় স্থানান্তর করেন—জাবালা একটি ছোট সুরক্ষিত দুর্গনগরী। তিনি সায়িদ ইবনে নাজাহর চারদিকের রাজন্যদের সঙ্গে গোপন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অন্যদিকে সায়িদকে জাবালা আক্রমণে প্ররোচিত করেন। তার আক্রমণাত্মক আচরণ প্রতিবেশী রাজারা পছন্দ করছিল না। তবে তারা আরওয়ার সঙ্গে আঁতাতের বিষয় গোপন রাখল। সায়িদ নিশ্চিত হলে সমরশক্তিতে আরওয়া তার সমকক্ষ নয়, এমনকি তাকে সমর্থন করার মতো কোনো প্রতিবেশীও নেই।

সায়িদ জাবালা আক্রমণ করল, ইয়েমেন বাহিনীর হাতে পরাস্ত হলো এবং তাকে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে এনে সায়িদের মাথা গলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে লাঠির শীর্ষে গেঁথে তার কারাগারে জানালার সামনে লাঠিতে এমনভাবে পোঁতা হলো যেন এই নারী তার প্রতাপশালী স্বামীর দেহহীন মুণ্ডটি পুরোপুরি দেখতে পায়।

এ নির্মমতার জন্য তিনি সমালেচিতও হন। কিন্তু সেকালের আইনই ছিল চোখের বদলে চোখ। ইয়ামিন আল খাতিব তার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন: রাষ্ট্র ও যুদ্ধ কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, আরওয়ার চেয়ে ভালো কারো জানা নেই।

তবে ঐতিহাসিকরা কখনো দ্বিমত হননি যে স্বামীর সঙ্গে সহশাসক হিসেবে, ছেলের সাথে এবং বৌমার সঙ্গে সহশাসক হিসেবে আসমা বিনতে শিহাবই ছিলেন শাসনকার্যের প্রধান হুকুমদাতা। সে কালে দুনিয়ার আর কেনো নারী এত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনি।

এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা

The post আসমা বিনতে শিহাব: মরু দাপানো এক নারী শাসক appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be/feed/ 0 1339
শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে? https://rongpencil.net/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%aa/ https://rongpencil.net/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%aa/#respond Wed, 26 Aug 2020 17:11:37 +0000 https://rongpencil.net/?p=1333 মনোয়ারুল হক (রাজনৈতিক বিশ্লেষক): শিল্পবিপ্লব পৃথিবীর মানুষের যতখানি বিকাশ ঘটিয়েছে তার থেকে আজ অনেক বেশি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পৃথিবীতে পুঁজিবাদের বিকাশ ও তার রূপ গত ৫০ বছর যে সর্বগ্রাসী চেহারা ধারণ করেছে তা পুঁজিবাদ বিকাশের প্রথম শতাব্দীতে ছিল না। কার্ল মার্কস, লেলিন, মাওসেতুং যে পুঁজিবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তা আজকের এই ধ্বংসাত্মক পুঁজিবাদ নয়। ...

The post শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
মনোয়ারুল হক (রাজনৈতিক বিশ্লেষক): শিল্পবিপ্লব পৃথিবীর মানুষের যতখানি বিকাশ ঘটিয়েছে তার থেকে আজ অনেক বেশি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পৃথিবীতে পুঁজিবাদের বিকাশ ও তার রূপ গত ৫০ বছর যে সর্বগ্রাসী চেহারা ধারণ করেছে তা পুঁজিবাদ বিকাশের প্রথম শতাব্দীতে ছিল না। কার্ল মার্কস, লেলিন, মাওসেতুং যে পুঁজিবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তা আজকের এই ধ্বংসাত্মক পুঁজিবাদ নয়। তাঁরা যে পুঁজিবাদকে সাম্রাজ্যবাদ বলেছেন তাকেও হার মানিয়েছে আজকের পুঁজিবাদ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ব্যাপক জীবাশ্মজ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত কার্বন ডাইঅক্সাইড পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখে। গতবছর (২০১৯) পৃথিবীর তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরিণাম আমাদের সকলের জানা। উত্তর মেরুর বরফ গলা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, খরা, তীব্র ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদির কারণে প্রতি বছর ব্যাপক জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি বহু প্রাণি প্রকৃতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়।

তবে শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ- এর হাত ধরেই এন্টিবায়োটিকের আবিষ্কার করা হয়। এন্টিবায়োটিক মানবদেহে বিস্ময়করভাবে কাজ করে। এর জীবাণু প্রতিরোধী পদার্থগুলো সংক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ করে। কিন্তু আমাদের শরীর থেকে নিঃসৃত হবার পর এই পদার্থগুলো জলপথে ছড়িয়ে যায় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। কিছু ‘সুপার’ জীবাণু তৈরি হয় যেটা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বিপন্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এন্টিবায়োটিক পানিতে মিশে যাওয়ার ফলে জলজপ্রাণির প্রজননে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জলজপ্রাণির ডিম্বাণু দ্রুত মরে যায় এবং শ্যাওলা জাতীয় জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধি থেমে যায় যা জলজপ্রাণির খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। মানবসমাজের বিকাশের নামে এন্টিবায়োটিক দিয়ে হুমকির মধ্যে ফেলা হয়েছে পৃথিবীর প্রাণিকুল, পরিবেশ, প্রতিবেশ এমন কি নদী ও সমুদ্রের পানি।

পুঁজিবাদের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন বাজার ও ভোক্তার সক্ষমতা। শিল্পবিপ্লবের সময়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০০ কোটির নিচে ছিল যা আজকে ৭৮০ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে। শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ -এর সাথে সাথে বিশাল জনগোষ্ঠির চাহিদার জন্য নতুন নতুন পণ্য, ঔষধ, উচ্চ ফলনশীলতা সবই হয়েছে। ক্যান্সার, এইচআইভি সহ নানা ধরনের রোগ বালাই প্রতিরোধ ও প্রতিকার, ভাইরাস, মহামারি মোকাবেলা অন্যদিকে শল্য চিকিৎসার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। যক্ষ্মা, কলেরা, বসন্ত, প্ল্যেগ, পোলিও, টাইফয়েড পুজিঁবাদের কাছে হার স্বীকার করেছে।

শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

প্রথম শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ এর বিকাশের নতুন রাস্তা দেখিয়েছে তেমনি হোমোসেপিয়ানদের বেঁচে থাকার বয়স (গড় আয়ু) দ্বিগুণ করেছে। শিল্প বিপ্লবের আগে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪০ বছর। শিশু মৃত্যুর হার ছিল ৪০% যা শিল্প বিকাশ আর পুঁজিবাদ বিকাশের ফলে পৃথিবীর নানা দেশে নানা মাত্রা ধারণ করছে। জাপানে মানুষের গড় আয়ু ৯০ তে পৌঁছেছে। আমরা ৭০ বছরের মধ্যে আছি। পুঁজিবাদের বিকাশ হোমোসেপিয়ানদের জীবন ব্যবস্থার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়েছে। পুঁজিবাদ পৃথিবীর নারীদের জীবনের অধিকার স্বীকার করেছে। পুঁজিবাদী দেশগুলিতে নারী তার জীবনের নতুন ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছে। নারী এখন আর উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেবল সন্তানধারণের কাজে ব্যস্ত থাকে না। যে কারণে উন্নত (সামাজিকভাবে উন্নত) পুঁজিবাদী দেশগুলিতে জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। নারী পুরুষের সম্পর্ক পরিবর্তন হচ্ছে। নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন ঘটেছে পুরোটা শতাব্দী জুড়ে।

প্রথম শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে যন্ত্রের আবিষ্কার। যন্ত্র চালানোর জন্য দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব বিদুৎ নিয়ে এলো, এসবই ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর কথা। এই যন্ত্র ও বিদুৎ বদলে দিল পৃথিবীকে। যন্ত্রচালানোর জ্বালানি বিদ্যুৎ আর বিদ্যুৎ এর জ্বালানি মাটি ও সাগরের তলদেশের খনিজ তেল ও গ্যাস। যা নিয়ে শুরু হল ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্দ্ধের যাত্রা। সেই যাত্রা পৃথিবীকে পৌঁছে দিলো এক মরণ যাত্রায়, যার নাম জাতীয়তাবাদ।

বিংশ শতাব্দীর গোড়াতে জাতীয়তাবাদের সুনামি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্ম দিলো। পুঁজিবাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া জাতীয়তাবাদ বিভৎস রূপ নিয়েছে। এরই নাম সাম্রাজ্যবাদ। যদিও একে সাম্রাজ্যবাদ নামের মধ্যে সীমিত না রেখে নতুন কোন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার। তেল গ্যাসের মালিকানা থেকে জন্ম নেয় ফিলিস্তিনি সংকট। শিল্পবিপ্লব ও পুজিঁবাদ -এর জনক বৃটিশরা মধ্যপ্রাচ্যে তার নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করার স্বার্থে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ইহুদি সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া এবং তারই পথ ধরে কাশ্মীর সমস্যা এসবই পুজিঁবাদের হিংস্রতা। কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রদায়গতভাবে মুসলিমদের বিপক্ষের ঘটনা। দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ার মাটিতে যুদ্ধ চালায় মার্কিন হিংস্র পুঁজিবাদ। মার্কিনীদের একমাত্র যুদ্ধ যেখানে তারা পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। পেছন থেকে সমর্থন ছিল চীন ও রাশিয়ার। ভিয়েতনামে পরাজয় স্বীকার করে মার্কিন বাহিনী।

ভয়ঙ্কর হিংস্র পুজিঁবাদী দেশ মার্কিনরা ২য় বিশ্বযুদ্ধকালেই ১৯৪৪ সালে তাদের মুদ্রা ডলারকে বিশ্ব বাণিজ্য মুদ্রায় পরিণত করতে পারার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। যুদ্ধে পরাজিত জাপান তার নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য অব্যাহত রাখে। প্রায় ৩০/৪০ বছর পর ইউরোপীয়নরা মার্কিন ডলারের অপরিসীম দৌরাত্ম ও ক্ষমতা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল তা বুঝতে পেরে মার্কিন ডলারের ক্ষমতার বাইরে ইউরো মুদ্রা গড়ে তোলে। যার ফলে নিজেদের বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। যা মার্কিন হিংস্র পুজিঁবাদের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে নতুন মেরুকরণ হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মৈত্রী জোট ওয়ারস গঠন করে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে সমাজতন্ত্র রফতানি করে নতুন সামরিক জোট গঠন করে। আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি নিয়ে গঠন করে ন্যাটো জোট। এই দুই জোট পৃথিবীকে নতুন মাত্রায় সামরিকীকরণের দিকে ধাবিত করে। হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার গড়ে তোলা হয়। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সমাজতন্ত্র রফতানির নামে এশিয়ার দেশ আফগানিন্তান দখল করে নেয়। মাওয়ের দেশ চীন তাঁর মৃত্যুর পরই সমাজতন্ত্রের গল্প থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে থাকে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৯ সাল প্রায় ১৩ বছর সময় লাগে এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে। ১৯৮৯ সাল থেকে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি মুক্ত বাজার অর্থনীতি তথা ব্যক্তি পুঁজির বিকাশের রাস্তায় হাঁটতে থাকে। কিন্তু সেখানেও ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই। তার পরেও দেশটি উন্নতির চরম শিখরে। দেশটি এখন হিংস্র পুঁজিবাদ মার্কিনীদের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত।

শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে

শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে

চীন তার নতুন ধরনের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের মাধ্যমে পশ্চিমী পুঁজির সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে উন্নয়নশীল বিশ্বকে লুন্ঠনে নেমে পড়ে। আফ্রিকার সুদান, কঙ্গোসহ প্রায় সবকটি দেশেই অপরিসীম লুন্ঠনের রাজত্ব কায়েম করে। উন্নয়নের পার্টনার হিসাবে অতীতে মার্কিনীরা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে যা করেছে ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি। চীনের এই নব্য শিকার এশিয়ার অনেক দেশ। অতীতের পশ্চিমা বিশ্বের মতই অস্ত্র ব্যবসায় নেমে পড়েছে। দীর্ঘকাল পাকিস্তানের মত ধর্মীয় সংহিস রাষ্ট্রকে সমর্থন করে চীন। এদিকে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মাসুদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে।

ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনকে সামনে রেখে নিত্য নতুন ফন্দিতে ব্যস্ত। কখনো ভারতের মোদীকে বুকে জড়িয়ে ধরে মুসলিম ধর্মবিদ্বেষী হিসাবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরছে। আবার চীনকে পারলে ইরানের মত সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসোবে ঘোষণা করার জন্য উদ্যত হওয়া। চীনের কাছ থেকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ধারকৃত প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ডলার যে কোন সময় আটকে দেওয়ার ফন্দিতে ব্যস্ত। যেমনটি করেছে নানান সময় পৃথিবীর নানা দেশের সাথে। বহু ডলার আটকে রেখেছে ইরানের।

আরও পড়ুন- বাংলাদেশের চা শিল্প : রেকর্ড উৎপাদনে বড় রপ্তানির সম্ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ধর্মীয় গোষ্ঠি ইহুদি জনগোষ্ঠিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভুখন্ড জেরুজালেম দখল করে গত শতাব্দী থেকে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে ইসরাইল রাষ্ট্রটিকে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের মদদ দিয়ে চলেছে মার্কিন পুঁজিবাদ। আর এ কাজে সাথে পেয়েছে সৌদি রাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রের উত্তরাধিকার দেশগুলোকে। মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলোর রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখা হয়েছে পুঁজিবাদের স্বার্থে। জাতিসংঘ নামক মোড়ল পৃথিবীর নানা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার গল্প নিয়ে নানান উপদেশ বিতরণ করে তখন মধ্যপ্রাচ্যের ওই অগণতান্ত্রিক রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর বিষয়ে বিস্ময়করভাবে নিরব থাকে।

 

The post শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদ : পৃথিবীকে কোন দিকে ঠেলে দিচ্ছে? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%aa/feed/ 0 1333
কাজী নজরুল ইসলাম: রুটির দোকান থেকে মানুষের অন্তরে https://rongpencil.net/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b/ https://rongpencil.net/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b/#respond Sun, 16 Aug 2020 14:46:08 +0000 https://rongpencil.net/?p=1326 গণমানুষের কবি, সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর (১৮৯৯-১৯৭৬) জীবন হাজার রকম বৈচিত্র্যে ভরা। প্রথম জীবনে আসানসোলে রুটির দোকানের কর্মচারী, পরে সেনাবাহিনীর হাবিলদারের জীবন এবং তারপর সৃষ্টিশীল লেখক জীবন। নানা বৈচিত্র্য ও বর্ণাঢ্য জীবন তার। তার জীবনের নানা অংশজুড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর গণমানুষের অধিকার আদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর ...

The post কাজী নজরুল ইসলাম: রুটির দোকান থেকে মানুষের অন্তরে appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
গণমানুষের কবি, সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর (১৮৯৯-১৯৭৬) জীবন হাজার রকম বৈচিত্র্যে ভরা। প্রথম জীবনে আসানসোলে রুটির দোকানের কর্মচারী, পরে সেনাবাহিনীর হাবিলদারের জীবন এবং তারপর সৃষ্টিশীল লেখক জীবন। নানা বৈচিত্র্য ও বর্ণাঢ্য জীবন তার। তার জীবনের নানা অংশজুড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর গণমানুষের অধিকার আদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি ও সংগীতজ্ঞ। তার জন্ম ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে। তিনি স্থানীয় মক্তবে কোরআন, ইসলাম ধর্ম, দর্শন এবং ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯০৮ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে নজরুলের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে তাকে নামতে হয় জীবিকা অর্জনে। স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজও করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। ১৯১০ সালে কাজী নজরুল ইসলাম লেটোদল ছেড়ে ছাত্রজীবনে ফিরে আসেন।

কিছুদিন আসানসোলে রুটির দোকানে কাজ করেন। বেশ কষ্টের মধ্যেই তার বাল্যজীবন অতিবাহিত হতে থাকে। এই দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনিই নজরুলকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। ১৯১৫ সালে তিনি আবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ফিরে যান এবং সেখানে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করেন। এ বছরের শেষ দিকে মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়ে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় আড়াই বছর ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক করপোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার হয়েছিলেন। ১৯২০ সালে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি সৈনিকজীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন। ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল।

১৯২১ সালের এপ্রিল-জুন মাসের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সঙ্গে পরিচিত হন। তার সঙ্গেই তিনি প্রথম কুমিল্লার বিরজা সুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন। আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সঙ্গে। যার সঙ্গে তার পরিণয় হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে আবার কুমিল্লায় ফিরে যান। ২১ নভেম্বর ছিল সমগ্র ভারতব্যাপী হরতাল। এ উপলক্ষে নজরুল আবার পথে নেমে আসেন; অসহযোগ মিছিলের সঙ্গে শহর প্রদক্ষিণ করেন আর গান করেন—‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী’। তার ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতি লাভ করে। ১৯২২ সালের ১২ আগস্ট তিনি ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো। পরবর্তী জীবনে তিনি প্রায় চার হাজার গান, বহু কবিতা রচনা করেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকায় আসেন। এ সময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকার পর ১৯৭৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি প্রায় চার হাজার গান, বহু কবিতা রচনা করেন

তিনি প্রায় চার হাজার গান, বহু কবিতা রচনা করেন

কাজী নজরুল ইসলামের যৌবনের কিছুটা সময় কেটেছে কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরে। মোট পাঁচবারে সেখানে প্রায় ১১ মাসেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন কবি। তরুণ কবি নজরুল ১৯২১ সালের এপ্রিলে কুমিল্লার দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে অতিথি হয়ে আসেন। সেখানে বাড়ির পাশের কামরাঙা গাছতলায় বাঁশিতে সুর তুলে, আর পুকুরঘাটে বসে কবিতা লিখে লিখে সময় কেটেছে তার। নজরুলের প্রথম প্রেম সৈয়দা খানম (নজরুল তাকে নাম দেন নার্গিস, ফার্সি ভাষায় যার অর্থ গুল্ম)। তিনি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দৌলতপুর গ্রামের মেয়ে ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকালে নার্গিসের মামা ক্যাপ্টেন আলী আকবর খানের সঙ্গে পরিচয় ঘটে নজরুলের। ১৯১৯ সালে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। নজরুল তখন মুসলিম সাহিত্য সমিতির (কলকাতা) অফিসে আফজাল-উল হকের সঙ্গে থাকতেন। ওই সময় আলী আকবর খানের সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। আকবর খান নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে কুমিল্লায় তার গ্রামের বাড়িতে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। আলী আকবর খানের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে কলকাতা থেকে ১৯২১ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেইলে নজরুল কুমিল্লা এসে পৌঁছেন। ময়মনসিংহের ত্রিশাল ছাড়ার পর এটিই ছিল নজরুলের প্রথম পূর্ববঙ্গ যাত্রা। যাওয়ার পথে তিনি ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ কবিতাটি লিখেন। ট্রেনে কুমিল্লা পৌঁছে নজরুলকে নিয়ে আলী আকবর খান তার স্কুলের বন্ধু বীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাসায় ওঠেন। চার-পাঁচ দিন সেখানে কাটিয়ে কবি রওনা দেন দৌলতপুরের খাঁ বাড়ির উদ্দেশে। তবে সেই চার-পাঁচ দিনেই সেনবাড়ির সবাই বিশেষ করে বিরজাদেবীর সঙ্গে নজরুলের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। নজরুল তাকে ‘মা’ সম্বোধন করতেন। দৌলতপুরে নজরুলের জন্য আলী আকবর খানের নির্দেশে উষ্ণ অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ির জ্যেষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে নজরুলের। কবিতা শুনিয়ে, গান গেয়ে তাদের তো বটেই দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন ছুটে আসত কবির নৈকট্য লাভের আশায়। আলী আকবর খানের বোন আসমাতুন্নেসার বিয়ে হয়েছিল খাঁ বাড়ির পাশেই। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় আসমাতুন্নেসা তার ভাইয়ের বাড়িতে তেমন সমাদর পেতেন না। আসমাতুন্নেসার স্বামী মুনশি আবদুল খালেক একটি মেয়ে রেখেই মৃত্যুবরণ করেন। আর সেই মেয়েটিই কবি নজরুলের প্রথম প্রেম নার্গিস। নার্গিসের সঙ্গে কবির আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছিল কবির বাঁশি বাজানো নিয়ে। এক রাতে কবি খাঁ বাড়ির দিঘির ঘাটে বসে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, সেই বাঁশির সুরে মুগ্ধ হন নার্গিস। খাঁ বাড়ির মুরব্বিরা নার্গিসের বর হিসেবে নজরুলকে তেমন পছন্দ করতেন না। নজরুলকে তারা ছিন্নমূল বাউণ্ডুলে হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু গ্রাজুয়েট আলী আকবর খানের চাপে তারা প্রতিবাদ করতেন না। এক পর্যায়ে খোদ নজরুলই বিয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। ফলে ১৩২৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ আষাঢ় বিয়ের দিন ধার্য হয়। এরপর শুরু হয় নাটকীয়তা। আলী আকবর খান তার গ্রাম্য ভগিনীকে বিখ্যাত কবি নজরুলের জন্য গড়তে নেমে পড়লেন।

অশিক্ষিত নার্গিসকে খুব কম সময়ে শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব ছিল না। কিন্তু তিনি শরত্চন্দ্র ও অন্যান্য সাহিত্যিকের উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলো থেকে নার্গিসকে জ্ঞান দিতে থাকলেন। নজরুলের এসব ভণিতা একেবারেই পছন্দ ছিল না, তিনি আলী আকবর খানকে তা জানালেও তিনি নজরুলকে পাত্তা দেন না।

সেই সঙ্গে খুব দ্রুত বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকেন, নিমন্ত্রণপত্রও অতিথিদের মাঝে বিলিয়ে ফেলেন। এসব ব্যাপার নজরুলকে পীড়া দেয়, আস্তে আস্তে তার মোহ ভাঙতে থাকে। এর ফাঁকে আলী আকবর খান সবার অগোচরে আরও একটি কাজ করে যাচ্ছিলেন। তিনি নজরুলের জন্য কলকাতা থেকে আসা বন্ধুদের সব চিঠিই সরিয়ে ফেলতেন, সেই সঙ্গে নজরুলের পাঠানো চিঠিও পোস্ট না করে নিজের কাছে রেখে দিতেন।

এদিকে কাজী নজরুল ইসলাম বিয়েতে তার পক্ষের অতিথি হিসেবে বিরজাসুন্দরী দেবী ও তার পরিবারকে মনোনীত করেন। বিয়ের আগের দিন সবাই দৌলতপুরে এসে উপস্থিত হন। কলকাতায় নজরুলের বন্ধুদের এমন সময় দাওয়াত দেওয়া হয় যেন কেউ আসতে না পারে। কবির অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদ নিমন্ত্রণপত্র পান বিয়ের পরে। এরপর এলো সেই বহু প্রতীক্ষিত ৩ আষাঢ়। যতদূর জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় এবং আকদও সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাবিনের শর্ত উল্লেখ করার সময়ই ঝামেলা বাধে। আলী আকবর খান শর্ত জুড়ে দেন, নজরুলকে ঘরজামাই থাকতে হবে। বাঁধনহারা নজরুল এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেন।

আকদ হয়ে যাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অন্যান্য কাজে যখন সবাই ব্যস্ত তখন কাজী নজরুল ইসলাম অন্তর্দ্বন্দ্ব্বে বিক্ষুব্ধ। তিনি ছুটে যান বিরজাসুন্দরী দেবীর কাছে। তাকে বলেন, ‘মা, আমি এখনই চলে যাচ্ছি।’

বিরজাসুন্দরী দেবী বুঝতে পারেন এই অবস্থায় নজরুলকে ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি তার ছেলে বীরেন্দ্রকুমারকে নজরুলের সঙ্গে দিয়ে দেন। সেই রাতে দৌলতপুর থেকে কর্দমাক্ত রাস্তা পায়ে হেঁটে নজরুল ও বীরেন্দ্রকুমার কুমিল্লা পৌঁছেন।

নজরুল লেটোদল ছেড়ে ছাত্রজীবনে ফিরে আসেন

নজরুল লেটোদল ছেড়ে ছাত্রজীবনে ফিরে আসেন

পরিশ্রম ও মানসিক চাপে নজরুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। নজরুলের জীবনে নার্গিস অধ্যায় সেখানেই শেষ হয়। শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে সংগীতচর্চা এবং একটা সুসম্পর্ক ছিল কবির। সেই সূত্রে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের ইন্দ্রকুমার সেনের বাড়িতে ১৯২১ থেকে ১৯২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করেন কবি। সেখানেই ইন্দ্রকুমারের ভাইয়ের মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলা দেবীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যা পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।

কাজী নজরুল ইসলাম -এর সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি করাচি সেনানিবাসেই। সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় তার বাহিনীর ইরাক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় তিনি আর যাননি।

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে কাজী নজরুল ইসলাম সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক করপোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। উক্ত রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির কাছে তিনি ফার্সি ভাষা শেখেন।

এ ছাড়া সহসৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সংগীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন, আর গদ্য-পদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সঙ্গে। করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প : হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা : সমাধি ইত্যাদি। এই করাচি সেনানিবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসী, ভারতবর্ষ, ভারতী, মানসী, মর্মবাণী, সবুজপত্র, সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। এ সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল।

এ সূত্রে বলা যায়, নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি এই করাচি সেনানিবাসেই। সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর যাননি। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়। এর পর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।

কাজী নজরুলের লেখা ‘যুগবাণী’, ‘বিষের বাঁশী’, ‘ভাঙার গান’, ‘প্রলয় শিখা’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’সহ মোট পাঁচটি বই ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। বলা বাহুল্য, বাংলা সাহিত্যে সমকালীন অন্য কোনো কবি বা সাহিত্যিকের এত গ্রন্থ একত্রে কখনো বাজেয়াপ্ত হয়নি। নজরুলের প্রতিবাদ আর তার লেখনীর অন্যতম দিক হলো নজরুলই ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেন। নানা সৃষ্টিতে বৈচিত্র্যমণ্ডিত নজরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় পত্রিকা সম্পাদনাও। ১৯২২ সালে নজরুল ‘ধূমকেতু’ নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশ পেত। ১২ সেপ্টেম্বর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ধূমকেতুর দ্বাদশ সংখ্যায় ‘আনন্দময়ীর আগমন’ নামক একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ব্রিটিশ শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ফলে এই কবিতায় নজরুলের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম রাজদ্রোহের মামলা হয়। একই বছরের ৮ নভেম্বর রাজদ্রোহের অপরাধে নজরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত নজরুলের বিচার হয়েছিল কলকাতার আলিপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। পরবর্তীতে এই মামলার রায়ে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। রায় ঘোষণার পর দিন তাকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আগে থেকেই নজরুলের কাব্য চেতনা আর সৃষ্টিশীল দ্রোহের সঙ্গে পরিচিত ছিল সাধারণ মানুষ। এবার কারাবরণ করে নজরুল সমগ্র দেশবাসীর কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন। এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার ‘বসন্ত’ নাটকটি কবির নামে উৎসর্গ করেন। তাকে হুগলি জেলে স্থানান্তর করা হয়। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল হুগলি জেলে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন। শরীরের ওজন প্রায় ১৩ কেজি কমে যায়। এভাবে নজরুল একটানা অনশন করে যান ৩৯ দিন।

ওই সময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং নজরুলকে চিঠি লিখে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে এ বিষয়ে তাকে টেলিগ্রাম পাঠান। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- ‘Give up hunger strike. Our Literature claims you.’ কিন্তু টেলিগ্রামটি নজরুলের হাতে পৌঁছায়নি। জেল কর্তৃপক্ষ ‘Address is not found’ লিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে টেলিগ্রামটি ফেরত পাঠায়। জেল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ঠিকানা জানলেও ইচ্ছা করেই টেলিগ্রামটি নজরুলের কাছে না পাঠিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে ফেরত পাঠায়। রবীন্দ্রনাথ এ ঘটনায় দারুণ মর্মাহত হন। শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও নজরুলের অনশনে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ৩৯ দিন পর কুমিল্লার বিরজা সুন্দরী দেবীর অনুরোধে তারই হাতে লেবুর রস পান করে নজরুল অনশন ভঙ্গ করেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন

রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন

পাক-ভারত যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে ৩২নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে কমরেড মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। প্রথমে মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশ পায়। বঙ্গীয় মুসলিম সমিতির অফিসে কাজী মোতাহার হোসেন, মোজাম্মেল হক, কাজী আবদুল ওদুদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, আফজালুল হক প্রমুখের সঙ্গে পরিচয় হয়। ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। মোতাহার হোসেনের সঙ্গে নজরুলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৯২০ সালের ১২ জুলাই নবযুগ নামের সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হওয়া শুরু করে। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে প্রকাশিত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। এর মাধ্যমেই নজরুল সাংবাদিকতা শুরু করেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। ১৯২১ সালের এপ্রিল-জুনের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সঙ্গে পরিচিত হন। তার সঙ্গেই তিনি কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন। আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সঙ্গে।

The post কাজী নজরুল ইসলাম: রুটির দোকান থেকে মানুষের অন্তরে appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8b/feed/ 0 1326
মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/#respond Wed, 05 Aug 2020 15:53:38 +0000 https://rongpencil.net/?p=1322 রংপেনসিল : মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস এসে মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করিয়েছে নির্বিশেষে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য তাই মুখ ঢাকছেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ ফেস মাস্কের বদলে বেছে নিচ্ছেন শৈল্পিক ও সুচারু ব্যান্ডানা। কিন্তু এগুলোর ...

The post মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রংপেনসিল : মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস এসে মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করিয়েছে নির্বিশেষে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য তাই মুখ ঢাকছেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ ফেস মাস্কের বদলে বেছে নিচ্ছেন শৈল্পিক ও সুচারু ব্যান্ডানা। কিন্তু এগুলোর পক্ষে কোভিড-১৯-এর জীবাণু আটকানো কতটা সম্ভব?

দৃশ্য-১, সম্প্রতি লন্ডনের আদালতে হাজির হতে দেখা যায় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড ও অভিনেতা জনি ডেপকে। সাবেক এই তারকা দম্পতি বেশ কিছুদিন ধরেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত। সেদিন অ্যাম্বারে মুখে মাস্কের বদলে ছিল লাল পলকা ডটের স্কার্ফ আর ডেপের মুখে কালো ব্যান্ডানা।

দৃশ্য-২, গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের জুতোর দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন অভিনেত্রী সারা জেসিকা পার্কার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় দেখা মেলে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের। দুজনেই মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরে ছিলেন।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে তারকাদের এ রকম ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনের সেন্টার ফর ডিজাইন হিস্টোরির প্রভাষক নিকোলা অ্যাশমোর দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে বলেন, কোভিড-১৯-এর কালে অদৃশ্য ও ভয়ানক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একাধিকবার ব্যবহৃত চার কোণা কোনো কাপড় বা ব্যারান্ডা দিয়ে নিজেকে সুরক্ষা করতে চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

এরই মধ্যে, ‘ফিজিকস অব ফ্লুইডস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যান্ডানার পক্ষে মাস্কের মতো সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
মুখ ঢাকার বিভিন্ন রকমের উপকরণের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, কাশির কারণে সেগুলো ভেদ করে ড্রপলেট বা জীবাণুকণার পক্ষে কত দূর পর্যন্ত ছড়ানো সম্ভব। তাতে দেখা গেছে, মুখ ঢাকা না রাখলে ড্রপলেট যেতে পারে ৮ ফুট দূর পর্যন্ত। অন্যদিকে, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিজারভেশনের (সিডিআই) সুপারিশ বলছে, ঘন সূতিবস্ত্রের মতো গুণমানসমৃদ্ধ কাপড়ে তৈরি সবচেয়ে কার্যকর ফেস মাস্ক মুখে থাকলে ভাইরাসটি মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে পারবে।

সে ক্ষেত্রে ব্যান্ডানার কার্যকারিতা কিছুটা হলেও রয়েছে; কেননা, এটি পরে কাশি দিলে ৩ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে জীবাণুকণা। তাই মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!

The post মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/feed/ 0 1322