রঙ পেনসিল https://rongpencil.net তথ্যের ষোলকলা Wed, 05 Aug 2020 15:53:38 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.4.2 https://i2.wp.com/rongpencil.net/wp-content/uploads/2019/10/cropped-icon.png?fit=32%2C32&ssl=1 রঙ পেনসিল https://rongpencil.net 32 32 166584991 মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/#respond Wed, 05 Aug 2020 15:53:38 +0000 https://rongpencil.net/?p=1322 রংপেনসিল : মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস এসে মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করিয়েছে নির্বিশেষে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য তাই মুখ ঢাকছেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ ফেস মাস্কের বদলে বেছে নিচ্ছেন শৈল্পিক ও সুচারু ব্যান্ডানা। কিন্তু এগুলোর ...

The post মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রংপেনসিল : মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস এসে মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করিয়েছে নির্বিশেষে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য তাই মুখ ঢাকছেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ ফেস মাস্কের বদলে বেছে নিচ্ছেন শৈল্পিক ও সুচারু ব্যান্ডানা। কিন্তু এগুলোর পক্ষে কোভিড-১৯-এর জীবাণু আটকানো কতটা সম্ভব?

দৃশ্য-১, সম্প্রতি লন্ডনের আদালতে হাজির হতে দেখা যায় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড ও অভিনেতা জনি ডেপকে। সাবেক এই তারকা দম্পতি বেশ কিছুদিন ধরেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত। সেদিন অ্যাম্বারে মুখে মাস্কের বদলে ছিল লাল পলকা ডটের স্কার্ফ আর ডেপের মুখে কালো ব্যান্ডানা।

দৃশ্য-২, গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের জুতোর দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন অভিনেত্রী সারা জেসিকা পার্কার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় দেখা মেলে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের। দুজনেই মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরে ছিলেন।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে তারকাদের এ রকম ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনের সেন্টার ফর ডিজাইন হিস্টোরির প্রভাষক নিকোলা অ্যাশমোর দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে বলেন, কোভিড-১৯-এর কালে অদৃশ্য ও ভয়ানক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একাধিকবার ব্যবহৃত চার কোণা কোনো কাপড় বা ব্যারান্ডা দিয়ে নিজেকে সুরক্ষা করতে চাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

এরই মধ্যে, ‘ফিজিকস অব ফ্লুইডস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যান্ডানার পক্ষে মাস্কের মতো সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
মুখ ঢাকার বিভিন্ন রকমের উপকরণের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, কাশির কারণে সেগুলো ভেদ করে ড্রপলেট বা জীবাণুকণার পক্ষে কত দূর পর্যন্ত ছড়ানো সম্ভব। তাতে দেখা গেছে, মুখ ঢাকা না রাখলে ড্রপলেট যেতে পারে ৮ ফুট দূর পর্যন্ত। অন্যদিকে, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিজারভেশনের (সিডিআই) সুপারিশ বলছে, ঘন সূতিবস্ত্রের মতো গুণমানসমৃদ্ধ কাপড়ে তৈরি সবচেয়ে কার্যকর ফেস মাস্ক মুখে থাকলে ভাইরাসটি মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত দূরত্ব পাড়ি দিতে পারবে।

সে ক্ষেত্রে ব্যান্ডানার কার্যকারিতা কিছুটা হলেও রয়েছে; কেননা, এটি পরে কাশি দিলে ৩ ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে জীবাণুকণা। তাই মাস্কের বদলে ব্যান্ডানা পরলে আপনার হয়তো নিজেকে ‘রকস্টার’ মনে হবে; তবে স্টাইলের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপনারই!

The post মাস্কের বদলে মুখে ব্যান্ডানা, কতটা নিরাপদ? appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d/feed/ 0 1322
চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব, পৃথিবী ছাপিয়ে রণক্ষেত্র এখন মঙ্গল গ্রহে https://rongpencil.net/%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5/ https://rongpencil.net/%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5/#respond Tue, 28 Jul 2020 17:31:03 +0000 https://rongpencil.net/?p=1316 রঙ পেনসিল: দুই বছর আগে মঙ্গলগ্রহে সর্বশেষ মহাকাশযান অবতরণ করেছিল মানবজাতি। কিন্তু, তারপরও থেমে থাকেনি মঙ্গল সম্পর্কে আরও জানার আকাঙ্খা। এবার বিশ্বের দুই প্রতিদ্বন্দী শক্তির অভিযান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আমাদের সৌর জগতের চতুর্থ গ্রহটি। প্রযুক্তি আর বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব চলছে, তাতেই যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে মহাকাশ অভিযানের প্রতিযোগিতা। ২৩ জুলাই চীন ...

The post চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব, পৃথিবী ছাপিয়ে রণক্ষেত্র এখন মঙ্গল গ্রহে appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রঙ পেনসিল: দুই বছর আগে মঙ্গলগ্রহে সর্বশেষ মহাকাশযান অবতরণ করেছিল মানবজাতি। কিন্তু, তারপরও থেমে থাকেনি মঙ্গল সম্পর্কে আরও জানার আকাঙ্খা। এবার বিশ্বের দুই প্রতিদ্বন্দী শক্তির অভিযান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আমাদের সৌর জগতের চতুর্থ গ্রহটি। প্রযুক্তি আর বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব চলছে, তাতেই যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে মহাকাশ অভিযানের প্রতিযোগিতা।

২৩ জুলাই চীন তার দক্ষিণনাঞ্চলের হাইনান দ্বীপ থেকে তিয়ানওয়েন-১ নামের মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করার ঘোষনা দেওয়ার পরপরই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা-নাসা চলতি মাসের ৩০ তারিখে তাদের প্রিজারভেন্স নামক মঙ্গলযান উৎক্ষেপণের তারিখ জানিয়েছে। দুই দেশের উৎক্ষেপিত মহাকাশযানই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ মঙ্গলে পোঁছাবে, বলে আশা করা হচ্ছে।

নাসার প্রিজারভেন্স মঙ্গলে জীবনের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে যে প্রশ্ন আছে-তার উত্তর সন্ধান করবে। যেমন; অতীতে ধূসর লাল গ্রহটিতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ ছিল কিনা এবং অতিক্ষুদ্র জীবকণার অস্তিত্ব এখনও আছে কিনা; তা অনুসন্ধান করবে প্রিজারভেন্স। রোভার জাতীয় রোবট যানটি একটি খননযন্ত্র ব্যবহার করে মঙ্গলের মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এসব নমুনা পরবর্তীকালের অভিযানে পাঠানো মহাকাশযান বিশ্লেষণের সুযোগ পাবে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রিজারভেন্সের মাধ্যমে মঙ্গলের বুকে সপ্তম প্রোব অবতরণের সফলতা অর্জন করবে নাসা। আর একইসঙ্গে আসবে চতুর্থতম রোভার যান অবতরণের সাফল্য। সর্বপ্রথম ২০১২ সালে মঙ্গলের বুকে নেমেছিল নাসার তৈরি রোভার ‘কিউরিওসিটি’। রোভার যানটি এখনও সচল আছে এবং নিয়মিত পৃথিবীতে নাসার বিজ্ঞানীদের কাছে মঙ্গলের তথ্যাবলী পাঠাচ্ছে।

সেই তুলনায় মঙ্গলে চীনের প্রথম প্রোব ও রোভার অভিযান হতে চলেছে তিয়ানওয়েন-১। চীনা ভাষায় তিয়ানওয়েন এর অর্থ হলো, ‘স্বর্গীয় সত্যের সন্ধান’। চীনা প্রোবটি প্রথমে মঙ্গলের কক্ষপথে ঘুরবে। তারপর সেখান থেকে একটি রোভার যান অবতরণ করবে মরিচারঙের গ্রহে। রোভারটি মঙ্গলের মাটির প্রকৃতি, গ্রহের ভৌগলিক গঠন, আবহাওয়া, বায়ুমন্ডল এবং পানির উৎস সন্ধান করবে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে তিয়ানওয়েন-১ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানান, মঙ্গলের কক্ষপথে ভ্রমণ সম্পন্ন করার পর, তাদের প্রোবটি গ্রহটির মাটিতে অবতরণ করবে। এরপর প্রোবের ভেতরে থাকা একটি রোভারযানকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হবে। পরিকল্পনাটি খুবই উচ্চাকাঙ্কার। কারণ চীনা বিজ্ঞানীরা প্রথম অভিযানেই একসঙ্গে প্রোবের কক্ষপথে ঘূর্নন এবং সেখান থেকে রোভার অবতরণের পরিকল্পনা করেছেন। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা- নাসা যা করেছে ধাপে ধাপে।

এবার বিশ্বের দুই প্রতিদ্বন্দী শক্তির অভিযান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আমাদের সৌর জগতের চতুর্থ গ্রহটি

এবার বিশ্বের দুই প্রতিদ্বন্দী শক্তির অভিযান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আমাদের সৌর জগতের চতুর্থ গ্রহটি।

মঙ্গলে অবতরণের আগে বেশ কয়েকটি কক্ষপথে ভ্রমণকারী যান পাঠায় নাসা। কারণ, ভিনগ্রহে মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণ সব সমই একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। প্রথম চেষ্টায় দুইটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর পার করা গেলে; তা চীনের জন্য হবে প্রকৌশলবিদ্যার বিশাল এক অর্জন । দেশটির গবেষকরা নেচার জার্নালে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে এসব কথা জানান ।

তিয়ানওয়েন প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা তাদের প্রবন্ধে উল্যেখ করেন, ”আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কলবর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ অভিযান সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের মাত্রাও বেড়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন নয়; গত রোববার উৎক্ষেপিত আরব আমিরাতের হোপ প্রোবটিও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছাবে। আরব বিশ্বের প্রথম আন্তঃ গ্রহ অভিযান হতে চলেছে এটি।

চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব  কূটনৈতিক সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেওয়ার আগে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে একযোগে কাজ করার সুযোগ পেতেন। পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। সফল অভিযানের প্রেক্ষিতে একে-অন্যের প্রতি শুভাচ্ছে বার্তাও পাঠাতেন তারা। প্রথম দেশ হিসেবে চীন যখন চাঁদের অপরপৃষ্ঠে তাদের মহাকাশযান অবতরণ করে, তখন নাসার বিজ্ঞানীরা তাদের চৈনিক প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তবে বিজ্ঞানীদের পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ- সাম্প্রতিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় প্রতিফলিত হচ্ছে না। কারণ এখনকার অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য ভূ-রাজনীতির বৈরিতা দ্বারা প্রভাবিত।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৬৯ সালে প্রথম চাঁদের বুকে মহাকাশযাত্রী অবতন করায় যুক্তরাষ্ট্র যা সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এক নতুন মাত্রার মহাকাশ প্রতিযোগিতা উস্কে দেয়। চীনের বর্তমান পরিকল্পনা তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে, সফল মহাকাশ অভিযানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার যে সম্মান মিলবে, তার সম্পর্কে ভালো করেই জানে বেইজিং। আর একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে ফেললে, তাতে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে চীনা নেতৃত্বের। তিয়ানওয়ে-১ সফল হলে, এরপর মঙ্গলে মনুষ্য অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে দেশটির। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান উন্নয়নে শত শত কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি মহাকাশে নিজেদের সগর্ব উপস্থিতি জানান দিতে সচেষ্ট বেইজিং।

২০৩০ সালে চাঁদে চীনা নভোচারীরা অবতরণ করবেন

২০৩০ সালে চাঁদে চীনা নভোচারীরা অবতরণ করবেন

একারণে দেশটির ১৩তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মহাকাশ গবেষণার উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায়, মহাকাশের গভীরে অভিযান এবং ভিনগ্রহর কক্ষপথে পাঠানো সম্ভব এমন মহাকাশযান তৈরির গবেষণা। যার আওতায় ২০২০ সাল নাগাদ পৃথিবীর কক্ষপথে সম্পূর্ণ নিজেদের একটি মহাকাশ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০৩০ সালে চাঁদে চীনা নভোচারীরা অবতরণ করবেন।
ইতোপূর্বে, ২০১৬ সালে চীনের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কর্তৃপক্ষের উপ-প্রধান উ ইয়ানহুয়া জানান, ‘২০৩০ সাল নাগাদ চীনকে মহাকাশ পরাশক্তিতে রূপান্তরিত করাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

কৃতজ্ঞতা: দি বিজনেস স্ট্যার্ন্ডাটস

The post চীন আমেরিকা দ্বন্দ্ব, পৃথিবী ছাপিয়ে রণক্ষেত্র এখন মঙ্গল গ্রহে appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5/feed/ 0 1316
আরবের লোবান, দুনিয়া মাতানো জাদুকরি সুগন্ধি https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8/ https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8/#respond Mon, 27 Jul 2020 16:53:57 +0000 https://rongpencil.net/?p=1309 সালেহ ফুয়াদ : সুগন্ধির অস্তিত্ব পৃথিবীর জন্ম থেকেই বিদ্যমান। তবে হ্যাঁ, কোন অঞ্চলের মানুষ সর্বপ্রথম সুগন্ধি ব্যবহার করা শিখেছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বোধহয় আরবদেরকে সুগন্ধির আবিষ্কারক বলা গবেষকদের সংখ্যাই বেশি। প্রাচীন মিশর ও মেসোপটোমিয়ায় সুগন্ধির ব্যবহার শুরু হয় বলে অনেকে বলছেন। ইয়াকুবের সন্তান ইউসুফকে যে বণিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তার সৎ ভাইয়েরা, তারা নাকি ...

The post আরবের লোবান, দুনিয়া মাতানো জাদুকরি সুগন্ধি appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
সালেহ ফুয়াদ : সুগন্ধির অস্তিত্ব পৃথিবীর জন্ম থেকেই বিদ্যমান। তবে হ্যাঁ, কোন অঞ্চলের মানুষ সর্বপ্রথম সুগন্ধি ব্যবহার করা শিখেছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বোধহয় আরবদেরকে সুগন্ধির আবিষ্কারক বলা গবেষকদের সংখ্যাই বেশি। প্রাচীন মিশর ও মেসোপটোমিয়ায় সুগন্ধির ব্যবহার শুরু হয় বলে অনেকে বলছেন।

ইয়াকুবের সন্তান ইউসুফকে যে বণিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তার সৎ ভাইয়েরা, তারা নাকি গন্ধবণিক ছিলেন। অর্থাৎ ইউসুফকে মিশরের আজিজের কাছে বিক্রি করেছিলেন যেসব সওদাগর, তারা মূলত ছিলেন সুগন্ধির ব্যবসায়ী। এ কথা সত্য বলে ধরে নিয়ে গবেষকরা বলছেন, আরবে সুগন্ধির ব্যবহার অন্তত ছয় হাজার বছর বা তারচেয়েও বেশি পুরোনো।

সুগন্ধিকে সবসময়ই পবিত্র ও অভিজাত বস্তু হিসেবে ধরা হতো। ফলে ধর্মালয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনায় এর ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। এছাড়া রাজ-রাজড়া, ক্ষমতাবান গোত্রপতি কিংবা বীরযোদ্ধারা রুচি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতেন উৎকৃষ্ট সুগন্ধি।

আরব অঞ্চলের প্রাচীন রাজা-বাদশারা কেমন সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, তার ধারণা পাওয়া যায় মিশরীয় ফারাওদের দিকে তাকালে। ব্রিটিশ পুরাতাত্ত্বিক হাওয়ার্ড কার্টার ১৯২২ সালের ৪ নভেম্বর মিশরীয় অষ্টাদশ রাজবংশের ফারাও (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩৩-১৩২৪) তুতেনখামেনের মমি আবিষ্কার করেন। পিরামিডের ভেতর তুতেনখামেনের সমাধিস্থল আবিষ্কার করলে দেখা যায়, মমিটি থেকে তীব্র ও ঝাঁঝাল সুগন্ধ বের হচ্ছে। তুতেনখামেনের জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪১ অব্দে। মৃত্যু খ্রিস্টপূর্ব ১৩২৩ অব্দে। সে হিসেবে মমিটি তিন হাজার বছরের পুরনো। তবুও অটুট সুবাস!

রানি ক্লিওপেট্রার সুগন্ধি ব্যবহারের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। শুরুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা হতো ধূপের মাধ্যমে। অর্থাৎ বিশেষ পদ্ধতিতে সুগন্ধি ধোঁয়া গায়ে মাখা হতো। সুগন্ধি শব্দটির ল্যাটিন প্রতিশব্দ Perfumare; এর আক্ষরিক অর্থও ‘ধোঁয়া’। রানিও সেভাবেই মাখতেন। তখনও আজকের মতো তরল সুগন্ধির প্রচলন শুরু হয়নি। ধূপ থেকে মোম, মোম থেকে আরও নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পাওয়া আজকের আধুনিক তরলাকারে সুগন্ধি ব্যবহারের পদ্ধতি চার হাজার বছরের ক্রমাগত গবেষণার সুফল।রানি ক্লিওপেট্রা কারিগরদের দিয়ে উৎকৃষ্টমানের বিশেষ একটি সুগন্ধি বানাতে সক্ষম হন। তার সেই সুগন্ধি বিখ্যাত হয় ‘কিফি’ নামে।

আরবের সুগন্ধি ব্যবহারের ইতিহাস বহু পুরনো হলেও সপ্তম শতকে রসায়নবিদদের হাত ধরে এটি এক অন্যমাত্রা লাভ করে। আব্বাসী শাসনামলের বিখ্যাত জ্ঞানকেন্দ্র—গবেষণা ও অনুবাদ প্রতিষ্ঠান ‘বায়ত আল-হিকমাহ’ বা ‘হাউস অব উইজডম’ হয়ে উঠে উন্নত সুগন্ধি তৈরির ল্যাবরেটরি হিসেবে। ‘ফাদার অব আরব ফিলোসফি’খ্যাত রসায়নবিদ আল-কিন্দি এখানে বসেই লিখেন সুগন্ধি তৈরির সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বইটি।

দার্শনিক, গণিতজ্ঞ, চিকিৎসক, সঙ্গীতজ্ঞ ও রসায়নবিদ আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আস-সাব্বাহ আল-কিন্দির (৮০১-৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ) লিখিত ‘দ্য বুক অব দ্য কেমেস্ট্রি অব পারফিউম অ্যান্ড ডিসটিলেশনস’-এর দুটো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়। ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে যে পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, তার শিরোনাম থাকে ‘আল-তারাফফুক ফি আল-আতর’, এবং মিশরে যে নুসখা পাওয়া যায়, তার নাম ‘কায়ফিয়্যাত আল-আতর ওয়া আল-তাসয়িদাত’। আধুনিক সুগন্ধিবিদ্যায় রসায়নবিদদের কাছে এখনো সমান গুরুত্বপূর্ণ এই বই।

এ বইয়ে লেখক সুগন্ধি তৈরির একশ সাত রকম পদ্ধতি ও রেসিপির উল্লেখ করেছেন। আল-কিন্দি এই রেসিপির মাধ্যমে সুগন্ধি তৈরির বিস্তারিত রাসায়নিক পদ্ধতি বাতলে গেছেন। ইউরোপীয় সুগন্ধি বিশেষজ্ঞদের কাছে আল-কিন্দি তাই ‘ফাদার অব পারফিউম’ নামে সুপরিচিত।

আল-কিন্দির আগে আরেক মুসলিম বিজ্ঞানী ও আলজেব্রার স্রষ্টা জাবির ইবনে হাইয়ান (৭২১-৮১৩ খ্রিস্টাব্দ) নতুন পদ্ধতি নিয়ে হাজির হন। তার সেই পদ্ধতি সুগন্ধি তৈরিকে আরও সহজ করে দেয়। জাবির সুগন্ধি উপাদানকে বাষ্পীয়করণ, পরিস্রাবণ ও পাতনের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

আল-কিন্দির পর আরেক পার্সিয়ান মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭ খ্রিস্টাব্দ) ফুল থেকে পাতন পদ্ধতিতে তেল আহরণের আধুনিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এখন পর্যন্ত এ পদ্ধতি ব্যবহার করেই সুগন্ধি তৈরি করা হচ্ছে। ইবনে সিনাকে ধরা হয় আধুনিক সুগন্ধি তৈরির আরেক আদিপিতা।

বোধহয় আরবদেরকে সুগন্ধির আবিষ্কারক বলা গবেষকদের সংখ্যাই বেশি

বোধহয় আরবদেরকে সুগন্ধির আবিষ্কারক বলা গবেষকদের সংখ্যাই বেশি

একটি সূত্র বলছে, মরোক্কান পরিব্রাজক ইবনে বতুতার ইউরোপ ভ্রমণের আগে ইউরোপীয়রা সুগন্ধি যে ব্যবহার করার মতো বস্তু, তা-ই জানত না। সূত্রটি কতটা নির্ভযোগ্য, তা নিশ্চিত বলা না গেলেও এ কথা নিশ্চিত, ইউরোপ সুগন্ধির আধুনিক ব্যবহার শিখেছে মূলত আরবের মুসলমানদের কাছ থেকে।

ঐশ্বরিক শহর জেরুসালেমকে মুসলমানদের কাছ থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে পোপের নেতৃত্বে যে ধর্মযুদ্ধ শুরু করে ইউরোপ, তার মাধ্যমে মুসলমানদের কাছাকাছি আসার সুযোগ তৈরি হয় তাদের। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে ধর্মযোদ্ধারা আরবের সুগন্ধি নিয়ে বাড়ি যেতেন। সুগন্ধির সঙ্গে মূলত ব্যাপক আকারে এভাবেই তাদের পরিচয় হয়।

ইউরোপে আরবের সুগন্ধি প্রবেশের আরেকটি বড় দরজা হিসেবে কাজ করে আন্দালুসিয়া। গ্রানাডায় মুসলমানদের শাসনের মাধ্যমে ইউরোপীয়রা আরব্য শিল্প-সংস্কৃতি, মুসলমানদের রুচি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হয়। আরবের ঘ্রাণ তাদের মোহিত করে।

আন্দালুসিয়ার বিখ্যাত আরব চিকিৎসক, সার্জন ও রসায়নবিদ আল-জাহরাবি (আবুল কাসিম খালাফ ইবনে আল-আব্বাস আল-জাহরাবি আল-আনসারি, ৯৩৬-১০১৩ খ্রিস্টাব্দ) লিখিত ‘দ্য মেডিসিন অব বিউটি’ বইটি ইউরোপ হাতের নাগালে পেয়ে পুরোপুরি কাজে লাগায়। কর্ডোভার এই বিজ্ঞানীকে বলা হয় ‘ফাদার অব সার্জারি’। তার লিখিত ‘আদয়ুয়িয়াত আল-জিনাহ’ বা ‘মেডিসিনি অব বিউটি’তে তিনি প্রসাধনকে ওষুধের একটি শাখা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই বইয়েই সুগন্ধি সম্পর্কে তার বিস্তারিত চিন্তা বিবৃত হয়েছে। সুগন্ধিকে গোলাকার লাঠির আকৃতি দেওয়ার চিন্তা তার। আজ যে লিপিস্টিক বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তার উদ্ভাবকও আল-জাহরাবি।

একাদশ শতকে ইউরোপে আরবের সুগন্ধির মোটামুটি আগমন ঘটে। মুসলমানদের সঙ্গে মিলে দ্বাদশ শতকে ইউরোপীয়রা বাণিজ্যিকভাবে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করে। কুইন এলিজাবেথ অব হাঙ্গেরি (১২০৭-১২৩১ খ্রিস্টাব্দ) ইউরোপে সুগন্ধি বা পারফিউমকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এলিজাবেথের ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়। ২০ বছর বয়সেই তিনি বিধবা হয়ে যান। বেঁচে থাকেন মাত্র ২৪ বছর। তার নির্দেশনায় সর্বপ্রথম সুগন্ধি তেলের সঙ্গে এলকোহল মিশিয়ে পারফিউম তৈরি করা হয়। তার এই সুগন্ধি ‘হাঙ্গেরি ওয়াটার’ নামে পরিচিতি পায়। বলতে গেলে এর পর থেকেই সারা ইউরোপে এলকোহলনির্ভর সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে।

আরবের সুঘ্রাণে রুচিশীল ইউরোপীয়রা মেতেছিল। শেক্সপিয়রের নাটকেও তাই পাওয়া যায় আরব্য সুগন্ধির কথা। লেডি ম্যাকবেথের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়: Here’s the smell of the blood still. All the perfumes of Arabia will not sweeten this little hand. Oh, Oh, Oh!

বাঙালিদের কাছে লোবান শব্দটি অপরিচিত নয়। আর কিছু না হোক, লোবান যে একটি সুগন্ধির নাম, তা সবার জানা। পৃথিবীর সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে এটি উৎপন্ন হয়ে থাকে। লোবান নানা কিসিমের হয়। লোবান বিশেষজ্ঞ ও ওমান সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডক্টর আহমদ ইবনে সুলায়মান আল-হারাসি দুই বছর আগে আল-আরাবিয়া ডটনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, অন্তত ১৯ প্রকারের লোবান রয়েছে। যার মাঝে সাত প্রকারের দুর্লভ লোবান গাছ রয়েছে।

লোবানের রেজিন সংগ্রহ করা হয় যে গাছ থেকে, তার নাম বসওয়েলিয়া স্যাকরা। কাঁটাদার এই গাছ দেখতে অনেকটা তেঁতুল গাছের মতো। উচ্চতায় যদিও অনেক ছোট। পাতাও তেঁতুলপাতার মতোই। পেকে গেলে এর কাঁটা ও পাতা লাল হয়ে যায়। গোলাকার লাল রঙের ফল হয়। গাছ থেকে যে আঠা বের হয়, তাকেই লোবান বলে। গাছের গায়ে আঁচড় দিলে এই আঠা বের হয় এবং বাতাসের কারণে জমে যায়। লোবান যত বেশি ধকধবে সাদা হবে, ততই দামি। এই গাছের সন্ধান পাওয়া যায় ইয়েমেন, দক্ষিণ ওমান, ইথোওপিয়া, সুদান, সোমালিয়া, মাদাগাস্কার, ভারত ও দক্ষিণ চীনের কোনো কোনো এলাকায়।

তবে বিশ্বের সেরা লোবান সংগ্রহ করা হয় দক্ষিণ ওমানের পাহাড়ি অঞ্চল জাফফার থেকে। এক টুকরা উৎকৃষ্টমানের লোবানের ঘ্রাণ কয়েক হাজার বছর ধরে অটুট থাকে। বিশেষজ্ঞরা তুতেনখামেনের মমি আবিষ্কারের পর তাতে যে সুবাস পান, তা ছিল টাটকা লোবানের ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ অন্তত তিন হাজার বছরের পুরনো।

শুরুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা হতো ধূপের মাধ্যমে

শুরুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা হতো ধূপের মাধ্যমে

দক্ষিণ ওমানের জাফফারের পাহাড়ি অঞ্চল। আকাশে উজ্জ্বল চাঁদ। লোবানের ঘ্রাণে ম ম করছে চারপাশ। বাগানের গাছের ডালের ফাঁক দিয়ে গলে গলে পড়ছে শুভ্র আলো। কাফেলার সওদাগরদের সতর্ক দৃষ্টি শাজারাতুত দুরের ওপর। অপরূপ সুন্দরী। চেহারায় বুদ্ধির ছাপ। এই মূল্যবান তুর্কি নারীকে একবার দাসী হিসেবে বাজারে তুলতে পারলে সোনার দিনারের অভাব হবে না। কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে। আমির-উমারারা কেনার জন্য একের পর এক দিনারের থলে ছুঁড়ে মারতে দ্বিধা করবেন না। তার ওজনের সমান সোনা দিয়ে হলেও এই সুন্দরীকে পেতে চাইবে যে কেউ।

সওদাগর যখন এসব ভাবছেন, তখন চাঁদের আলোয় হিরের মতো জ্বলতে থাকা জ্যোতিষীকন্যা পিতার দেওয়া বিশেষ সৌভাগ্যের বস্তুটি হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে। চোখ তার নক্ষত্রের ওপর। লোবানে আকুলকরা ঘ্রাণ যেন তাকে নিরুদ্বিগ্ন করে রেখেছে। কিন্তু বাইরে থেকে যাই দেখা যাক না কেন, সুন্দরী শাজারাতুত দুর তারা দেখে গুনে নিচ্ছেন—শুভ সময় কখন। জন্মের পর মেয়ের মাঝে সৌন্দর্য আর সৌভাগ্যের আলামত দেখতে পেয়ে জোতিষী পিতা মেয়ের নাম দিয়েছিলেন শাজারাতুত দুর বা মনিমুক্তোর বৃক্ষ। সেই মেয়ে আজ নিকৃষ্ট দাস ব্যবসায়ী সওদাগরদের হাতে বন্দী হয়ে বাজারে ওঠার অপেক্ষায়।

শাজারাতুত দুর অপেক্ষা করছেন, কখন সওদাগর পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধির বাগানে বসে আরবের আভিজাত্যের প্রতীক জাফফারের শরাব পান করে শরীর ঢিলে করে ঘুমের কোলে হারিয়ে যাবেন। এর মাঝে নক্ষত্রের মাধ্যমে যদি পিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়, তাহলে জাদুকর তালমুশ তাকে কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করলেও করতে পারেন।

শাজারাতুত দুর কি পালাতে পেরেছিলেন? লোবানের বাগানে কি জাদুকর তালমুশ তাকে কোনো সাহায্য করেছেন? জানতে হলে পড়তে হবে উর্দু কথাসাহিত্যিক রিয়াজ ফরসবির উপন্যাস ‘শাজারাতুত দুর’। বইটি খুব সম্ভবত এক যুগ আগে পড়েছিলাম। ওপরের লেখাটুকু স্মৃতি থেকে নিজের মতো লেখা। উপন্যাসটি হাতের কাছে নেই বলে সেখান থেকে হুবহু তুলে দিতে পারলাম না।

লোবান, জাফফার বা শাজারাতুত দুর—এ কয়টি শব্দ মনে পড়লেই রিয়াজ ফরসবির সেই উপন্যাসের শুরুর পৃষ্ঠাটির কথা মনে পড়ে যায়। শাজারাতুত দুর পরবর্তীকালে মামলুক সালতানাতের আমলে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হিসেবে নাম লিখিয়ে মিশরের সম্রাজ্ঞী হয়েছিলেন।

দক্ষিণ ওমানের জাফফারের পাহাড়ি অঞ্চল এখনো দুনিয়ার সেরা লোবানের বাগানের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে মূল্যবান প্রজাতির লোবান বলে পরিচিত ‘হোজারি’ লোবান শুধু এই জাফফারেই পাওয়া যায়। খিস্টপূর্ব চার হাজার বছর থেকে এখানে লোবান উৎপাদিত হচ্ছে। বাইবেলেও এ জায়গার উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের বণিকগণকে উৎকৃষ্ট লোবান সংগ্রহের জন্য এখানেই আসতে হতো। এজন্য জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই জায়গাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত করে বলেছে, বহু শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলে লোবানের ব্যবসা চলে আসছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে যেসব বাণিজ্যের সন্ধান পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম এখানকার এই ব্যবসা।

রোমান ইতিহাসবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানী প্লিনি দ্য এল্ডার (২৩-৭৯ খ্রিস্টাব্দ) লিখেছেন, এই লোবান ব্যবসাই দক্ষিণ আরবের বাসিন্দাদেরকে সারা দুনিয়ার ধনাঢ্য মানুষে পরিণত করেছে। সৌদি আরবের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর আহমদ আল-উবুদি বলেন, আরবের সর্বত্র রয়েছে সুগন্ধির সীমাহীন কদর। উপাসনালয় থেকে শুরু করে বসত ঘর—প্রায় সব জায়গাতেই সুগন্ধি ধূপের ব্যবহার আরবে জনপ্রিয়। এই ধূপ আরব ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ।

ওমানের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে জানান, তারা বিষধর সাপ থেকে বাঁচার জন্য লোবানের ধূপ ব্যবহার করেন। তাছাড়া ধূপ বা সুগন্ধিকে দেখা হয় পবিত্র বস্তু হিসেবে। প্রাচীন মিশরীয়রা মনে করত, লোবান হচ্ছে ঈশ্বরের পবিত্র ঘাম। জন্মের পর যিশুকে যে তিনটি জিনিস উপহার দেওয়া হয়েছিল, তার একটি ছিল লোবান।

এই ধূপের কারণে পোকা-মাকড়, মশা-মাছির হাত থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে খুব সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। জীবাণু ধ্বংসে, এমনকি মহামারি রোধেও লোবান ব্যবহার হয়। তাছাড়া লোবান হচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক। ১৯২২ সালে ফারাওরাজ তুতেনখামেনের মমি থেকে যে সুবাস বেরিয়েছিল, তাতেও ছিল লোবান। পাওয়া গিয়েছিল লোবানের তৈরি মলমের অস্তিত্ব। এ থেকেই বোঝা যায়, লোবানের ব্যবহারকারীরা অভিজাত ও ক্ষমতাবান।

লোবান অ্যারোমাথেরাপি, ওষুধ ও প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার হয়। কার্যকারিতা, মান, সুবাস, আভিজাত্য এবং চাহিদা ও প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনের স্বল্পতার কারণে লোবান আজও স্বর্ণের চেয়ে দামি।লোবানকে বলা হয় ‘কিং অব দ্য এসেন্সিয়াল ওয়েল’। বসওয়েলিয়া স্যাকরা গাছের ছাল, জটপাকানো ডাল ও পাতাগুচ্ছ থেকে আঠা বের করে তা থেকে উন্নতমানের রেজিন বের করে আনা হয়। এ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় লোবানের সুগন্ধি তেল। এই তেল ত্বক, মস্তিষ্ক এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। গর্ভকালীন কষ্ট থেকে বাঁচতে এবং মেধাবী সন্তান প্রসবের জন্য আরবের গর্ভবতী মায়েরা লোবান গ্রহণ করে থাকেন। লোবান ও মিরাহ (এক প্রকার বৃক্ষজ আঠা) পুড়িয়ে, গুঁড়ো করে ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করা হয়। মিশরীয় নারীরা লোবানকে ঘন সুগন্ধি কাজল হিসেবে ব্যবহার করে।

ক্রিস্টোফার পিবেকার লিখেছেন, আধুনিককালে ব্যথানাশক বা রক্তক্ষরণ রোধে যেভাবে অ্যাসপিরিন, পেনিসিলিন ও ভায়াগ্রার ব্যবহার হচ্ছে, প্রাচীনকালে তেমনি নানা চিকিৎসায় ব্যবহার হতো লোবান। পাইলস, ঋতুস্রাবের ব্যথা ও মেলানোমার প্রতিষেধক হিসেবে এটি ব্যবহার করা হতো।

গ্রিক সেনাবাহিনীর চিকিৎসক পেডানিয়াস ডায়োসোর্সাইডস লোবানকে এক বিস্ময়কর ওষুধ বলে উল্লেখ করে লিখেন, লোবানের আঠালো রেজিন আলসারের ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে কিংবা বাজেভাবে ভেঙে যাওয়া হাড় একসঙ্গে জুড়ে দিতে পারে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব লাইপজিগ-এর লাইব্রেরিতে থাকা প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ‘দ্য ইবারস প্যাপিরাস’-এ (১৫৫০ খ্রিস্টপূর্ব) লোবানকে শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ, গলার সংক্রমণ এবং বমি-বমিভাব দূর করার প্রতিষেধক বলা হয়েছে। এছাড়াও মিশরীয়রা শরীরে গভীর লোমকূপ পরিষ্কার করার জন্য সারা গায়ে নেইত্রনের সঙ্গে লোবান মালিশ করে।

এন্টি-ব্যাকটেরিয়ার উপাদান ও রক্তসঞ্চালনের চিকিৎসা হিসেবে আজও ব্যবহার হচ্ছে লোবান ও মিরাহ। গ্রিক চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসের শিক্ষক এলেইন তোয়েইদ বলেন, ‘ফাদার অব মেডিসিন’খ্যাত গ্রিক চিকিৎসক কস হিপোক্রেটস (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০-৩৭০ অব্দ) মিরাহকে অন্য যেকোনো ঔষুধী উদ্ভিদের চেয়ে অধিক কার্যকরি লিখে গেছেন।

বর্তমানে চিকিৎসাবিদগণ কর্তৃক লোবান এন্টিসেপটিক, এন্টি-ইনফ্ল্যামাটোরি এবং ব্যথানাশক ঔষুধী উপাদান হিসেবে স্বীকৃত। বদহজম, পুরনো কাশি, অর্শ্বরোগ এবং শ্বাসকষ্টের ওষুধ হিসেবে লোবান ব্যবহৃত হচ্ছে। গত দুই দশকের ধারাবাহিক ক্লিনিকাল ও ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গেছে, লোবান ও মিরাহ কয়েকটি নির্দিষ্ট অসুখের প্রতিষেধক হিসেবে ভালো অবদান রাখছে। ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালের দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসার, অ্যালসেরাটিভ কোলাইটিস, দুশ্চিন্তা ও অ্যাজমা রোগের চিকিৎসায় লোবান উপকারী।

কৃতজ্ঞতা : দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ট

The post আরবের লোবান, দুনিয়া মাতানো জাদুকরি সুগন্ধি appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/ 0 1309
মিশরীয় পরাক্রমশালী রানীর সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6/ https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6/#respond Thu, 23 Jul 2020 17:52:36 +0000 https://rongpencil.net/?p=1303 রিয়াজ মাহবুব: কথিত আছে মিশরীয় রানী ক্লিওপেট্রার সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ ছিল। প্রায় ১ হাজার ৪শ বছর পর ভূমধ্যসাগরের গভীরে পাওয়া যায় প্রাসাদের অস্তিত্ব। মাত্র ৩৯ বছরের জীবনে ক্লিওপেট্রা তার সৌন্দর্য, মোহনীয়তা, ক্ষমতা আর প্রচন্ড উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন নিয়ে প্রাচীন মিশরের আলোচিত এক নাম ছিল। তাকে সর্বকালের সেরা নারী শাষকদের অন্যতম বলেও দাবী করেন কেউ কেউ। ...

The post মিশরীয় পরাক্রমশালী রানীর সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রিয়াজ মাহবুব: কথিত আছে মিশরীয় রানী ক্লিওপেট্রার সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ ছিল। প্রায় ১ হাজার ৪শ বছর পর ভূমধ্যসাগরের গভীরে পাওয়া যায় প্রাসাদের অস্তিত্ব। মাত্র ৩৯ বছরের জীবনে ক্লিওপেট্রা তার সৌন্দর্য, মোহনীয়তা, ক্ষমতা আর প্রচন্ড উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন নিয়ে প্রাচীন মিশরের আলোচিত এক নাম ছিল। তাকে সর্বকালের সেরা নারী শাষকদের অন্যতম বলেও দাবী করেন কেউ কেউ। ফলে নারী শাষককে নিয়ে মিথ আর লোককথার ফুলছড়ি হরহামেশায় শোনা যায়। সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাদ সেই মিথের অংশ কিনা, সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রায় দেড় হাজার বছর।

মিসর কাঁপানো এই ক্ষমতাধরকে নিয়ে ইতিহাস বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার তাকে ঘিরে লিখেছেন হাজার হাজার পৃষ্ঠা। মঞ্চে উঠেছে তার ট্র্যাজেডি। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্র’, জর্জ বার্নাড শর ‘সিজার ক্লিওপেট্রা’, জন ড্রাইডেনের ‘অল ফর লাভ’, হেনরি হ্যাগাডের ‘ক্লিওপেট্রা’। শুধু তার সময়েই নয়, এখনো ইতিহাস কাঁপানো এ কিংবদন্তী নারী বহু পুরুষের কাছেও আকাঙ্খিত।
অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৫১ অব্দে রোম সম্রাট টলেমি অলেতিস মারা যান। এই বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার কে হবেন সে নিয়ে চারদিকে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে তিনি বেছে নেন ক্লিওপেট্রা ও তার পুত্র টলেমিকে। ক্লিওপেট্রার রাজ্য শাসন নিয়ে স্পষ্ট করে অনেক কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ক্লিওপেট্রার বুদ্ধিমত্তা আর সৌন্দর্যের কথা তখন রাজ্য থেকে রাজ্যে ছড়িয়ে গেছে। লোকমুখে সে কথা অ্যান্টনির কানেও পৌঁছেছিল। অ্যান্টনি চাইলেন যে কোনোভাবেই হোক ক্লিওপেট্রার সঙ্গে দেখা করবেন। রোম থেকে অ্যান্টনি এলেন ক্লিওপেট্রার রাজকীয় প্রাসাদে। এ মিথ কে না জানে, প্রথম দেখাতেই ক্লিওপেট্রার মন জিতে নেন অ্যান্টনি। অবশ্য কারও কারও মতে মিসর আক্রমণ করতে এসে ক্লিওপেট্রার প্রেমে পড়ে যান রোমান বীর অ্যান্টনি। সে যাই হোক, প্রেমের আগুনে তখন পুড়ছেন দুজনেই। এদিকে হিসাব বেশ পাল্টে গেছে। ক্লিওপেট্রা শুধু প্রেমই পেলেন না, সঙ্গে মুফতে পেয়েছেন সিংহাসন রক্ষায় এক পরাক্রমশালী বীরের সমর্থন।

একদল ডুবুরি হঠাৎ করেই পেয়ে যান ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ

একদল ডুবুরি হঠাৎ করেই পেয়ে যান ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ

ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে সেই কৌতূহলের শেষ নেই আজও। এখনো আগ্রহীরা খোঁজ করেন তার চিহ্নটুকু। ক্লিওপেট্রা এবং তার শাসন পদ্ধতি সবই যেন রহস্যময়। ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ এবং সাম্রাজ্যের বড় অংশ এখন ঘুমিয়ে আছে ভূমধ্যসাগরের নিচে। গ্রিক ঐতিহাসিক স্ত্রাবোর লেখায় জানা যায় ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ছিল মিসরের অ্যান্তিরহোদোস দ্বীপে। এই দ্বীপের অস্তিত্ব বহুদিন আধুনিক পৃথিবী জানতে পারেনি। শেষতক জানা গেল, খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প এবং সুনামিতে ক্লিওপেট্রার প্রাসাদসহ এই দ্বীপটিকে গ্রাস করে নিয়েছে ভূমধ্যসাগর। প্রায় এক হাজার ছয়শ বছর আগে ভূমিকম্প ও সুনামিতে তলিয়ে যায় আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত বাতিঘরও।তখনই নিশ্চিত হওয়া যায় রানীর সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাস ছিল না। এটা কালের পরিক্রমায় ধ্বংস হয়েছে। সাগর তলে ডুবে গেছে।

সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ

সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ

মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার একদল ডুবুরি হঠাৎ করেই পেয়ে যান ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। এই ডুবুরি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ফ্রান্সের প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্র্যাঙ্ক গর্ডিও। ১৯৯০ থেকে তারা সাগর চষে বেড়ান শুধু ক্লিওপেট্রার হারিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের খোঁজে। ১৯৯১ সালের ২৩ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরের গভীরে পাওয়া যায় ক্লিওপেট্রার প্রাসাদের অস্তিত্ব। কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে বলা হলো, এই প্রাসাদ তৈরি হয়েছিল রানীর জন্মেরও ৩০০ বছর আগে। দেখা গেল পানির অতলে ঘুমিয়ে আছে প্রাচীন নগরী, লাল রঙের মিসরীয় গ্র্যানাইটে তৈরি দেবী আইসিসের মূর্তি ক্লিওপেট্রার পরিবারের সদস্যদের মূর্তি প্রচুর অলঙ্কার বাসনপত্র এবং স্ফিংক্সের দুটি মূর্তি। রয়েছে সে সময়ের মুদ্রা থেকে শাসকদের মূর্তি। ডুবুরিরা তুলেও এনেছেন মিসরের শেষ রানী ক্লিওপেট্রার রাজ্যের অনেক মূর্তি, মুদ্রা ইত্যাদি। প্রত্নতত্ত্ববিদ গর্ডিও ও তার দল ক্লিওপেট্রা এবং তার প্রেমিক জুলিয়াস সিজারের ছেলে সিজারিয়ানের মাথার পাথরের মুকুট উদ্ধার করে। সাগরের নিচে প্রায় এক হাজার ৪০০ বছরের বালি আর কাদা মাখা ইতিহাসের অমূল্য এই দলিলের বেশ কিছু নিদর্শন তুলে আনা হয়েছে জনসমক্ষে। কিন্তু প্রতিকূলতার জন্য বেশির ভাগই রয়ে গেছে পানির নিচে।

The post মিশরীয় পরাক্রমশালী রানীর সাগরতলে গুপ্ত রাজপ্রাসাদ appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6/feed/ 0 1303
প্রিন্সেস ডায়ানা, দাপুটে রাজবধূর রহস্যময় মৃত্যু https://rongpencil.net/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%87/ https://rongpencil.net/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%87/#respond Mon, 20 Jul 2020 18:00:02 +0000 https://rongpencil.net/?p=1296 টি চৌধুরী: প্রিন্সেস ডায়ানা ইংল্যান্ডের রাজবধূ তো বটেই, ছিলেন তৎকালীন ফ্যাশন আইকনদের অন্যতম। পাশাপাশি দেশ থেকে দেশে ছুটে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার পরকীয়া ও গোপন প্রেমের গুজব। নাম, খ্যাতি, জশ ও বদনাম নিয়ে হঠাৎ একদিন প্রাণ হারান প্রিন্সেস অব ওয়েলস। তার ...

The post প্রিন্সেস ডায়ানা, দাপুটে রাজবধূর রহস্যময় মৃত্যু appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
টি চৌধুরী: প্রিন্সেস ডায়ানা ইংল্যান্ডের রাজবধূ তো বটেই, ছিলেন তৎকালীন ফ্যাশন আইকনদের অন্যতম। পাশাপাশি দেশ থেকে দেশে ছুটে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার পরকীয়া ও গোপন প্রেমের গুজব। নাম, খ্যাতি, জশ ও বদনাম নিয়ে হঠাৎ একদিন প্রাণ হারান প্রিন্সেস অব ওয়েলস। তার কোটি ভক্ত ও অনুরাগিরা এখনো ডায়নার মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। এর নেপথ্য কারণও আছে। ফলে ডায়নার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য। যার কুলকিনারা বের করা আজও সম্ভব হয়নি।

ডায়ানাকে দেখে প্রেমে পড়েননি এমন বোধহয় কমই ঘটেছে। রাজপুত্র চার্লসের ক্ষেত্রেও তাই ঘটল। আর রাজপুত্রকে কে ফিরিয়ে দেবে? তারই সূত্র ধরে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে বাজে বিয়ের ঘণ্টা। রাজবধু হয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করেন ডায়ানা। ইতিহাস বলে, ৩০০ বছরের ইতিহাসে প্রিন্সেস ডায়ানা হলেন প্রথমজন যিনি রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে সরাসরি বিয়ে করলেন। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার বিয়ের দৃশ্য ৭৪টি দেশে সম্প্রচার করা হয়। যা ৭৫০ মিলিয়ন মানুষ উপভোগ করেন।

প্রিন্স চার্লস আর ডায়ানা প্রণয়ের পর রাজকীয় জাহাজ ব্রিটানিয়াতে চড়ে হানিমুন করলেন তারা। এরপর দিন পেরোতে থাকল। কিন্তু সময় চলতে চলতে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিল। শুরুর দিকে মানিয়ে চলা তারপর বাড়ল তিক্ততা। কেউ কেউ বলতে থাকল ভালো নেই এই দম্পতি। প্রিন্স চার্লস নাকি আজকাল ডায়ানাকে সময় দেন না। এ নিয়ে ভিতরে ভিতরে কলহ বাধছিল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকল। প্রিন্সেস চার্লসের দিকে যখন অপরাধী হওয়ার আঙ্গুল ওঠে, তখন ডায়ানাকে জড়িয়েও কথা ওঠে। দুজনেই দুজনকে সন্দেহ করতে থাকলেন। এভাবে কেটে যায় প্রায় সাত বছর। দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম আর হ্যারির জন্মের পর তিক্ততা আসে তাদের সম্পর্কে।

প্রিন্সেস ডায়ানা প্রথমজন যিনি রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে সরাসরি বিয়ে করেন

প্রিন্সেস ডায়ানা প্রথমজন যিনি রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে সরাসরি বিয়ে করেন, ছবি : ইন্টারনেট

১৯৮৯ সালের প্রথম দিকের ঘটনা। সাইরিল রিনান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং জেন নরগোভ নামে আরেকজন মিলে গোপনে আড়ি পেতে ডায়ানা ও জেমস গিলাবের কথাবার্তা রেকর্ড করেন। গিলাব ছিলেন ডায়ানার বিয়ে-পূর্ব জীবনের বয়ফ্রেন্ড। আর এই কথোপকথনটি ওই সময়ের। ক্যাসেট প্রকাশের পর সারা বিশ্বে আলোড়ন ওঠে। কেঁপে ওঠে রাজপ্রাসাদও। তবে উল্টো প্রিন্স চার্লস নিজেও একেবারে অভিযোগহীন ছিলেন না। তাকে ঘিরেও কেলেঙ্কালি ছড়ায়। স্ত্রীকে পাশে রেখেই চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছিলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে। বিষয়টি টের পেয়েছিলেন ডায়ানা। ডায়ানা গিলাবে সংলাপের দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা এটি। ডায়ানা গিলাবের সংলাপ ছিল প্রেমাকুতিতে ভরা। কিন্তু চার্লস আর ক্যামিলার কথোপকথন ছিল যৌনাবেদনে ভরপুর।

এসব নিয়ে সংসার আর চলছিল না। ঘরে অশান্তির, বাইরে মিডিয়ার বাড়াবাড়ি। সব মিলিয়ে তাদের একসঙ্গে সংসার করা কঠিন হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালের ৯ ডিসেম্বর ডায়ানা ও চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা থাকার ঘোষণা দেন।বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটানোর পর ডায়ানার সঙ্গে এক মিসরীয় ধনকুবেরের প্রেমের কথা জানাজানি হয়। তাদের ছুটি কাটাতে গিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব মিডিয়া। মিসরীয় ধনকুবেরের নাম দোদি আল ফাহাদ। পাপারাজ্জিদের তাড়া খেয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার সঙ্গে দোদি আল ফাহাদও মারা যান।

ক্যামেরার চোখ সব সময় খুঁজত ডায়ানাকে। যেখানেই যেতেন সেখানেই ওতপেতে তাকা ক্যামেরাম্যানদের আলোর ঝলক চোখ ধাঁধিয়ে দিত ডায়ানা। এই ক্যামেরা অত্যাচার চালাত পাপারাজ্জিরা। তারাই ডায়ানার ব্যক্তিগত জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। বছরের পর বছর ডায়ানাকে তাড়া করে ফিরছিলেন তারা। বিয়ের পর ডায়ানা কার সঙ্গে প্রেম করছেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের ছবি তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাপারাজ্জির দল। পাপারাজ্জিদের চোখ ফাঁকি দিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার চেষ্টা ছিল ডায়ানার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

ডায়ানা ছিলেন তৎকালীন ফ্যাশন আইকনদের অন্যত ‍

ডায়ানা ছিলেন তৎকালীন ফ্যাশন আইকনদের অন্যত ‍, ছবি : ইন্টারনেট

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট পাপারাজ্জিদের তাড়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ব্রিটেনের সুন্দরী রাজপুত্রবধূ ডায়ানা ও তার প্রেমিক। ডায়ানা ও দোদি কালো রঙের মার্সিডিজ এস২৮০ গাড়িতে ছিলেন। প্যারিসের রিজ হোটেল থেকে বের হয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি ছোটান গাড়ি চালক। গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন হোটেলটির নিরাপত্তা বিভাগের উপ প্রধান হেনরি পল। প্যারিসের পন্ট-ডি-আলমা রোড টানেল পাড় হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। দোদি-ডায়ানাকে বহনকারী মার্সিডিজ গাড়িটি ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে আঘাত করে টানেলের ১৩তম স্তম্ভকে। কংক্রিটের এ স্তম্বের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পরিণামে গাড়িটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা, তার বন্ধু দোদি ও গাড়িচালক হেনরি পল।

ডায়ানার মৃত্যুর পরই নানা রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় বন্ধু দোদি আল-ফাহাদসহ তার মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের হাতে আসা কিছু তথ্য বলছে, হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন আলোচিত এই রাজবধূ। বিবিসি, গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ এ ধরনের ইঙ্গিত দেয় এমন বেশ কয়েকটি খবর প্রকাশ করে। দোদির বাবা মোহাম্মদ ফায়েদও চেষ্টা করেছিলেন ওই দুর্ঘটনাটিকে হত্যাকান্ড বলে প্রমাণের। ফরাসি পুলিশ দাবি করেছিল, গাড়ি চালক হেনরি পল মাত্রাতিরিক্ত মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে সে অভিযোগের বিপক্ষে দাঁড়ায় দোদির পরিবার।

এ ছাড়াও প্রশ্ন রয়েছে  নানা বিষয়ে। যেমন রহস্যজনকভাবে কখোনই মার্সিডিজ কোম্পানি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেনি। মারাত্মকভাবে আহত ডায়ানাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিতে ৭৫ থেকে ৯৫ মিনিট লেগেছে। প্যারিসের ব্যস্ত মুহূর্তে দুর্ঘটনাস্থল থেকে এ হাসপাতালে পৌঁছাতে বড়জোর ১১ মিনিট লাগার কথা। তাছাড়া মৃত্যুর কয়েক মাস আগে বিবিসির প্যানোরমা অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন ডায়ানা। তার সঙ্গে এই দুর্ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কিনা এমন সংশয় পোষণ করেন অনেকে। তবে এ সবই ধারণাপ্রসূত আশঙ্কা। ডায়ানার মৃত্যু হত্যা নাকি নিছকই দুর্ঘটনা তা আজও রহস্যই রয়ে গেছে। ডায়ানার মৃত্যুর পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এই রহস্যের সমাধান হয়নি।

আরও পড়ুন- হিলারি ক্লিনটন : আমেরিকানরা যাকে ইতিহাস গড়তে দেয়নি

কিছু তথ্য বলছে, হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন  ডায়ানা

কিছু তথ্য বলছে, হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন ডায়না, ছবি : ইন্টারনেট

বিয়ের আগে প্রিন্সেস ডায়ানাকে অনেকে লেডি ডায়ানা নামেও ডাকতেন। তখন তার আসল নাম ছিল ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার। এরপর তাকে ‘হার রয়াল হাইনেস দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ বলে ডাকা হয়। কিন্তু রাজপুত্রের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর রানীর একান্ত অনুমতিতে তাকে শুধু দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডাকা হয়। তার অন্তেষ্টিক্রিয়ার সম্প্রচারে ২.৫ বিলিয়ন দর্শকের নজর ছিল।

The post প্রিন্সেস ডায়ানা, দাপুটে রাজবধূর রহস্যময় মৃত্যু appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%87/feed/ 0 1296
বোটানিক্যাল গার্ডেন : বাংলাদেশের জীবন্ত উদ্ভিদের একমাত্র সংগ্রহশালা https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82/#respond Sat, 18 Jul 2020 17:18:11 +0000 https://rongpencil.net/?p=1289 রিয়াজ মাহমুদ : বোটানিক্যাল গার্ডেন বা জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে দেশি-বিদেশি, দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় এক হাজার প্রজাতির প্রায় ৬৮ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। রয়েছে ৩’শ প্রজাতির গোলাপ, ক্যাকটাস, অর্কিড, আমাজান লিলি, গর্জন, আকাশমণি, পাইন, বাঁশ, পাম, মৌসুমি এবং ঔষধি গাছ। সঙ্গে বনসাইয়ের বিপুল সমারোহ। তাই বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা হিসাবে পরিচিত। রাজধানী শহর ঢাকার ...

The post বোটানিক্যাল গার্ডেন : বাংলাদেশের জীবন্ত উদ্ভিদের একমাত্র সংগ্রহশালা appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রিয়াজ মাহমুদ : বোটানিক্যাল গার্ডেন বা জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে দেশি-বিদেশি, দুর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় এক হাজার প্রজাতির প্রায় ৬৮ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। রয়েছে ৩’শ প্রজাতির গোলাপ, ক্যাকটাস, অর্কিড, আমাজান লিলি, গর্জন, আকাশমণি, পাইন, বাঁশ, পাম, মৌসুমি এবং ঔষধি গাছ। সঙ্গে বনসাইয়ের বিপুল সমারোহ। তাই বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা হিসাবে পরিচিত।

রাজধানী শহর ঢাকার মিরপুরে বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপনের কাজ শুরু হয় ১৯৬২ সালে। সত্তরের দশকে এতে বিদেশি গাছের বীজ, চারা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়। বিচিত্র সব শাপলা, পদ্ম পুকুর, ভেষজ উদ্ভিদের বাগান, বাঁশবাগান, গোলাপ বাগান ইত্যাদি স্থাপনার কাজসহ অন্যান্য দুষ্প্রাপ্য বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহ করা হয়।

বর্তমানে ৮৪.২ হেক্টর (২০৮ একর) জায়গায় বিরল প্রজাতির গাছপালা নিয়ে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেন) এখন একটি জীবন্ত সংগ্রহশালা। এ ছাড়া এই উদ্ভিদ উদ্যানে প্রায় ৬০ প্রজাতির বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সংগ্রহ রয়েছে। এদের মধ্যে বাঁশপাতা, চন্দন, রাজা অশোক, ক্যামেলিয়া, আমাজান লিলি, আগর, রামবুটাম, তমাল, ভূর্জপত্র, উদল, স্টারকুলিয়া, ক্যাকটাস, অর্কিড অন্যতম।

বোটানিক্যাল গার্ডেন এ আঁকাবাঁকা কৃত্রিম লেক সৃষ্টি করা হয়েছে। লেকের মাঝখানে রয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ, তাতে বাহারি উদ্ভিদ বাগান তৈরি করা হয়েছে। শীতকালে বোটানিক্যাল গার্ডেনে দেখতে পাওয়া যায় শ’ শ’ অতিথি পাখি।

২০৮ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা উদ্যানের সীমানা প্রাচীর সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে অর্কিড ঘর, ক্যাকটাস ঘর, গোলাপ বাগান, মৌসুমি ফুলের বাগান, জলাশয়, পদ্মপুকুর, শাপলা পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৬৮ হাজার উদ্ভিদের বাগান।

বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা

বোটানিক্যাল গার্ডেন বাংলাদেশের একমাত্র জীবন্ত উদ্ভিদ সংগ্রহশালা, ছবি : ইন্টারনেট

আরও পড়তে পারেন-কাপ্তাই লেক: দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট লেক

বর্তমানে ১৩৪ উদ্ভিদ পরিবারভুক্ত ১১০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে উদ্যানে। এগুলোর মধ্যে ৩০৬ প্রজাতির ৩৩ হাজার ৪১৩টি বৃক্ষ, ২০১ প্রজাতির ১৩ হাজার ৯২টি গুল্ম, ৬২ প্রজাতির ১ হাজার ১৯০টি লতা জাতীয় গাছ আছে। অস্ট্রেলিয়ার সিলভার ওক, জাকারান্ডা ও ট্যাবে বুইয়া, জাপানের কর্পূর, মালয়েশিয়ার ওয়েল পাম, থাইল্যান্ডের রামবুতাম তো আছেই। পাশাপাশি বোটানিক্যাল গার্ডেন- এ দেখা যায় কর্পূর, ম্যাগনোলিয়া, শ্বেত চন্দন, গিলরিসিডিয়া, ফার্ন কড়ই, তুন, কেশিয়া নড়ুসা, ট্যাবেবুইয়া ও চেরি গাছ। আরও দেখা যায় ওল্ডম্যান, ফিশহুক ক্যাকটাস, ম্যামিলারিয়া, ক্ষেপালিয়া, মেলো ক্যাকটাস, গোল্ডেন ব্যারেল, সিরিয়াম হেক্সোজেনাস, র্যাট টেইল, আপাংসিয়া সিডাম, হাওয়ার্থিয়া, পিকটোরিয়া রাখা হয়েছে স্বচ্ছ কাচঘরে। উদ্যানের গোলাপ বাগানের ভেতর শান বাঁধানো জলাধারে আছে ব্রাজিলের জলজ উদ্ভিদ আমাজান লিলি।

৫৭টি সেকশনে বিভক্ত এ উদ্যানে আছে বিচিত্র প্রজাতির উদ্ভিদ। উদ্যানের মধ্যে রয়েছে ৩ দশমিক ৫ একর এলাকায় ২০০ প্রজাতির গোলাপের বাগান, পাইন বাগান, দেশি এবং বিদেশি প্রজাতির ফলগাছের বাগান। বাঁশ বাগানে আছে ২২ প্রজাতির বাঁশ। আছে পামগাছের বাগান, মৌসুমি বাগান, ওষুধি গাছের বাগান, পদ্মপুকুর, শাপলা পুকুর, ক্যাকটাস হাউসে সংরক্ষিত আছে ৪০ প্রজাতির ক্যাকটাস, দুর্লভ প্রজাতির অর্কিড হাউস এবং ঘরে পালনযোগ্য গাছের জন্য আছে নেট হাউস। এরমধ্যে ডালিয়া, মর্নিং গ্লোরিসহ ৫২ প্রজাতির বিদেশি ফুল ছাড়া বাগানের চারপাশে আঁকাবাঁকা কৃত্রিম ক্যানেল যেন এ বাগানের সৌন্দর্য আরও বর্ধিত করেছে।

আছে নান্দনিক এক উদ্ভিদের জাত। নাম নাগলিঙ্গম। এর পরাগচক্র দেখতে সাপের মতো। অন্যরা ফোটে গাছের শাখায়, আর এই ফুল কান্ড ফুঁড়ে ছড়ার মতো বের হয়। বর্ষায় ফুলভর্তি গাছ দেখলে অনেকেরই মনে হতে পারে, কেউ বুঝি গাছের কান্ড ফুটো করে ফুলগুলোকে গেঁথে দিয়েছেন।
দ্বিজেন শর্মা তার শ্যামলী নিসর্গ বইয়ে লিখেছেন, আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন। তবে ফলের মতোই নাগলিঙ্গম গাছটির উচ্চতা ৩০ থেকে ৩৫ ফুট। সেখান থেকে আসে ঝাঁজালো গন্ধ। ফ্রান্সের উদ্ভিদবিদ জে এফ আবলেট ১৭৫৫ সালে এ গাছের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেন। উদ্ভিদবিদরা বলেন, নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়।

আছে দুষ্প্রাপ্য ও বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহ

আছে দুষ্প্রাপ্য ও বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহ, ছবি : ইন্টারনেট

নাগলিঙ্গমের ভেষজ গুণও অনন্য। ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এর নির্যাস। এই গাছ থেকে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়া দূর করে। পাতার রস ত্বকের নানা সমস্যায় কাজ দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে নাগলিঙ্গমের পাতার রস ব্যবহূত হয়।

বাংলাদেশে নাগলিঙ্গম বেশ দুর্লভ। ঢাকায় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ছাড়াও রমনা উদ্যান, কার্জন হল, বলধা গার্ডেন, নট’র ডেম কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট ও হবিগঞ্জে দু-একটি গাছ এখনো দেখতে পাওয়া যায়।

The post বোটানিক্যাল গার্ডেন : বাংলাদেশের জীবন্ত উদ্ভিদের একমাত্র সংগ্রহশালা appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82/feed/ 0 1289
বাংলাদেশের চা শিল্প : রেকর্ড উৎপাদনে বড় রপ্তানির সম্ভাবনা https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b0/ https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b0/#respond Thu, 16 Jul 2020 09:49:42 +0000 https://rongpencil.net/?p=1284 টি চৌধুরী: বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে। ফলে তলানিতে নেমেছে চা আমদানি। বেঁচে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। শতভাগ দেশিয় চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক চা বাজারের দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত তিন বছরে চা রফতানিমুখী হয়েছে। যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত) ...

The post বাংলাদেশের চা শিল্প : রেকর্ড উৎপাদনে বড় রপ্তানির সম্ভাবনা appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
টি চৌধুরী: বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে। ফলে তলানিতে নেমেছে চা আমদানি। বেঁচে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। শতভাগ দেশিয় চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক চা বাজারের দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত তিন বছরে চা রফতানিমুখী হয়েছে। যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত) উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৪৬ হাজার কেজি। ২০১৯ সালে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয় দেশে। তার আগের বছর ২০১৮ সালে দেশে ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। এই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি কেজিতে উন্নীত করতে কাজ করছে চা বোর্ড।

চায়েরর উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে চা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে। চা রফতানি করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।
১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের সময় দেশে চা বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। তখন তিন কোটি কেজির মতো চা উৎপাদন হত।

বর্তমানে সারাদেশে বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯২টি চা বাগান। বাকিগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে সাতটি, রাঙ্গামাটিতে দুটি ও ঠাকুরগাঁওয়ে একটি। এসব বাগানে মোট জমির পরিমাণ দুই লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ একর। দিনকে দিন চা বাগানের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, বাংলাদেশ চা শিল্প আরও বেশি বেগবান হয়েছে।

চা রফতানি কওে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে

চা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে, ছবি : ইন্টারন্টে

এদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডে থেকে জানা যায়, রেকর্ড উৎপাদনের নেপথ্যে রয়েছে সঠিক পরিকল্পনা ও অনুকূল আবহাওয়া। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা, খরার কবলে না পড়ায় চায়ের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে গত বছর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা থেকেও এক কোটি কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের (পিডিইউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক বলেন, ‘চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৯ কোটি কেজির বেশি চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) কেজি বেশি চা পাতার উৎপাদন হয়েছে।’

বিটিবি জানায়, ২০১৮ সালে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার (৮২.১৩ মিলিয়ন) কেজি। যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৮ কোটি ৫৫ লাখ (৮৫. ৫ মিলিয়ন) কেজি চা পাতা উৎপদিত হয়েছিল।

আরও পড়তে পারেন-বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প: ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার হাতছানি

চা বাগানবিটিবি উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমদ বলেন, ‘গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন ছিল ৯৫ মিলিয়ন কেজির ওপরে। এটিই চা উৎপাদনে রেকর্ড। চা উৎপাদনে সাফল্যের পেছনে সরকারের নানামুখী দিক নির্দেশনাগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। ঠিকমতো তদারকি, ফ্যাক্টরি থেকে চা পাতা যাতে লিকেজ হতে না পারে এবং নিলামের বাইরে যাতে বেআইনিভাবে কোথাও বিক্রি না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি ছিল। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়নে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে

বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে, ছবি : ইন্টারনেট

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বছরে ৯ কোটি কেজি। ২০১০ সাল থেকে এ চাহিদা পূরণ করতে চা আমদানি শুরু হয়। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৪ লাখ কেজি চা আমদানি হয়। ২০১৬ সালে আট কোটি ৫০ লাখ কেজি রেকর্ড উৎপাদন করে চায়ের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ।

The post বাংলাদেশের চা শিল্প : রেকর্ড উৎপাদনে বড় রপ্তানির সম্ভাবনা appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a6%b0/feed/ 0 1284
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স : সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87/ https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87/#respond Mon, 13 Jul 2020 18:32:31 +0000 https://rongpencil.net/?p=1277 রঙ পেনসিল: কথায় কথায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনা হয়। পাবলিক স্পিকার থেকে পাড়ার বড় ভাই, সবার মুখে একই কথা। ভবিষ্যতে তথ্য প্রযুক্তি থেকে অতিসাধারণ বিষয়ও এই ইন্টেলিজেন্স এর আওতাভুক্ত থাকবে। ইতোমধ্যেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এটি নিয়ে ব্যাপক ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’র দারস্থ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ...

The post আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স : সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
রঙ পেনসিল: কথায় কথায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনা হয়। পাবলিক স্পিকার থেকে পাড়ার বড় ভাই, সবার মুখে একই কথা। ভবিষ্যতে তথ্য প্রযুক্তি থেকে অতিসাধারণ বিষয়ও এই ইন্টেলিজেন্স এর আওতাভুক্ত থাকবে। ইতোমধ্যেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এটি নিয়ে ব্যাপক ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’র দারস্থ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা। এতে কম্পিউটারের মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং চিন্তা শক্তিকে অনুকরণ করণ ও অনুরসণ করা হয়। সহজ ভাষায় সংজ্ঞায়ন করলে বলা যায় যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কার্যপরিধীর একটি উদাহরণ দেই। অনেক সময় দেখা যায়, মেসেঞ্জার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইনবক্সে বন্ধুর সঙ্গে কোন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলার পর হুট করে সেটা টাইম লাইনে চলে এসে। কি করে? এই কাজটিই করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানে মানুষের ভালো লাগা, মন্দলাগা ও প্রয়োজনীয় বিষয়াদী নিয়ে বিস্তর ডাটা সংরক্ষণ করে প্রয়োজন মত তা ব্যবহার করে।ফলে অতি সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে দরকারি তথ্য  পাওয়া যায়। তাই দিনদিন এই প্রকৃয়াটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে যে কোন যন্ত্র তার পরিবেশকে অনুধাবন করতে পারে এবং লক্ষ্য অর্জন করে তার সাফল্যকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা মেশিন গুলো ক্রমবর্ধমান ভাবে সক্ষম হয়ে ওঠে। বর্তমানে যে সক্ষমতা গুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো মানুষের বক্তব্যকে বুঝতে পারে, দাবার মত কৌশলগত গেম সিস্টেম পরিচালনা করতে পারে এবং উচ্চতর স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে, স্বয়ংক্রিয় ভাবে গাড়ি চালাতে পারে, সামরিক সিমুলেশন এবং জটিল উপাত্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। এটি সম্ভবপর হয়েছে ডিপ লার্নিং এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর কারণে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স : সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স : সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি

অ্যাডভান্সড অ্যালগোরিদমের ব্যবহার ও কম্পিউটারের ক্ষমতা এবং স্টোরেজের উন্নতিকরণের কারণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বর্তমান সময়ে এতটা জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯৫০ সালের দিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে গবেষণায় প্রবলেম সলভিং এবং সিম্বোলিক মেথডের মত বিষয়গুলো উদ্ভাবিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে ইউনাইটেড স্টেটসের ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নজর দেয়। তারা কম্পিউটারগুলোকে বেসিক হিউম্যান রিজনিং এর অনুকরণ করতে প্রশিক্ষণ দিতে থাকে। ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি সংক্ষেপে ডি এ আর পি এ ১৯৭০ সালে স্ট্রীট ম্যাপিং প্রজেক্ট সম্পন্ন করে। ২০০৩ সালে তারা নির্মাণ করে ইন্টেলিজেন্ট পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এটি অ্যাপেলের সিরি, অ্যামাজনের এলেক্সা, গুগলের গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা উইন্ডোজের কর্টানা এরো অনেক আগের কথা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে পূর্ববর্তী একাজগুলো কারণে বর্তমানে কম্পিউটার গুলোতে ব্যবহৃত অটোমেশন এবং ফর্মাল রিজনিং এর পথটি অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। ডিসিশন সাপোট সিস্টেম এবং স্মার্ট সার্চ সিস্টেমেও এর প্রভাব লক্ষণীয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিপিটিটিভ লার্নিং এবং ডাটার মাধ্যমে উদ্ভাবনের প্রক্রিয়াটিকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি কম্পিউটারাইজড টাস্ক গুলোকে বেশি পরিমাণে দ্রুততার সাথে অটোমেশনের আওতায় আনা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মূল উদ্দেশ্য। তবে এর জন্য হিউম্যান ইনকোয়ারির প্রয়োজন রয়েছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিউরাল নেটওয়ার্কের প্রচুর পরিমাণে হিডেন লেয়ার ব্যবহার করে গভীর ডাটা বের করতে পারে এবং এনালাইজ করতে পারে। তবে কম্পিউটারকে ডিপ লার্নিং এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করতে প্রয়োজন প্রচুর ক্ষমতা এবং প্রচুর পরিমাণে ডাটা। এর কারণ হলো এই পদ্ধতিতে কম্পিউটার গুলো ডাটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই যত বেশি ডাটা দেয়া যাবে ফলাফল তথ্য সূক্ষ্ম হবে।

এ আই এক্সিস্টিং প্রোডাক্ট গুলোতে বুদ্ধিমত্তা যোগ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ আই কে আলাদা কোনও অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে বিক্রি করা হয় না। বরং যেসব প্রোডাক্ট আমরা সাধারণত ব্যবহার করে থাকি সেগুলোর সাথে এ আই যুক্ত করে তাকে করা হয় আরো উন্নততর। গুগল সার্চ এবং গুগল ফটোজ ব্যবহার করার সময় খেয়াল করবেন যে আপনি যত বেশি এপ্লিকেশনগুলোকে ব্যবহার করছেন সেগুলো ততটাই সূক্ষ্ম ফলাফল প্রদান করতে পারছে। এর কারণ হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এ আইএই সূক্ষ্মতা অর্জন করে ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

এ আই প্রগ্রেসিভ লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এ আই ডাটাতে স্ট্রাকচার এবং রেগুলারিটি খুঁজে বের করে যাতে অ্যালগরিদমটি এতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। ফলে অ্যালগরিদমটি যেমন নিজেকে দাবা খেলার মত বিষয়গুলো শিখাতে পারে, তেমনি পারে অনলাইনে আপনাকে পরবর্তী প্রডাক্টটি সাজেস্ট করতে। যখনই নতুন ডাটা দেয়া হবে তখনই এ আই তার সাথে তার পূর্বে তৈরি করা মডেলটিকে খাপ খাইয়ে নিবে।

কথায় কথায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনা হয়

কথায় কথায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলোচনা হয়

এ আই ডাটা থেকে সকল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ডাটার মাঝেই লুকিয়ে থাকে আপনার প্রশ্নের সকল উত্তর। এ আই এর ব্যবহারের মাধ্যমে সেই লুকিয়ে থাকা উত্তর গুলো সহজেই খুঁজে বের করা যায়। এই ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে থাকবেন তখন আপনার প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে আপনার সংগ্রহে থাকা ডাটাগুলো। যার যত বেশি ডাটা রয়েছে, সে তত বেশি এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর জয়জয়কার। হাসপাতাল থেকে শুরু করে রিটেইল স্টোর গুলোতেও AI এর ব্যবহার রয়েছে। ইন্টারনেট অফ থিংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডাটা। আর এ আই এসব ডাটা ব্যবহার করে প্যাটার্ন গুলো শিখে বিভিন্ন টাস্ক অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। এই সুযোগটি বিভিন্ন ব্যবসায় আজকাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এ আই এর এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেকে মনে করেন একসময় পুরো বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে চলে যাবে। কিন্তু জেনে রাখা প্রয়োজন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখনো অতটা অ্যাডভান্সড হয়নি যে সকল ক্ষেত্রে হিউম্যান ব্রেইনকে হারিয়ে দিতে পারবে। তাই ভয়ের কোন কারণ নেই।

প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে এ আই সক্ষমতার চাহিদা হঠাৎ করে পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ইন্ডাস্ট্রিতে আইনি সহায়তা, পেটেন্ট সার্চ, রিস্ক নোটিফিকেশন এবং মেডিক্যাল রিসার্চ প্রয়োজন, সেসব ইন্ডাস্ট্রিতে এ আই এর চাহিদা এখন তুঙ্গে।

যদিও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন্ডাস্ট্রি গুলোর ভাগ্য খুবই দ্রুত পাল্টে দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে এই প্রযুক্তিরও একটি সীমা রয়েছে। এর মূল সীমাটি হল যে এটি ডাটা থেকে শিখে। তার মানে ডাটাতে যদি কোন ভুল থাকে তাহলে ফলাফলেও ভুল থাকবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আরেকটি লিমিটেশন হল যে এখনকার এ আই গুলো নির্দিষ্ট একটি কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়। তাই সে নির্দিষ্ট কাজটি ছাড়া অন্য কোন কাজ এটির পক্ষে করা সম্ভব নয়। কেমন পোকার খেলার জন্য তৈরি করা এ আই দাবা খেলতে পারবে না। স্বাস্থ্যসেবার জালিয়াতি ধরার জন্য যে এ আই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, ট্যাক্স জালিয়াতির জন্য সেই একই সিস্টেম ব্যবহার করা যায় না। তাই এতগুলো সিস্টেম তৈরি করা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

বিশাল পরিমাণের ডাটা দ্রুত এবং সূক্ষ্মভাবে প্রসেসিং এর মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্ট অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্যাটার্ন থেকে সফটওয়্যারকে অটোমেটিক্যালি শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে এ আই কাজ করে। এ আই এর ক্ষেত্রটি এতটাই বড় যে এর রয়েছে বেশ বড় বড় কয়েকটি সাব ফিল্ড। এই ফিল্ডগুলো মিলেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে দিয়েছে প্রায় পরিপূর্ণ একটি রূপ। চলুন জেনে নেই কি সেগুলো।

 আরও পড়তে পারেনব্ল্যাকহোল: বিজ্ঞানীদের কাল্পনিক তত্ব নাকি বাস্তবতা?

মেশিন লার্নিং- এটি এনালিটিক্যাল মডেল তৈরির প্রক্রিয়াটিকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসে। এটি নিউরাল নেটওয়ার্ক, স্ট্যাটিসটিকস, অপারেশনস রিসার্চ এবং ফিজিক্স ব্যবহার করে ডাটার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ইনসাইট গুলোকে খুঁজে বের করে। এই ইন্সাইট গুলো কোথায় খুঁজতে হবে এবং এর থেকে কিভাবে তথ্য বের করতে হবে তার জন্য আলাদা করে প্রোগ্রাম করার কোন প্রয়োজন পড়ে না।

নিউরাল নেটওয়ার্ক- এটি এমন এক ধরনের মেশিন লার্নিং যেটি নিউরনের মত কাজ করে। এক্সটারনাল ইনপুটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রতিটি ইউনিটের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করা এটির কাজ। এটি ব্যবহার করে অসমাধিত ডাটা থেকে সমাধান বের করা হয়।

ডিপ লার্নিং-এটি বিশাল নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যাতে অনেক লেয়ারের প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে। শক্তিশালী কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করে এটি জটিল প্যাটার্ন বের করে অনেক পরিমাণে ডাটা থেকে। সাধারণত ইমেজ এবং স্পিচ রেকোগ্নিশনে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কগনিটিভ কম্পিউটিং-এটি মেশিন গুলোর সাথে মানুষের মতো প্রাকৃতিক ইন্টার‍্যাকশন তৈরির চেষ্টা করে। মানুষের প্রসেস গুলো ছবি এবং কথার মাধ্যমে বুঝে তার উত্তর প্রদান করাই এর লক্ষ্য।

কম্পিউটার ভিশন-একটি ছবি কিংবা ভিডিওতে কি রয়েছে তা প্যাটার্ন রিকগনিশন এবং ডিপ লার্নিং এর মাধ্যমে বের করাই এটির কাজ। একটি মেশিন যখন একটি ছবিকে প্রসেস এবং এনালাইজ করে বুঝতে পারবে তখন সেটি তার আশেপাশের পরিবেশকে ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হবে।

ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং-এনএলপি হল মানুষের ভাষা তৈরি করার সক্ষমতা। এটি ব্যবহার করে মানুষ তার কম্পিউটারের সাথে সাধারণ ভাষা ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।

গ্রাফিক্যাল প্রসেসিং ইউনিট-গ্রাফিক্যাল প্রসেসিং ইউনিট কিংবা জিপিইউ এর শক্তিশালী কম্পিউটার ক্ষমতা এ আই টেকনোলোজি ব্যবহারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দ্যা ইন্টারনেট অফ থিংস-এটি কানেক্টেড ডিভাইস গুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ডাটা তৈরি করে। এই ডাটা গুলো এ আই এনালাইজ করে ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

অ্যাডভান্সড অ্যালগরিদম-এটি তৈরি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে একাধিক স্তরের ডাটা পূর্বের চেয়ে আরো দ্রুত ভাবে এনালাইজ করা। জটিল সিস্টেম বোঝার জন্য এবং ইউনিক সিনারিওগুলো অপটিমাইজ করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসিং ইন্টারফেস-এ পি আই কোডের এমন একটি পোর্টেবল প্যাকেজ যা এক্সিস্টিং প্রোডাক্ট গুলোতে এ আই ফাংশনালিটি যোগ করতে সাহায্য করে। হোম সিকিউরিটি সিস্টেমে এগুলো ইমেজ রেকোগ্নিশন যুক্ত করতে পারে। এমন আরও চমকপ্রদ ফিচার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যবহার্য টেকনোলজি গুলোতে যুক্ত করা যায় এর মাধ্যমে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার গুলোকে ইনপুট এবং আউটপুট গুলোর পিছনে যুক্তি বের করে ব্যাখ্যা করার সক্ষমতা প্রদান করে। যদিও সফটওয়্যারের প্রয়োজনে এ আই মানুষের মতো ইন্টারেস্ট করতে পারে, তবে মানুষের প্রতিস্থাপন হিসেবে এটি ব্যবহারের উপযোগী নয়। এবং এটি হওয়ার সম্ভাবনাও নিকট ভবিষ্যতে নেই।

The post আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স : সময়ের দাবী নাকি বাড়াবাড়ি appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%87/feed/ 0 1277
হায়া সোফিয়া : তুরস্কের গোয়ার্তুমি নাকি ইসলামের বিজয় https://rongpencil.net/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f/ https://rongpencil.net/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f/#respond Sat, 11 Jul 2020 16:50:00 +0000 https://rongpencil.net/?p=1267 আর. রহমান: তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুুলে অবস্থিত এক বিখ্যাত স্থাপনা হায়া সোফিয়া। প্রায় এক হাজার বছর হায়া সোফিয়া ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গীর্জা। এরপর ভবনটি ৫’শ বছর মসজিদ হিসাবেও ব্যবহার হয়েছে। দেড় হাজার বছর পুরনো এই ভবনে আছে বহু ঐতিহাসিক নির্দশন। সে কারণে একে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ...

The post হায়া সোফিয়া : তুরস্কের গোয়ার্তুমি নাকি ইসলামের বিজয় appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
আর. রহমান: তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুুলে অবস্থিত এক বিখ্যাত স্থাপনা হায়া সোফিয়া। প্রায় এক হাজার বছর হায়া সোফিয়া ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গীর্জা। এরপর ভবনটি ৫’শ বছর মসজিদ হিসাবেও ব্যবহার হয়েছে। দেড় হাজার বছর পুরনো এই ভবনে আছে বহু ঐতিহাসিক নির্দশন। সে কারণে একে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এটি জাদুঘর হিসাবে সংরক্ষিত ছিল।

সম্প্রতি হায়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদ বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের একটি আদালত হায়া সোফিয়ার জাদুঘরের মর্যাদা রদ করে রায় দেওয়ার পর এরদোয়ান এটিকে মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা দেন।অনেক দিন ধরেই তুরস্কের ইসলামপন্থীরা এই জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষরা এর বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পশ্চিমা বিশ্ব এর বিরোধা করলেও তুরস্ক সেসব তোয়াক্কা করেনি।

হায়া সোফিয়া একাধিক ভাষায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। এর অন্যান্য নামগুলো হলো, হাজিয়া সোফিয়া, আয়া সোফিয়া, সাঙ্কটা সোফিয়া ও মেগালে একসেলিয়া ইত্যাদি।

বর্তমানে হায়া সোফিয়া যেখানে অবস্থতি, এই জায়গাটি ছিল রোমান প্যাগান ধর্মের উপাসানালয়। ৩৫০ সালে প্রথম রোমান কনস্টাটিন এখানে একটি মন্দর প্রতিষ্ঠা করেন। তার পুত্র দ্বিতীয় কনস্টাটিয়াস ৩৬০ সে সেই মন্দিরকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ৪০৪ সালে এক দাঙ্গায় আগুন লেগে তখনকার কাঠের মন্দিরটি পুড়ে যায়। সেই ধ্বংসস্তুপে রোমান সম্রাট প্রথম কনস্টান্ট আরও বড় করে আরেকটি কাঠের মন্দির তৈরি করেন। ৪১৫ সালে দ্বিতীয় থিয়োসিয়াস সেই মন্দিরের উদ্বোধন করেন। ৪৩২ সালের আরেকটি দাঙ্গার আগুনে সেই ভবনটিও সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তখন সম্রাট জাস্টিনিয়ান এখানে ঝমকালো প্রাসাদময় উপাসনালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় এই শহরের নাম ছিল কন্সটাটিনোপোল। এটি ছিল মধ্যযুগের রোম সাম্রাজ্যের রাজধানী। পরবর্তীতে উসমানীয় সাম্রাজের প্রতিষ্ঠার পর এই স্থানের নাম রাখা হয় ইস্তাম্বুল। স্থানটি নতুন শাষকদেরও রাজধানী হিসাবে গৃহিত হয়। উভয় রাজধানীর ক্ষেত্রেই অন্যতম প্রতীক বা প্রাণকেন্দ্র ছিল হায়া সোফিয়া।

হায়া সোফিয়ার নকশা

হায়া সোফিয়ার নকশা, ছবি : ইন্টারনেট

সম্রাট দ্বিতীয় মেহমেদ কনস্টাটিনো শহর দখলে নেওয়ার পর প্রথমেই হায়া সোফিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন। এবং তিনিই প্রথম ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করার ঘোসনা দেন। হায়া সোফিয়া শুধু মসজিদ থেকে গীর্জাই নয়, ভবনটি গীর্জা থাকাকালীন ও একাধিকবার এর ধরন বদলেছে। ৫৭০ সালে হায়া সোফিয়া নির্মাণ করা হয়েছিল অর্থডক্স গীর্জা হিসাবে।

এর ৬৬৭ বছর পর ১২০৪ সালে হায়া সোফিয়াকে রোমান ক্যাথলিক গীর্জায় রুপান্তর করা হয়। এরমাত্র ৫৭ বছর পর ১২৬১ সালে হায়া সোফিয়া আবারও অর্থডক্স গীর্জায় পরিণত হয়। সে যাত্রায় প্রায় দু’শ বছর গীর্জা হিসাবে ব্যহৃত হয়ে ১৪৫৩ সালে তুর্কি সালতানাতের অধীনে হায়া সোফিয়া মসজিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৫’শ বছর মসজিদ হিসাবে ব্যবহারের পর ১৯৩৫ সালে ঐতিহাসিক এই ভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

আধুনিক তুরস্কের জনক মুস্তফা কামাল পাশা সেই সময় একটি আইন পাশ করেছিলেন। আইনটি হলো মুসলিম ও খ্রীস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীদের জন্য হায়া সোফিয়া – এর হলরুম ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকবে। তবে দীর্ঘদিনের মুসলিম দাবির মুখে সম্প্রতি এরদোয়ান এটিকে আবারও মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন- দি সিটি অব আটলান্টিস : হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার আদ্যোপান্ত
হায়া সোফিয়ার অন্দরমহল

হায়া সোফিয়ার অন্দরমহল, ছবি : ইন্টারনেট

এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ২৪ জুলাই মসজিদের ভেতর মুসলিমরা নামাজ আদায় করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্য সব মসজিদের মতো স্থানীয় ও বিদেশ থেকে আগত মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য হায়া সোফিয়ার দরজা খোলা থাকবে।’

যদিও হায়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে সাদুবাদ জানালেও একটি মহল বাজে দৃষ্টান্ত বলে অবহিত করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছে, এটি কোন যুগান্তরী সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এখানে ইসলাম নয়, জিতেছে মৌলবাদ।

এদিকে পশ্চিমা বিশ্ব একে তুরস্কের গোয়ার্তুমি বলে চালিয়ে দেওয়াও চেষ্টা করছে। তাদের দাবী তুরস্কে মসজিদের কোন অভাব ছিল না। আর হায়া সোফিয়া ছিল মুসলীম ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মের নির্দশন। যা ছিল সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত।

The post হায়া সোফিয়া : তুরস্কের গোয়ার্তুমি নাকি ইসলামের বিজয় appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f/feed/ 0 1267
দি সিটি অব আটলান্টিস : হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার আদ্যোপান্ত https://rongpencil.net/%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%ac-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/ https://rongpencil.net/%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%ac-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/#respond Thu, 09 Jul 2020 09:52:12 +0000 https://rongpencil.net/?p=1225 শাহরিয়ার ওয়াজেদ হা-মীম: আমাদের পৃথিবী হাজার বছরের পুরোনো। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক সভ্যতাই পৃথিবীর গতর জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।কিছু সভ্যতা টিকে আছে কাগজে কলমে ও পুরাকৃতি হিসাবে। আবার কিছু সভ্যতার হদিস আজও মিলেনি ।তার মধ্যে দি সিটি অব আটলান্টিস অন্যতম। অনেকে একে দি লস্ট সিটি অব আটলান্টিস বলেও ডাকে। আটলান্টিস সভ্যতা নিয়ে প্রথমবারের মত কথা বলেছিলেন ...

The post দি সিটি অব আটলান্টিস : হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার আদ্যোপান্ত appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
শাহরিয়ার ওয়াজেদ হা-মীম: আমাদের পৃথিবী হাজার বছরের পুরোনো। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক সভ্যতাই পৃথিবীর গতর জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।কিছু সভ্যতা টিকে আছে কাগজে কলমে ও পুরাকৃতি হিসাবে। আবার কিছু সভ্যতার হদিস আজও মিলেনি ।তার মধ্যে দি সিটি অব আটলান্টিস অন্যতম। অনেকে একে দি লস্ট সিটি অব আটলান্টিস বলেও ডাকে।

আটলান্টিস সভ্যতা নিয়ে প্রথমবারের মত কথা বলেছিলেন দার্শনিক প্লেটো। তার ভাষ্যমতে, ‘প্রায় একলক্ষ পোনেরশ বছর আগে আটলান্টিসের উপস্থিতি ছিল। সে সময়কার অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সভ্যতার একটি ছিল এই আটলান্টিস। এর অবস্থান ছিল আটলান্টিক মহাসগারের মাঝে।’ আটলান্টিয়ানরা প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত ছিলো বলেও জানা যায়।

বিভিন্ন ইতিহাসবীদদের মতে, আটলান্টিসবাসী তাদের সাম্রাজ্য আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল থেকে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছিলো।দিনদিন তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাড়ে নিজস্ব প্রযুক্তির অপব্যবহারও। তবে প্রকৃতির কাছে হেরে যেতে হয় এই আটলান্টিসদের।দ্বীপ রাষ্ট্রটি ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ফলে সাগারের অতল গহবরে হারিয়ে যায়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় তাদের অস্থিত্ব। দি সিটি অব আটলান্টিস নিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের গল্প ও গুজব। তবে কিছু কিছু বিষয়ে একে বারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আটলান্টিস নিয়ে মিশরীয় সভ্যতায় অনেক তথ্য পাওয়া যায়

আটলান্টিস নিয়ে মিশরীয় সভ্যতায় অনেক তথ্য পাওয়া যায়, ছবি : ইন্টারনেট

যদিও আটলান্টিস বলে আদৌ কোন সভ্যতা ছিল কিনা এ নিয়ে অনেক তর্ক- বিতর্ক আছে।অনেকেই মনে করেন,
প্লেটো গ্রীকদের ক্ষমতা ও প্রযুক্তি নিয়ে সতর্ক করতে বানিয়ে আটলান্টিসদের গল্প বলেছিলেন।তবে ইতিহাস ঘাটলে আটলান্টিস নিয়ে মিশরীয় সভ্যতার হায়ারোগ্লিফিক্সে অনেক লিখা পাওয়া যায় । সেখান থেকে তা আরেক গ্রীক দার্শনিক সেলোন জানতে পারেন। পরে ধারণা করা হয় সেলোন থেকেই প্লেটো আটলান্টিস সম্বন্ধে ধারণা লাভ করেন।

জাতি হিসাবে আটলান্টিয়ানরা ছিলো অনেক উন্নত। প্রাচীন এ জাতির কাছে অদ্ভুত সব ক্ষমতা ছিলো। কথিত রয়েছে, তাদের কাছে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন করার মত যন্ত্র ছিল, এমন আধুনিক অনেক অস্ত্র প্রযুক্তিও তাদের কজ্বায় ছিল। তবে তাদের সবচেয়ে বড় আবিস্কার ছিল দিক নির্দেশনা যন্ত্র। এমনকি তাদের কাছে স্ফটিক ছিল, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের শক্তি অর্জন করতো।যদিও এই বিষয়ে সঠিক কোন ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি।

আটলান্টিস নিয়ে জল্পনা কল্পনা আরো বেড়ে যায় প্লেটোর ‘টিমিয়াস’ ও ‘ক্রাইটিয়াস’ বই দুইটি পুনরুদ্ধার হওয়ার পর। ক্রাইটিয়াসে প্লেটো আটলান্টিস নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।জানা যায়, তারা বছরে দু’বার কৃষিকাজ করতো। শক্তিশালী নৌ সেনা ও তাদের বৃত্তাকার দূর্গ প্রাসাদ ছিলো এমন বর্ণনাও পাওয়া গেছে তাতে।খোদ প্লেটো কোনো মনগড়া কাহিনী এত বিস্তারিত লিখবেন তা তখনকার ইতিহাসবীদরা বিশ্বাস করেননি। ফলে পুরো আটলান্টিক মহাসাগর চষে বেড়িয়েছেন অনেকে। কিন্তু আটলান্টিসের সন্ধান মেলেনি। একটা সময়ে প্রাচীন এই রহস্যটি ধামাচাপা পরে যায়। কিন্তু ১৯ শতকে হেরোডাটাসের প্রাচীন মানচিত্র আবিষ্কার হলে আটলান্টিস নিয়ে আবারও তোলপাড় শুরু হয়।

হেরোডাটাস ছিলেন গ্রীক পন্ডিত। তিনি পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র তৈরি করেন। তার তৈরিকৃত মানচিত্রে সাহারা মরুভূমির সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আটলাস পর্বতের কাছে একটি জায়গাকে আটলান্টিস হিসেবে চিহ্নিত করা আছে। অদ্ভুতভাবে ঐ এলাকায় মরুভূমির মাঝে বৃত্তাকারা দূর্গ প্রাচীরের অস্তিত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়।রহস্যপ্রেমীরা দ্বিধায় পড়ে যান।কেননা আটলান্টিসকে ধারণা করা হতো দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে এবং ইতিহাসবীদদের মতে আটলান্টিস আটলান্টিক মহাসাগরেই তলিয়ে গেছে। তবে এই সাহারা মরুভূমির মাঝে হঠাৎ এর আগমন ঘটলো কি করে? সত্যি বলতে এর তেমন কোনো স্বীকৃত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সভ্যতার একটি ছিল এই আটলান্টিস

অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ সভ্যতার একটি ছিল এই আটলান্টিস, ছবি : ইন্টারনেট

তবে ধারণা করা হয় ১১৫০০ বছর আগে আফ্রিকার অনেকাংশ আটলান্টিক মহাসাগরের নিচে ছিল এবং তারই মাঝে একটা দ্বীপ ছিল আটলান্টিস। ভয়ংকর সুনামি বা প্লাবনের কারণে আটলান্টিস সমুদ্রে তলিয়ে যায়। পরে কোন এক ভুমিকম্পের কারণেই আফ্রিকার এই অংশটা সমুদ্র তলদেশ থেকে উঠে আসে। এ তত্ত্বকে সমর্থন করে নানা প্রমাণও দেখানো হয়। যেমন আফ্রিকার এ তপ্ত মরুভূমির মাঝেও নীল তিমি বা বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের কংকাল পাওয়া যায়। যা থেকে ধারণা করা হয় এ অংশটি এককালে সমুদ্রের নিচে ছিলো।তবে কেউ কেউ আজও ধারণা করেন আটলান্টিস, আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশেই আছে।

জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে বামিনি নামক জায়গায় দি সিটি অব আটলান্টাস-্এর অবস্থান বলে অনেকে মতবাদ দেন। সেখানে সমুদ্রের নিচে মানুষ তৈরি রাস্তা (দ্য বামিনি রোড) এর চিহ্ন পাওয়া গেছে তাই বেশির ভাগেরই ধারণা এটিই আটলান্টিসের ধ্বংসাবশেষ।

আটলান্টিস নামটি নিয়েও জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।কেউ কেউ বলেন আটলান্টিকে এর অবস্থান হওয়ায় একে আটলান্টিস বলা হয়। কেউ বা বলেন আটলাস পর্বতের কাছে এর অবস্থান হওয়ায় একে আটলান্টিস ডাকা হয়। তবে প্লেটোর মতে, গ্রীক মিথোলজিতে দেবতা জিউস, সমুদ্রের দেবতা পোসাইডনকে আটলান্টিসের শাসনভার দেন।আটলান্টিস তার ছেলে আটলাসকে এর রাজা বানান।যিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দী আটলান্টিস শাসন করেন। তার নামানুসারে একে আটলান্টিস ডাকা হয়।

আটলান্টিসকে ঘিরে প্রতিটি তত্ত্বই রহস্যময় ও একে নিয়ে জল্পনা কল্পনারও শেষ নেই।আজও অনেকে আটলান্টিসের খোঁজে ঘুরে বেড়ান। আবার অনেকে একে মিথ হিসেবে ভাবতেই ভালোবাসেন।হয়তো এমন একদিন আসবে, সেদিন দি সিটি অব আটলান্টিস নিয়ে বিস্তর জানা যাবে।

The post দি সিটি অব আটলান্টিস : হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার আদ্যোপান্ত appeared first on রঙ পেনসিল.

]]>
https://rongpencil.net/%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%ac-%e0%a6%86%e0%a6%9f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/feed/ 0 1225