বছরের শুরুতেই যেসব পরিকল্পনা করবেন

যাপিত জীবন
দেখতে দেখতে এসে গেলো আরও একটি নতুন বছর। ২০১৯-কে বিদায় দিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২০২০-কে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। নতুন বছরকে ঘিরে অনেকের মধ্যেই থাকে নানা ধরনের পরিকল্পনা। তবে আমরা যে সংকল্পই করি না কেন, তা অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে উদ্বুদ্ধ করা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্র্যানটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। নতুন বছর উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্টনা বাস্তবায়ন করতে পারে মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ। কিন্তু ব্যর্থ হওয়া সেই ৯২ শতাংশ মানুষের তালিকায় যে আপনিও থাকবেন, এমনটিও নয়। কীভাবে আপনি সফল হতে পারেন, এমন পাঁচটি উপায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এই পাঁচটি উপায় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

এমন সংকল্প নিন, যেটা বাস্তবে মেনে চলা সম্ভব। তাহলেই আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।

মনোবিজ্ঞানী র‍্যাচেল ওয়েনস্টেইন বলেন, ‘আমাদের প্রধান একটি সমস্যা হলো, আমরা অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করি। এমন একটা কিছু ভেবে বসি যে, নতুন বছরে আমি নতুন এক মানুষ হয়ে উঠব—এমন ভাবনার ভিত্তিটাই গরল।’

আপনাকে ধীরে ধীরে শুরু করতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে সংকল্পের পারদ বাড়াতে হবে। যেমন, প্রথমেই ম্যারাথন দৌড়ের কথা চিন্তা না করে আপনাকে শুরুতে একটি দৌড়ানোর জুতো কিনে জগিং শুরু করতে হবে। অথবা আপনি যদি রান্না পছন্দ করেন, প্রথম দিকে সপ্তাহে একটি আইটেম রাঁধতে অন্যকে সাহায্য করুন, যাতে রান্নাটা আপনি রপ্ত করতে পারেন। কারণ, ওয়েনস্টেইন বলছেন, ‘বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আসে ধীরে ধীরে।’

আমরা অনেক সময় লক্ষ্য স্থির করার আগে ভাবি না, ঠিক কীভাবে তা অর্জন করা যাবে। সুতরাং খুঁটিনাটি পরিকল্পনা খুবই জরুরি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিল লিভি বলেন, “‘আমি জিমে যাব’;এই সংকল্প করার চেয়ে ‘আমি মঙ্গলবার বিকেলে এবং শনিবার সকালে জিমে যাব’এমন পরিকল্পনা করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।”

সুতরাং শুধু একটি ধোঁয়াটে সংকল্প প্রকাশের চেয়ে এমন কিছু চাইতে হবে, যা বাস্তবে করা সম্ভব।

আপনার সংকল্প বাস্তবায়নের পথে যদি অন্য কাউকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে তা আপনাকে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।

যেমন, কোনো ক্লাসে বন্ধুকে সঙ্গে নিলে বা আপনার সংকল্পকে মানুষের সামনে প্রকাশ করলে নিজের মধ্যে প্রণোদনা বাড়বে। অন্যরা জানলে লক্ষ্য অর্জনে আপনি বেশি করে চেষ্টা করবেন।

ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল বলছেন, ‘আপনার সংকল্প সফল হলে অন্যের মঙ্গল হতে পারে, ব্যর্থ হলে অন্যের ক্ষতি হতে পারে—এমন পরিস্থিতি মানুষকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। তাই আপনার সংকল্প বাস্তবায়নে অন্যদের যুক্ত করুন, তাদের সাহায্য নিন।’

যখন লক্ষ্য অর্জন কঠিন মনে হয়, ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

আপনাকে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে? কোন কৌশল সবচেয়ে কার্যকর? কোন কৌশল কাজে লাগছে না? এসব বিশ্লেষণের পর আপনাকে বাস্তবমুখী পথ বেছে নিতে হবে। স্বল্প অর্জনকেও দাম দিতে হবে।

প্রতিদিনের জীবনযাপনে সামান্য অদল-বদলও অনেক সাফল্য বয়ে আনতে পারে। যেমন: সাদা রঙের পাস্তা বা সাদা আটার রুটির বদলে আপনি বাদামি রঙের পাস্তা বা বাদামি গমের আটার রুটি খাওয়া শুরু করতে পারেন। কেক বা চিপসের বদলে সবজির স্টিক খেতে পারেন। এর জন্য খুব একটি কষ্ট করতে হবে না।

সবচেয়ে ভালো এবং কার্যকরী নববর্ষ সংকল্প সেগুলোই, যেগুলো আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের একটি অংশ হবে।

আপনার যদি খেলাধুলার ব্যাপারে আগ্রহই না থাকে, তাহলে আপনার পক্ষে একজন চৌকস খেলোয়াড় হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

মনোবিজ্ঞানী ড. অ্যান সুইনবোর্ন বলছেন, ‘যেসব মানুষ মনের জোরের ওপর নির্ভর করে, তাদের ব্যর্থতার সম্ভাবনা বেশি।’

সুতরাং, এমন সংকল্প নিন, যা নিয়ে আপনার আগ্রহ রয়েছে। বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি পরিকল্পনা নিন এবং ঝামেলা হলে অন্যের সাহায্য বা পরামর্শ নিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না। খবর বিবিসি বাংলার।