প্রিয়জনকে নিমন্ত্রনপত্র দিতে চান?

যাপিত জীবন ডেস্ক :

শিরোনাম দেখে চোখ কপালে উঠতেই পারে। এমন দিনে কেউ নিমন্ত্রণপত্রের কথা বলে! গত দশকেরই যোগাযোগের পালে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রিয়জনকে নিমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয় না। মোবাইলের টেক্স কিংবা সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমের কোন একটি চ্যাটিং অ্যাপ দিয়েই নিমন্ত্রণ বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রিয় মানুষকে সারপ্রাইজ দিতে ইচ্ছে করলে এখনো কাগজু নিমন্ত্রণপত্র দেওয়া সম্ভব। কিভাবে? সেটাই জানাবো আজকে…

বাংলাবাজারের ঘুরে দেখা গেছে, যেসব প্রোডাকশন রয়েছে তার মধ্যে বক্স আইটেমের কার্ডগুলো বেশি চলছে। আইডিয়াল, আজাদ প্রোডাক্টস নতুন কিছু কার্ড তৈরি করছে এগুলোরও বেশ চাহিদা। এ ছাড়া আরও ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারাও কার্ড তৈরি করছে। তাদের কাছেও বক্স কার্ডের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি এক পাতার কার্ড, থ্রি ফোল্ডার কার্ড, শাহি কার্ডের (মখমল কাপড় বা ভেলভেট কাপড় দিয়ে তৈরি) বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে পুরোটাই ক্রেতার ওপর নির্ভর করে।’

তা ছাড়া বর্তমান সময়ে বিয়ের কার্ড নানাভাবে সাজানো হয়ে থাকে। কার্ডের শুরুতেই সংযোগ করা হয় বর-কনের ছবি। থাকে বেনারসি কাপড়ের কাজ আর কার্ডের বর্ডারে থাকে পুঁতি বসানো জামদানি কাপড়ের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ। আবার কার্ডের রঙের সঙ্গে রং মিলিয়ে মোড়ানো থাকে রিবনের আবরণ। ঠিক তার বিপরীত রঙের রিবন কিংবা বাহারি রঙের কাপড় দিয়ে ফুল তুলে কার্ডটি বেঁধেও রাখা হয়। সিল্ক, কাগজ, সার্টিন কাপড়ের কম্বিশনেও তৈরি হচ্ছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। তবে কাগজের কার্ডের ওপর রিবনের বদলে সিল্কের কাপড় দিয়েও বাঁধা থাকে। এসব কার্ডের ওপর স্টিল ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ফুলের মোটিফ বসানো থাকে। কাঠির সাহায্যে নানা কারুকাজের অবয়বও এ কার্ডে থাকে। কখনো কখনো ছোট প্রজাপতি কিংবা পালকির সাজও কিছু কার্ডে রয়েছে। কার্ডের আকার আকৃতিতেও রয়েছে ভিন্নতা-চতুষ্কোণ, গোলাকার পানপাতার আকৃতির কার্ডও দেখা যায়। এসব কার্ডে পালকি, বর-কনের ছবিসহ নানা কারুকাজ থাকে। এ ছাড়া ছোট চারকোনা আকৃতির বাক্সে কিংবা কোনো উপহারসহ বিয়ের কার্ড পাঠাতে পারো। এ ক্ষেত্রে বাক্সের রং আর কার্ডের রঙে একটু বৈপরীত্য থাকলে সুন্দর দেখায়।

তবে…
১. চাহিদা অনুযায়ী কার্ড তৈরিতে সময় লাগে। এ জন্য বিয়ের দিন থেকে যথেষ্ট সময় নিও। না হলে সঠিক সময়ে কার্ড হাতে পেতে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে।
২. গোড়ায় গন্ডগোল করা যাবে না। তাই কার্ডে নাম ও ঠিকানা যাতে ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩. অনেকে কার্ডে ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে অনেকে ভুলভাল ইংরেজি বাক্য ব্যবহার করেন। এমন যদি হয়, হতে পারো হাসির পাত্র। এর চেয়ে মাতৃভাষা ব্যবহার করা ভালো। বাংলা লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাক্য গঠন ও বানানের দিকে নজর রাখবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে পারদর্শী কারও সহযোগিতা নিও।
৪. সোনালি রঙের ওপর লাল রঙের আভা কিংবা আকাশির মধ্যে রুপালি রং বেছে নিতে পারো। অথবা বিয়ের আবহ ধরে নিমন্ত্রণপত্রের থিম ও রং পছন্দ করো।
৫. বিয়ের কার্ড একটু উজ্জ্বল রঙের বেশি চলছে। বউভাত বা পানচিনির জন্য হালকা বেগুনি বা সবুজ রং ভালো।
৬. নিমন্ত্রণপত্রটি নিজে গিয়ে পৌঁছে দিতে পারলে ভালো হয়। কারণ এতে সম্পর্কের বন্ধন আরও শক্ত হয়।

খরচাপাতি
১ হাজার বা ২ হাজার পিস কার্ড হলে তৈরিতে খরচটা কম লাগে।’ এ ছাড়া শাহি কার্ড প্রতি পিস ২০-১৫০ টাকা, এক শ বক্স কার্ডের (প্রিন্টিং ছাড়া) খরচ পড়বে ১২ শ থেকে দুই হাজার টাকা। তবে এর চেয়ে বেশি দামেরও রয়েছে। এটা প্রতি পিস ১০০-১৫০টা দাম পড়ে। তা ছাড়াও ছবির ফ্রেমের মতো কার্ডের দাম পড়বে ১৫০ টাকা, এক ভাঁজযুক্ত কার্ড ৫০-৭০ টাকা, ট্রেসিং পেপার দিয়ে ঢাকা ১০০ টাকা, ভেলভেট কাপড়ের তৈরি ৮০-১০০ টাকা, ফাইল আকৃতির কার্ড ১০০ টাকা। ক্যারিকেচার, বাক্সযুক্ত কার্ড তৈরি করা যাবে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। কাঠ ও কাগজের সংমিশ্রণে তৈরি নিমন্ত্রণপত্রের খরচ পড়বে ২৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।