বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী : কে এই সানা মারিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাধারণত যে বয়সে মূলধারার রাজনীতি শুরু হয় সেই বয়সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ফিনল্যান্ডের সানা মারিন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে আসা সানা বর্তমানে দেশটির পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

৫৫ লাখ মানুষের দেশ ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দল সোশ্যাল ডেমোক্রেট পার্টির থেকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অ্যান্তি রিনে। মঙ্গলবার এক আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর ভোটাভুটির মাধ্যমে দলটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ৩৪ বছর বয়সী সানা মারিন। নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে দল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি যে ফিনল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

প্রধানমন্ত্রী হলে শুধু ফিনল্যান্ডের নয় বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন সানা। সেই সঙ্গে নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে তিনি হবেন তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি দায়িত্ব নেবেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

শুধু সানা নন, দেশটির যে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত, সব কটি দলের নেতৃত্বেই এখন নারী। সানার সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ছাড়াও বামপন্থী জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী লি অ্যান্ডারসন, মধ্যপন্থী জোটের নেতৃত্বে ৩২ বছর বয়সী কাট্রি কুলমুনি, গ্রিন লিগের নেতৃত্বে ৩৪ বছর বয়সী মারিয়া ওহিসালো এবং সুইডিশ পিপলস পার্টি অব ফিনল্যান্ডের নেতৃত্বে আছেন ৫৫ বছর বয়সী অ্যানা-মাজা হেনরিকসন।

বয়স নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমার বয়স বা লিঙ্গ সম্পর্কে কখনো ভাবিনি, রাজনীতিতে যে কারণে এসেছি সেসব বিষয়গুলোর কথা ভাবি, যার জন্য আমরা ভোটারদের আস্থা জিতেছি।’ তিনি একত্রিত হয়ে আরো বেশি কাজ করার আশ্বাস দেন।

৩৪ বছর বয়সী সানার আগে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ওলেসি হংচারুক ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তার বয়স ৩৫ বছর। চলতি বছরের আগস্টে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ৩৫ বছর বয়সের দেশের নেতৃত্বের ভার তুলে নেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও। এছাড়া কমবয়সী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে আছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডেন (৩৯)।

২০১২ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে জয় লাভ করেন সানা। এরপর ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে প্রশাসনিক বিজ্ঞান বিষয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন সানা। ব্যক্তিগত জীবনে সানা সমকামী এবং একটি কন্যা সন্তানের মা।