পেশা পরিবর্তন করবেন যেভাবে

কর্মস্থল পরিবর্তন করতে চাইলে কি করবেন?

রায়হান রহমান
অনেক সময় কর্মস্থল পরিবর্তন করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়ে। পেশাজীবনে সামনে এগিয়ে যেতে চাকরি পরিবর্তন করা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে হুট করে কর্মস্থল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে। কখনো কখনো হুট-হাট চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তে কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হতে পারে।

তাই সিদ্ধান্তটা ভেবেচিন্তে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এ জন্য কমপক্ষে দু-তিন মাস সময় হাতে রাখা জরুরী। এ সময়ের মধ্যে নতুন কর্মক্ষেত্র সর্ম্পকে দক্ষতা অর্জন ও তার সাফল্য, ব্যর্থতা আর বর্তমান-ভবিষ্যৎ জেনে নেওয়া যাবে। তার আগে বর্তমান কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাকরি ছাড়ার বিষয়টি অবগত করতে হবে। ওহ, আরও একটি কথা- নতুন চাকরিতে যোগদান করলেও পুরোনো কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে ভুলবেন না।

যা করবেন
১। চাকরি ছাড়ার কয়েক দিন আগে মানবসম্পদ বিভাগকে অবহিত করুন। তারা আপনার প্রাপ্য বেতন-বোনাস পেতে সহায়তা করবে।
২। বর্তমান অফিসের বিল-বকেয়া কিংবা ছোটখাটো সব আর্থিক হিসাব মিটিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানে কাজ হবে।
৩। আপনার নামে অফিস থেকে বরাদ্দ হওয়া ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস, গাড়ি-মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে লিখিত ছাড়পত্র নিয়ে নেবেন। যাতে করে আপনাকে কোন কিছুর জন্য দায়বদ্ধ করতে না পারে।
৪। অব্যাহতিপত্র আর অভিজ্ঞতার সনদ মানবসম্পদ বিভাগ থেকে নিতে ভুলবেন না। এতে ভবিষ্যতে আপনার কাজে লাগবে।
৫। ব্যবহৃত কম্পিউটার থেকে ব্যক্তিগত তথ্যাদি ও ফাইল মুছে ফেলুন। নাহলে পরবর্তিতে বিপদে পড়তে পারেন।
৬। চাকরি ছাড়ার সময় অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে পুরোনো রাগ-অভিমান কাটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।
৭। নতুন অফিসে যোগদান করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপুর্ণ আচরণ করুন।

যা একদমই করবেন না
১। পুরোনো অফিসের তথ্য কিংবা দলিলপত্র নতুন অফিসে কাজে লাগবে, ভেবে নিজের সঙ্গে নিবেন না।
২। ভুলেও নতুন চাকরি নিযে পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করবেন না। এতে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৩। চাকরি ছাড়ার সময় অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কোন ক্ষোভ ঝাড়বেন না। এতে আপনার পেশা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৪। নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগদানের আগে কয়েকটা দিন বেড়িয়ে আসতে পারেন। ফলে নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করতে পারবেন।