আদিম সমাজে বিচার হতো যেভাবে

আইন পাঠ ডেস্ক :
আইন প্রযোগ বা বিচারিক ব্যবস্থা আজকের নয়। আইনের ইতিহাস অনেক পুরনো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইনের গঠন পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে আইন দেখি, তা আধুনিক সময়ের আইন। আঠারো থেকে উনিশ শতকে এসব আইন প্রণিত হয়েছে।

তবে কি এর আগে আইন ছিল না? অবশ্য ছিল। আজ আমরা সেই আদিম যুগের বিচারিক ব্যবস্থার বিষদ জানবো।

আদিম সমাজে বিচারের প্রাথমিক উদ্দেশ্যই ছিল শাস্তি প্রদান করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতিহিংসা প্রবৃত্তি প্রশমিত করে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আদিম সমাজেও চুরি, জোরপূর্বক সম্পত্তি অধিকার, ঋণ পরিশোধ না করা এবং বিবাহ প্রথার উদ্ভব হলে অন্যের স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে ব্যভিচার করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। এবং সে সব অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করে অপরাধের প্রতিকার করা হতো।

এছাড়াও অন্যায় ভাবে অন্যের সম্পত্তি দখল করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার ব্যবস্থা ছিল।আর এসব বিচারিক ক্ষমতা থাকতো গোত্র প্রধান বা রাজার। তারা অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি বা ক্ষতিপুরণ প্রদান করতেন।

আদিমকালের বিচারিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, স্বাক্ষ্য প্রদান। সেসময় একজন অভিযুক্ত হওয়া মানেই তাকে শাস্তি পেতে হবে; অনেকটা এমনই ছিল। কারণ স্বাক্ষ প্রমাণের বিষয়টি তখন ওটা গুরুত্বপূর্ণছিল না।এর কারণ হিসেবে অনেক ইতিহাসবিদ বলেছেন, সেসময় মানুষ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে থাকতো্। ফলে একে অপরকে জানার অনেক সুযোগ ছিল। তাই সবাই জানতে, কে কেমন মানুষ। বিচারকরাও যেহেতু একই গোত্রের ছিলেন-তাই অভিযুক্তের প্রতি তারও নিজস্ব ধারনা থাকতো। আর সে ধারনা থেকেই তিনি বিচার বা রায় প্রদান করতেন। এক্ষেত্রে কোন স্বাক্ষ প্রমাণের প্রযোজন বোধ করতে না।

সেসময় সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আগুনে ছ্যাকা দিয়ে, জলে ডুবিয়ে, বিষমিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে দিয়ে বা তুলাদন্ডে ওজন করে বা অন্যভাবে পরীক্ষা করে সে দোষী কিনা তা সাব্যস্ত করা হতো। এ সব পরীক্ষায় যে কোনো একটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সফল হলে সে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেত। নচেৎ ওই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে প্রাণ হারাতে হতো।