চিড়িয়াখানা পালানো বিখ্যাত প্রাণী

চিড়িয়াখানা থেকে পালানো বিখ্যাত প্রাণী

জীব ও বৈচিত্র্য ডেস্ক :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস চিড়িয়াখানাটি এর প্রাণীদের পলায়নের জন্য বিখ্যাত। গত তিন দশকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৩৫টি প্রাণী চিড়িয়াখানাটি থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত এভিলিন নামের একটি গরিলা। এ পর্যন্ত সে মোট পাঁচ বার পালিয়েছে।

মজার বিষয় হলো, নারী গরিলা এভিলিনের পলায়নের প্রধান সঙ্গী পুরুষ গরিলা জিম। বেশ কয়েকবার তারা একে অন্যকে পালানোর ব্যাপারে সাহায্য করেছিল। একবার জিমকে বসিয়ে তার পিঠের উপর চড়ে এরপর দেয়াল বেয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল এভিলিন।

বেশ কয়েকবার নিজের খাঁচা থেকে পালাতে পারলেও সৌভাগ্যবশত এ পর্যন্ত একবারও এভিলিন বা জিম চিড়িয়াখানার মূল এলাকা ছেড়ে বের হতে পারেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এক-দেড় ঘন্টা জিরাফ সহ অন্যান্য প্রাণীর আশেপাশে ছোটাছুটির পর চিড়িয়াখানার কর্মীরা তাদেরকে ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে অজ্ঞান করে খাঁচায় ফেরত আনতে সক্ষম হয়।

একই চিড়িয়াখানায় ভার্জিনিয়া নামে ৯ মাস বয়সী একটি বাচ্চা নেকড়ে মোট তিনবার চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে সে একটি গাছ বেয়ে উপরে উঠে যায় এবং চিকন একটি ডালের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে দেয়ালের কাছাকাছি পোঁছে যায়, এরপর লাফ দিয়ে বাইরে পড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তার খোঁজে নিকটস্থ গ্রিফিথ পার্ক পুরো চষে ফেলে। কিন্তু অন্তত দুবার ভার্জিনিয়ার দেখা পেলেও তাকে ধরতে ব্যর্থ হয় তারা।

একবার চিড়িয়াখানা কর্মীদের ছুঁড়ে দেওয়া মাংস মুখে দিয়েই সে দ্রুতগতিতে বনের গভীরে হারিয়ে যায় ভার্জিনিয়া। অন্য একবার ট্রাঙ্কুলাইজার গান থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলেও সেটা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পরেও শেষ পর্যন্ত ভার্জিনিয়াকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পালানোর তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়ার মোনারতো চিড়িয়াখানার একটি গন্ডারের নাম। সাতারা নামের ঐ গন্ডারটি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে কাঠ এবং লোহার তৈরি বেড়া ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানান, ১৮ বছর বয়সী সাতারার নারী সঙ্গী অন্য একটি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী গন্ডারের সাথে মিলিত হওয়ার পরেই এ ঘটনা ঘটে।

পরবর্তিতে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা গন্ডারটিকে হেলিকপ্টারে করে ধাওয়া করে। তারা একে উদ্দেশ্য করে পাঁচটি ট্রাঙ্কুলাইজার ডার্ট নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে প্রথম কয়েকটি এর শরীরে লেগে ছিটকে ফিরে আসলেও শেষ পর্যন্ত একটি শরীরে প্রবেশ করে এবং গন্ডারটিকে কাবু করতে সক্ষম হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, যদি গন্ডারটিকে অজ্ঞান করা সম্ভব না হতো, তা হলে অন্যান্য প্রাণী এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য একে মেরে ফেলা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো উপায় থাকত না।

২০১১ সালে নিউ ইয়র্কের একটি চিড়িয়াখানা থেকে একটি বিষাক্ত মিসরীয় কোবরা নিখোঁজ হয়ে যায়। ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এই সাপগুলো এতই বিষাক্ত যে, এগুলোর ছোঁবলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সাপটির পলায়নের সংবাদ এলাকাবাসীর মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। যদিও সৌভাগ্যবশত কোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে জানায়, সাপটি আসলে পালাতে পারেনি, বরং এটি একটি পাইপের ভেতরে লুকিয়ে ছিল।

১৯৬৫ সালে গোল্ডি নামের একটি ঈগল লন্ডন চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায়। চিড়িয়াখানার এক কর্মচারী যখন ঈগলের খাঁচাটা খুলেছিল পরিষ্কার করার জন্য, তখন তার অসাবধানতার সুযোগে বেরিয়ে যায় গোল্ডি। তবে পুরোপুরি নিরুদ্দেশ না হয়ে সে চিড়িয়াখানার আশেপাশেই অবস্থান করে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা ছাড়াও লন্ডনের পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ব্যাপক অভিযান সত্ত্বেও ১২ দিন পর্যন্ত তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।

নিউইয়র্কের নিকটবর্তী লং আইল্যান্ডের একটি অ্যানিমেল পার্ক থেকে ১৯৩০ সালের এক রাতে একসাথে প্রায় ১৭০টিরও বেশি বানর পালিয়ে যায়। চার্লস সেলনার নামের এক কর্মচারী রেস্যাস নামক ক্ষুদ্রাকৃতির এশিয়ান বানরগুলোর এলাকা থেকে পরিচর্যার কাজ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরিখার উপর স্থাপন করা কাঠের তক্তাটি সরিয়ে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পরপরই কাপোন নামে নেতৃস্থানীয় এক বানরের নেতৃত্বে সারিবদ্ধভাবে কাঠের তক্তার উপর দিয়ে এক এক করে পালিয়ে যায় ১৭০টিরও বেশি বানর।

বানরগুলো লং আইল্যান্ডের রেল লাইন পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকাল থেকেই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একের পর এক বানরের উৎপাতের অভিযোগ জানিয়ে ফোন আসতে থাকে। প্রথম দিন রাতের বেলা ৩০টির মতো বানর ফিরে এলেও বাকিরা বাইরেই রয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি বানর ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং বিনামূল্যে চিড়িয়াখানা ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।