প্রতিকী ছবি

রিমান্ডে নেয়ার আইনগত ‘যৌক্তিকতা’ কতটুকু?

আইন পাঠ:

পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি আইনে কতটুকু ও কখন গ্রহণযোগ্য তা নিয়েই এ লেখা।
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৪ ধারা মোতাবেক ‘কোনো প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন বা সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা হলে তা অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে। ‘দোষ স্বীকার অবশ্যই স্বেচ্ছাকৃত ও বিনা ভয়ভীতিতে হতে হবে।’ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৫ ও ২৬ ধারা মোতাবেক ‘কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় দোষ স্বীকার করলে এটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না।’ এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, অসহায় অভিযুক্তকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করা। পুলিশ যাতে বেআইনিভাবে কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে না পারে সে জন্য এই ধারা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। যে কোনো পদবিরই পুলিশ অফিসার হন না কেন তার সামনে স্বীকারোক্তি আইনে অপ্রাসঙ্গিক।

সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, স্বীকারোক্তি সবসময় নিজে জড়িত করে প্রদান করতে হবে। নিজেকে জড়িত না করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলে তা স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন এই স্বীকারোক্তি ২৪ ধারা অনুসারে অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণ করতে হলে আদালত যুক্তিসঙ্গত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যেমন কার কাছে দোষ স্বীকার করা হয়েছে, কোন সময় ও কোন স্থানে দোষ স্বীকার করা হয়েছে, কি পরিস্থিতির উপর দোষ স্বীকার করা হয়েছে, এ সব বিষয়গুলো আদালত ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখবে। এটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

কিন্তু সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে আসামির দোষ স্বীকার অনুযায়ী কোনো অপরাধমূলক জিনিস যদি উদ্ধার করা হয় বা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে আসামি কর্তৃক দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার বিচার্য বিষয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কোনো বস্তু বা আলামত যদি উদ্ধার করা হয় তাহলে ওই উদ্ধারকৃত অংশের বিবৃতি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে পুলিশ অফিসার যদি আসামির স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আদায় করেন তাহলে সেই স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য বা প্রাসঙ্গিক। সাক্ষ্য আইনের ২৯ ধারা মতে, আসামি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে পুলিশ অফিসার যদি আসামিকে শুধু গোপনীয়তার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেন তাহলে সেই স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য বা প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ‘আসামি পুলিশকে বলল, ‘আমি চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেছি এবং ওই চাকু পুকুরে ফেলে এসেছি।’ পুলিশ ওই চাকু পুকুর থেকে উদ্ধার করল, তখন আদালতে ওই বিবৃতির অংশ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে। মোট কথা, পুলিশের কাছে দোষ স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে আসামিকে শাস্তি দেয়া যায় না, শাস্তি দিতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করতে হবে। তাহলে রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা কি?