পেঁয়াজ সিন্ডেকেটের শেষ কোথায়?

খবরাখবর ডেস্ক:

খুব সম্ভবত, এর আগে বাংলাদেশে পেঁয়াজের এতোটা সংকট হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই পেঁয়াজের এই সংকট মানব সৃষ্ট।অর্থাৎ কৃত্রিম। কিছু অসাধু ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী নিজেদের মুনাফার জন্য সারাদেশের মানুষকে জিম্মি করেছে। শুধু সাধারণ মানুষ বললেও ভুল হবে, পেঁয়াজ কাণ্ড নিয়ে রীতিমত বেকায়দায় রয়েছে সরকারও। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন; শিগগিরই দেশে বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আসছে।দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য এবার বিমানে করে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ। একদিকে পেঁয়াজ নিয়ে নাকাল দেশবাসী অপরদিকে, অতি লাভের আশায় আড়তে মজুদ করে রাখা বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ পঁচে যাচ্ছে আড়তদারদের।সেসব লুকানোর চেষ্টা করলেও ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে । এসব খবরে দেখা যায়, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়ত থেকে ফেলা হচ্ছে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ। এসব পচা পেঁয়াজের বস্তা খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তের সামনে যেমন পড়ে আছে তেমনই ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পাড়ে।

খাতুনগঞ্জের হাজী আল হাকিম বাণিজ্যালয় আড়তের সামনে পড়ে আছে ৩০ থেকে ৪০ বস্তা পচা পেঁয়াজ। ওই আড়তের মেঝেতেও পড়ে অসংখ্য পচা পেঁয়াজের বস্তা। পেঁয়াজগুলো শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) টেকনাফ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আড়তের ম্যানেজার মো. সিরাজুল হক। এ বিষয় তিনি বলেন, ‘কাল টেকনাফ থেকে আমাদের আড়তে এক ট্রাক পেঁয়াজ আনা হয়। পেঁয়াজগুলোর ৬০ শতাংশই পচা। মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে আনার সময় পেঁয়াজগুলো পচে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।’

শাহাদাত অ্যান্ড ব্রাদার্স, খাজা ট্রেডার্সসহ আরও কয়েকটি আড়তের সামনেও একই অবস্থা। ওইসব আড়তের সামনেও পড়ে আছে পচা পেঁয়াজ।

খাজা ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘মিয়ানমারের পেঁয়াজের স্টক শেষ পর্যায়ে। চাহিদা থাকায় মিয়ানমার এখন তুলনামূলক খারাপ পেঁয়াজগুলোও রফতানি করে দিচ্ছে। এ কারণে এখন টেকনাফ থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে এগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই আনার পথে পচে যাচ্ছে।’

আড়তদাররা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার বিষয়ে প্রাকৃতিক কারণকে দায়ী করলেও ক্রেতাদের দাবি বেশি দামের আশায় মজুত করে রাখার কারণে পেঁয়াজগুলো পচে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খাইরুল বাশার নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, বড় ব্যবসায়ীদের আড়তে পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ। বেশি দামের কারণে কিনতে পারিনি আজ।

নগরীর জামালখান এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা পেঁয়াজ পাচ্ছি না। অন্যদিকে আড়তদাররা পেঁয়াজ মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। মজুত রাখায় ওইসব পেঁয়াজ এখন পঁচে যাচ্ছে। টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখতেছি আড়তদাররা বস্তায় বস্তায় পচা পেঁয়াজ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।’

তবে গণমাধ্যমে আসা এই তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও খবর আমার কাছে নেই। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার ময়লার ভাগাড়ে পচা পেঁয়াজের বস্তা ফেলে যাচ্ছেন আড়ত শ্রমিকরা। পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মচারীরা সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলে দিচ্ছেন।’

শুক্রবার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকা থেকে কী পরিমাণ পচা পেঁয়াজের বস্তা অপসারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে শফিকুল মান্নান বলেন, তেমন বেশি না। আমি যতদূর জেনেছি দেড়শ’ থেকে দুইশ’ বস্তার মতো হবে। কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাঁচা বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৬০-২৭০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। পেয়াজের এমন কৃত্রিম মূল্যবিদ্ধির কারণে নিন্মবিত্ত ও মধ্যম আয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বাধ্য হয়েই রান্নায় পেঁয়াজকে উপেক্ষা করছেন।তাই জণমনে প্রশ্ন- পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের শেষ কোথায়?