এক’শ বছরে দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে যত স্তন্যপায়ী প্রাণী

এক’শ বছরে দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে যত স্তন্যপায়ী প্রাণী

জীব ও বৈচিত্র্য:

গত ১০০ বছরে বাংলাদেশের ভুখন্ড থেকে চিরতরে হারিয়েছে গেছে প্রায় ৩১ প্রজাতির প্রাণী। তার মধ্যে ১১ প্রজাতিই রয়েছে স্তন্যপায়ী । আর সরীসৃপজাতীয় প্রানীতো প্রায় বিলুপ্তের পথে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ১ হাজার ৬১৯ প্রজাতির বন্য প্রাণীর কোনটির কী অবস্থা, সে-বিষয়ক লাল তালিকা বা রেড লিস্টের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে সরকারের বন বিভাগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)।

এ প্রতিবন মতে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ডোরাকাটা হায়েনা রাজশাহী অঞ্চলে, ধূসর নেকড়ে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে, নীলগাই দিনাজপুর-পঞ্চগড় এলাকায়, বান্টিং বা বনগরু চট্টগ্রাম ও সিলেটে এবং বনমহিষ দেশের সব বনাঞ্চলেই দেখা যেত। এ ছাড়া তিন ধরনের গন্ডার ছিল বাংলাদেশে; সুমাত্রা গন্ডার, জাভা গন্ডার ও ভারতীয় গন্ডার। বাদা বা জলার হরিণকে স্থানীয়ভাবে বলা হতো বারো শিঙা হরিণ। এটি সিলেট ও হাওর এলাকায় দেখা যেত। কৃষ্ণষাঁড় নামে একটি প্রাণী ছিল রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকায়। আর মন্থর হরিণ পাওয়া যেত পার্বত্য চট্টগ্রামে। এই ১৩ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে বেশির ভাগই গত শতাব্দীতেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র মন্থর ভালুক নামে ভালুকের একটি প্রজাতি গত ৪০ বছরে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে।

এছাড়াও মহাবিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে বেঙ্গল টাইগার, হাতি, ভোঁদড়, লামচিতা, চিতা, বনরুই, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, বনগরু, সাম্বার হরিণ, প্যারাইল্লা বানর, হিমালয়ান ডোরা কাঠবিড়ালি ও কালো ভালুক।

এদিকে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘মূলত বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার কারণে বাসস্থান হারিয়ে এই প্রাণীগুলো বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।এখনই সচেতন না হলে সামনের দিনগুলোতে আরো প্রানী বিলুপ্ত হবে। যা আমাদের পরিবেশের জন্য সমস্যার কারণ হবে।’