চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন যেভাবে

উল্লাস আহসান :

পেশাগত শিক্ষা ও যোগ্যতার মিশেলে অধিষ্ঠ হওয়া যায় প্রতিষ্ঠিত পেশায়। পৌছানো যায় মর্যাদাশীল জীবনে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য এসে দাঁড়িয়েছে দ্রুত একটি ভালো প্রফেশন, একটি ভালো চাকরির। একদিকে থাকে মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন অন্যদিকে চাকরির বাজারে হিমশিম খেতে হয় গতানুগতিক সাধারণ শিক্ষা নিয়ে। বিপরীত মেরুতে সাফল্যের গল্প কেবল প্রফেশনাল ডিগ্রিধারীদের। সাধারণ শিক্ষার তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী বিষয়গুলোর চাহিদা বরাবরই বেশি। বলা যায় পেশাগত ডিগ্রি বা যোগ্যতা এক কথায় সোনায় সোহাগা। অনায়াসে পাওয়া যায় সম্মানজনক চাকরি। কেবল সদ্য পাশ করা গ্রাজুয়েটরাই নয়, যারা চাকরিজীবী তারাও মনোযোগী হতে পারেন এসব প্রফেশনাল দক্ষতা অর্জনের ব্যপারে। চার্টার্ড সেক্রেটারি বর্তমান সময়ের আলোকে তেমনি একটি চ্যালেঞ্জিং প্রফেশন। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন-২০১০ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এ পেশার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

কেন এই কোর্স
পেশাগত শিক্ষা ও যোগ্যতা প্রদানের ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে চলেছে। আজ তাই চার্টার্ড সেক্রেটারি একটি সুপরিচিত ও গ্রহণীয় পেশাগত যোগ্যতা। বর্তমানে চাকরিরত ও চাকরিপ্রার্থী উভয়ের জন্য এ প্রফেশনাল কোর্সটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। চার্টার্ড সেক্রেটারিশিপ আপনাকে কর্মরত প্রতিষ্ঠানে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক চাকরির সুযোগ করে দেবে। তা হতে পারে কম্পানি সেক্রেটারি/ডেপুটি কম্পানি সেক্রেটারি/অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্পানি সেক্রেটারি/করপোরেট ম্যানেজার বা এর সমমর্যাদাসম্পন্ন। একজন দক্ষ চার্টার্ড সেক্রেটারি কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার বেতনের চাকরিতে প্রবেশ করতে সক্ষম।

চাকরির সুযোগ

দেশের বিভিন্ন কম্পানিতে সেক্রেটারিয়াল ডির্পাটমেন্ট এবং শেয়ার ডিপার্টমেন্টে রয়েছে কাজের প্রচুর সুযোগ। তবে ইদানিং কোর্সটি করার পরে অনেকেই এইচআর ডির্পাটমেন্টেও কাজ করছে। যদিও চাকরি প্রাপ্তির বিষয়টি নিজের মেধা, যোগ্যতা এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে। কোর্সটি সম্পন্ন করার পরে অনেকেই কম্পানির সেক্রেটারি, সহকারী সেক্রেটারি এবং ম্যানেজার হচ্ছেন। যারা আট-দশ হাজার টাকার বেতনের চাকরি করতো সিএস কোর্স করায় এখন অনেক উন্নত জিবন-যাপন করছে।

 

কাদের জন্য এই কোর্স?

স্নাতক সম্পন্ন করার পরে যে কেউ কোর্সটি করতে পারবে। কর্মাসে স্নাতক হলে কোর্সটি করা যাবে সরাসরি। তবে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে স্নাতক পাশ করলে প্রথমেই করে নিতে হবে ফাউন্ডেশন কোর্স। ফাউন্ডেশন কোর্সে হিসাব বিজ্ঞান এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের বেসিক বিষয় গুলো শিখানো হবে। ফাউন্ডেশন কোর্সটি সম্পন্ন হলেই চার্টার্ড সেক্রেটারিশিপ কোর্সের মূল পর্বের কোর্সগুলো পড়ানো হবে।

ভর্তির যোগ্যতা

এ কোর্সটি করতে চাইলে বাণিজ্য শাখায় ন্যূনতম স্নাতক (বিকম/বিকম-অনার্স/ বিবিএ/এমবিএ) ডিগ্রি এবং কমপক্ষে ছয় পয়েন্টের অধিকারী হতে হবে। ভর্তি হতে পারবে বিজ্ঞান ও মানবিকে স্নাতক সম্পন্ন করা যে কেউ।

ভর্তির সময়

বছরে দুইবার যথাক্রমে ডিসেম্বর ও জুন মাসে ভর্তি হওয়া যায়। বছরে দুটি সেমিস্টার যা জানুয়ারি থেকে জুন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদি।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি
নেওয়া হবে শুধু মাত্র মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৯ ডিসেম্বর। থাকবে ৫০ নম্বর। কোর্সটি সম্পূর্ণ ইংরেজিতে হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা হবে ইংরেজিতে। কারণ ৯০ শতাংশ কম্পানি প্রেজেন্টটেট হয় সেক্রেটরির মাধ্যমে। বিশেষ করে মাল্টিন্যাশলান কম্পানিতে সেক্রেটারিরা অনড়গল ইংরেজিতে কথা বলতে না পারলে বিপাকে পরতে হয়। ইংরেজিতে ভালো, তাদেরই বাছাই করা হয়। তবে যেহেতু কোর্সটি কমার্স রিলেটেড তাই মৌখিক পরীক্ষার সময় কর্মাসের বিষয় প্রশ্ন করা হতে পারে। দেখা হবে গুছিয়ে কথা বলার মুন্সিয়ানা। বাছাই করে নেওয়া হবে প্রায় ২০০ জনকে। প্রত্যেকটি সেকশন হবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে।

যেভাবে পড়ানো হবে

মোট ১৮টি বিষয় পড়তে হবে দুই বছর ছয় মাস মেয়াদি কোর্সটিতে। পুরো কোর্সটি মোট পাঁচ সেমিস্টারে বিভক্ত। তবে কমার্স ব্যাতিত অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের শুরুতে আরো একটি ফাউন্ডেশনাল কোর্স করতে হয়। তাদের লাগে তিন বছর। খরচাও পড়ে বেশি। প্রথম তিন সেমিস্টারকে বলা হয় এক্সিকিউটিভ লেভেল এবং শেষ দুই সেমিস্টারকে বলা হয় প্রফেশনাল। প্রতিটি সেমিস্টার ছয় মাসের। চার্টার্ড সেক্রেটারিশিপ কোর্স সম্পন্নকারীদের তিন মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এই ইন্টার্নশিপের ব্যাপারে ইনস্টিটিউট থেকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে পছন্দ অনুযায়ী ইর্ন্টানশিপ করতে পারবে।

যা শিখানো হবে

সেমিস্টারওয়ারী এই কোর্সে পড়ানো হবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট। এইচআর, আইন, একাউন্টিং, ট্যাক্স, ইকোনমি, কর্পোরেট কমিউনিকেশন, বিজনেস, কম্পানি আইন, কম্পানি সেক্রেটারিয়াল মেটার, ব্যাংকিং আইন, বিমা আইন, নন ব্যাংকিং ফাইনান্স ইনস্টিটিউশনাল আইন, আইটি, ম্যানেজমেন্ট, কর্পোরেট ট্যাক্স, কর্পোরেট ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, স্ট্যাটিজিকাল ম্যানেজমেন্ট, সেক্রেটারিয়াল এডভান্স প্রাকটিস, সেক্রটারিয়াল এন্ড ম্যানেজমেন্ট অডিট , সিকিউরিটিস ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাপিটাল আইন পড়ানো হয়। প্রতিটি সাবজেক্টের পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরের।

খরচ

মোট ব্যয় হয় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তবে যাদের ফাউন্ডেশন কোর্স করতে হয় তাদের প্রায় ২ লাখ টাকার মত লাগে। ভর্তির সময় রেজিস্ট্রেশন, সেশন চার্জ, লাইব্রেরি কার্ড, কোচিং ফি সব মিলিয়ে ২০,৬৫০ টাকা লাগবে। ভর্তির আবেদনপত্র ও স্টুডেন্টস হ্যান্ড বুকের মূল্য ১০০০ টাকা। এক্সিকিউটিভ লেভেল পর্যায়ের ১০ সাবজেক্টের জন্য মোট ৯১,৪৫৫ টাকা এবং প্রফেশনাল পর্যায়ে আট সাবজেক্টের জন্য ৮০,২৫০ টাকা। বছরে দুইবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে।