ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলঃ বিগত ৫৫ বছরে তিনিই প্রথম নারী

আর্ন্তাতিক ডেস্ক :

সময়টা গত বছরের অক্টোবর। অর্থাৎ ২০১৮। নোবেল কমিটি অনেক যাচাই বাছাই শেষে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করলো। এতে পুরস্কার পেলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার অ্যাশকিন, কানাডার ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড এবং ফ্রান্সের জেরার্ড মরো।মূলত লেজার প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাদেরকে এই পুরষ্কার। পরবর্তিতে তাদের এ অবদান চিকিৎসাবিজ্ঞানেও কাজে এসেছে। বিশেষ করে লেজার ট্রিটমেন্ট ও চোখে লেজার সার্জারি করা সম্ভব হচ্ছে তাদেরই অবদান। এ তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে সব কিছুকে ছাপিয়ে ‘ ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড’ ওঠে এসেছেন প্রাদপ্রদীপের আলোয়। তাকে নিয়ে আলোচনা থামছেই না। কারণ তার এ অর্জণের আদল একটু আলাদা। শেষ ৫৫ বছরের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কোন নারী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান নি। ১৯০১ সাল থেকে শুরু করে এপর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেছে মাত্র তিনজন নারী। একজন হলেন মেরি কুরি (১৯০৩) এবং অপরজন হলেন মারিয়া গোপার্ট-মায়ার (১৯৬৩)।

ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড

বিজীয় হিসেবে নাম ঘোষণার পর নোবেল কমিটি ডোনা স্ট্রিকল্যান’র একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি নিজের সর্ম্পকে বিভিন্ন কথা শেয়ার করেছেন। রংপেনসিলের পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটির চুম্বক অংশ বাংলায় তুলে ধরা হলো। মূল সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নোবেল মিডিয়ার চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার অ্যাডাম স্মিথ।

অ্যাডাম স্মিথ: হ্যালো, আপনি কি ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড?
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: হ্যালো। হ্যাঁ আমিই।

অ্যাডাম স্মিথ: আমি অ্যাডাম স্মিথ বলছি, নোবেল পুরষ্কার কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: আচ্ছা।

অ্যাডাম স্মিথ: প্রথমেই নোবেল পুরষ্কার অর্জনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই।পাশাপাশি জানতে চাই, পুরষ্কারের বিষয়টি জানার পর অনুভূতি কেমন ছিল?
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। আগেই জানতাম এ দিনেই পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাই হয়তো কেউ মজা করে এমনটি বলছে।পরবির্ততে বিষয়টিকে সত্য বলে নিশ্চিত হয়েছি।

অ্যাডাম স্মিথ: আমি জানি না আপনার মতো আর কেউ কখনো জীবনের প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের জন্য নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেছে কি না।
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: আমিও এই বিষয়টি নিয়ে কিছু জানি না।তবে আমাকে স্বীকার করতেই হবে পুরো বিষয়টিতে আমার ভাগ্য ভালো ছিল।

 

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলঃ বিগত ৫৫ বছরে তিনিই প্রথম নারী

অ্যাডাম স্মিথ: আপনার বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধরণটি নিয়ে জানার খুব আগ্রহ আছে।
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: মূলত এরকম কাজ করে আমি আনন্দ পেতাম। লেজার নিয়ে কাজ করার সময়টা মনে হয় সারা জীবনে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমের ছিল। তবে পরিশ্রমের হলেও শর্ট-পাল্‌স লেজার নিয়ে কাজ করে খুব আনন্দ পেতাম। যে গবেষণা দলের সাথে কাজ করতাম সে দলটিও ছিল চমৎকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিক চলে যেতো। সে সময়গুলোর বেশিরভাগই আনন্দের ছিল, উপভোগের ছিল।

অ্যাডাম স্মিথ: বিগত ৫৫ বছরের মাঝে আপনি প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী। বিষয় কিভাবে দেখছেন?
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: হ্যাঁ, শেষবার পেয়েছিলেন গোপার্ট-মায়ার। তার আগে মেরি কুরি, যার নাম সকলেই জানে। আমি এমনকি তার সাহায্যও নিয়েছি। আমার থিসিস পেপারে সাইটেশন হিসেবে তার কাজ উল্লেখ করেছি।এমন একটি কাজের সঙ্গে তার বিষয়গুলোকে সর্ম্পক্ত করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।

অ্যাডাম স্মিথ: নারী হিসেবে নোবেল পাওয়া। বিষয়টি খুব যে খুব সহজ; তেমনটি নয়। কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আপনাকে এমনটি অর্জন করতে হয়েছে। এই বিষয়টি সবাইকে কী বার্তা দেয় বলে আপনি মনে করেন?
ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড: আমি সত্যিই জানি না এর উত্তর কীভাবে দেবো। কারণ আমি এমন নারী নই যে কিনা নোবেল পুরষ্কার অর্জনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বসে আছে। তবে আমি আনন্দিত যে মেরি কুরির মতো নারী পদার্থবিদ এই দিকটিকে আলোকিত করে গেছেন।