বিভিন্ন রকমের রান্না উপযোগী তেল

যাপিত জীবন স্পেশাল :

তেল ছাড়া রান্না, কল্পনাই করা যায় না। এক কথায় রন্ধনকর্মে তেল চাই-ই চাই। দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে এর প্রচলন। আদিকালে রান্নায় সরিষা তেলের প্রভাব থাকলেও, এতে ভাগ বসায় সোয়াবিন তেল। সময়ের পালাক্রমে সোয়াবিনের পাশাপাশি বাজারে এসে আরো রান্নাপযোগী নতুন তেল। সেসব নিয়েই আজকের আয়োজন-

রাইস ব্র্যান তেল
প্রযুক্তির কল্যাণে তুষ-কুঁড়া নিংড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে রাইস ব্র্যান তেল। দেখতে অনেকটা সাধারণ সোয়াবিন তেলের মত হলেও দামে বেশ সস্তা। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, তেলটি দেশেই তৈরি হচ্ছে। প্রায় বছর তিনেক ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে রাজত্ব করছে রাইস ব্র্র্যান। এর মধ্যে কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান থাকায় এটি হৃদযন্ত্রের জন্য বেশ ভালো। এছাড়াও প্রাকৃতিক ভিটামিন ‘ই’ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টতো রয়েছেই। উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায়ও তেলটির গুণাগুণ বজায় থাকে। দেশের সব মুদির দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে এ তেল। লিটার প্রতি দাম নেওয়া হচ্ছে ১৪০ টাকা।

ক্যানোলা তেল
সরিষার তেলকে আধুনিক উপায়ে পরিশুদ্ধ করে তৈরি করা হয় ক্যানোলা তেল। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এ তেলটি সাধারণ সোয়াবিন তেল থেকে বেশ উপকারী। এতে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস এবং ওবেসিটিত রোগীদের জন্য এই তেল উপকারী। ক্যানোলা তেলের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড স্নায়ুতন্ত্রকে ভালো রাখে, ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি কমিয়ে আনে। এছাড়াও এ তেলে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’। তেলটি যেকোন রান্নার কাজের ব্যবহার করা যায়। যেকোন মুদির কোন বা সুপার শপে মিলছে ক্যানোলা তেল। আর লিটার প্রতি গুণতে হবে প্রায় সাড়ে ৩শ টাকা।

সূর্যমুখী তেল
অধিক পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’ থাকায় সূর্যমুখী তেল দেহের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। দেহের ত্বক ও চুল সুস্থ রাখে। এমনটি মুখের ব্রোণ কমাতেও বেশ কাজে আসে তেলটি। আলাদা কোনো গন্ধ না থাকায় এটি নানা ধরনের রান্নায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহৃার করা যায়। দেশের প্রায় সব মুদির কোনাকেই মেলে এ তেলটি। লিটার প্রতি ২০০ টাকা দরে বিভিন্ন ব্রান্ডের সূর্যমুখী তেল পাওয়া যাবে।

তিলের তেল
তিলের তেল একটি এডিবল ভেজিটেবল অয়েল। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি সৌন্দর্য চর্চাতেও তেলটির খ্যাতি রয়েছে। তিলের তেল ভিটামিন ই, বি কমপ্লেক্স ও ডি সমৃদ্ধ। পাশাপাশি এই তেলে আছে কপার, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। ফলে রান্নায় এই তেলের ব্যবহার ব্লাড প্রেশার কমায়। বাজারে তিলের তেল কিনো যাবে লিটার প্রতি এক হাজার টাকায়।

অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল হৃপিন্ডকে ভালো রাখতে সহায়তা করে। এই তেলটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমাতে বেশ কাজ করে। এ ছাড়া নানা ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান আছে অলিভ অয়েলে। তবে বাড়তি আঁচের রান্নায় এই তেল গুণাগুণ হারায়। এ তেলটি বাজারে বিক্রয় হয় বেশ চড়া দামে। লিটার প্রতি গুণতে হবে দুই হাজার টাকার উপরে।

সরষের তেল
ঝাঁজালো গন্ধ ও স্বাদের সরষের তেলের আছে বহু গুণ। প্রতিদিনের রান্নায় অপরিহার্য একটি অংশ এ তেল। এতে উচ্চমাত্রায় মনো-আনস্যাচুরেটেড এবং পলি-আনস্যাচুরেটেড উপাদান আছে। বর্তমানে তেলটি লিটার প্রতি এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নারিকেল তেল
অনেকেই চুল ও ত্বকে মাখেন নারিকেল তেল। তবে রান্নায়ও নারিকেল তেলের ব্যবহার আছে। এ তেলে আছে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট। কিছু খাবারে ভিন্ন স্বাদ আনতে এ তেল ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এতে কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে।

এছাড়াও বর্তমানে জলপাইয়ের তেল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান তেলটিকে দেশে বাজারজাত করেছে। যদিও তেলটি কিনতে ক্রেতাকে গুণতে হবে বেশ চড়া দাম।