বিশ্বের কয়েকটি কুখ্যাত বাণিজ্যযুদ্ধ

পাঁচমিশালি ডেস্কঃ

বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন নয়। শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই শুরু এ যুদ্ধ। এখন অবদি চলছেই। এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে অন্য দেশের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, যতবারই এ যুদ্ধ হয়েছে ততবারই এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের কোন না কোন অংশে। সেই ধারাবাহিকতায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরেছে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে।এ দু পরাশক্তির বাণিজ্য যুদ্ধ সর্ম্পকে কমবেশি সবাই অবগত। তাই আজকের আলোচনা বিশ্বের বেশ কয়েকটি কুখ্যাত বাণিজ্যযুদ্ধ।

কলা যুদ্ধ :
১৯৯৩ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের আমদানির পণ্যের রশি টানতে লাতিন আমেরিকা থেকে কলা আমদানিতে উচ্চ শুল্ক বসায় ইউরোপ। ওই সময় লাতিন আমেরিকার কলার খামারগুলোর মূল মালিক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে এর বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। এ বাণিজ্যযুদ্ধের নিস্পত্তির জন্য প্রায় ২০ বছর সময় লাগে।

 

মুরগি যুদ্ধ :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা মুরগির ওপর ১৯৬০ সালে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে ফ্রান্স ও জার্মানি। দ্রুতই এর জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্স ও জার্মানির বেশ কিছু পণ্য আমদানিতেও চড়া শুল্ক আরোপ করে তারা। এর মধ্যে ছিল ফ্রান্সের ব্রান্ডি এবং জার্মানির গাড়ি ভক্সওয়াগন। এ যুদ্ধ অনেক দূর গড়িয়েছিল।

 

আফিম যুদ্ধ :
১৮৩৯ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত চীন আর ব্রিটেনের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল আফিম যুদ্ধ। সেময় চীন ছিল কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ । তাই চীনারা শুধু সোনা, রুপা আর আফিম আমদানি করত। সে সময় আফিম যে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা জানত না চীনারা। একসময় ব্রিটিশ বণিকেরা চীনে অবৈধভাবে আফিম পাচার করতে শুরু করে। ব্রিটিশদের কাছ থেকেই চীনের জনগণ আফিমকে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা শেখে। এই মারাত্মক অবস্থা বুঝতে পেরে চীনের রাজা চিয়াচিং আফিমের নিষিদ্ধ করেন। পরে ১৮৩৯ সালের ১০ মার্চ চীনের রাজা বেআইনিভাবে রক্ষিত আফিম জব্দ করেন। এর জবাবে চীন আক্রমণ করে ব্রিটিশরা। সেই যুদ্ধে হেরে যায় চীন।