যেভাবে অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়েছে চীন

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

এশিয়ার সুপার পাওয়ার চীন,  মাত্র ৭০ বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর কমিউনিস্ট নেতা চেয়ারম্যান মাও জেদং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর থেকেই দেশটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

মূলত ১৯৭৬ সালে মাও জে দংয়ের মৃত্যুর পর দেং শিয়াওপিংয়ের শাসনামলে চীনের বিভিন্ন খাতে সংস্কারকাজ আরো বাড়তে শুরু করে। বড় হতে থাকে দেশটির অর্থনীতি। কৃষকদের জমি চাষাবাদের অধিকার দেওয়া হয়। যার করনে চীনাদের জীবনমানের উন্নয়ন ও খাদ্যর ঘাটতি কমা শুরু করে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য চীনের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১৯৭৯ সালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে গড়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক। সস্তা শ্রম ও অল্প খরচের কথা বিবেচনায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অর্থ ঢালতে শুরু করে। অর্থনীতিবিদ ডেভিড মান বলেন, ‘১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে চীনের অর্থনীতি এক অলৌকিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’

এরপর পুরো নব্বই দশক ধরেই চীন তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি বাড়াতে থাকে। দেশটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয় ২০০১ সালে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব বাধা ও শুল্ক ছিল সেগুলোও ক্রমে হ্রাস পেতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা যায় যে বিশ্বের সর্বত্র চীনের পণ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের মতে, ‘১৯৭৮ সালে চীনের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক হাজার কোটি ইউএস ডলার, যা ছিল বিশ্ববাণিজ্য থেকে মাত্র ১ শতাংশ কম। ১৯৮৫ সালের মধ্যে দেশটির রপ্তানির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে যায় এবং তার দুই দশকেরও কম সময় পর এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।’

চীনের এমন অর্থণৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে চীন তার ৮৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্ত করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের ২৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা অর্জন করবে, যা হবে আজকের জার্মানির সমান।