ক্যাসিনো নিয়ে বাংলাদেশের আইন যা বলে

আইন পাঠ ডেস্ক:

বাংলাদেশের আইনে জুয়া খেলা একদম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এই খেলার কারণে একজন লোকের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিক ও নৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ধর্মীয় ভাবে আছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তবে বর্তমানে জুয়া ও ক্যাসিনো মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইন কতটুকু পর্যাপ্ত; তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বা ক্লাবে বা আড্ডায় গোপনে জুয়াখেলার আসর বসতে দেখা যায়। কিন্তু সম্প্রতি উন্নত বিশ্বের মতো জুয়াখেলার একেবারে আধুনিক সংস্করণ ডিজিটালাইজড যন্ত্রপাতি সজ্জিত এসব ক্যাসিনোগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিস্ময় জাগে।

এখন আসা যাক মূল আলোচনায়। সম্প্রতি আলোচিত জুয়া ও ক্যাসিনো সম্পর্কে আমাদের দেশে যে আইনটি কার্যকর আছে সেটি ১৫২ বছরের বেশি পুরনো আইন । যা ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ নামে পরিচিত। প্রকাশ্য জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অপরাধে শাস্তি এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে আইনটি মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হয়। এর কারণ মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী জুয়াবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’। এরপরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন মামলায় প্রদত্ত রায়েও এ বিষয় নিষেদ্ধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ আইনে আরও বলা হয়েছে, ‘জুয়া’ খেলা শব্দ দ্বারা জুয়া বা বাজি ধরা বোঝাবে। ‘ক্রীড়াসামগ্রী’ শব্দ দ্বারা জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত যে কোনো হাতিয়ার বা সামগ্রীকে বোঝাবে। এবং যে কোনো ঘর, স্থান তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হবে।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার স্থান হিসেবে যে কোনো ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী ব্যবহারকারী হিসেবে মুনাফা বা উপার্জনের জন্য ভাড়া দিলে অপরাধী হবেন।

এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে ৩ মাসের কারাদন্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। এই আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোনো অফিসার অথবা পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে জুয়া খেলার সামগ্রী আটক করতে পারবে। এই আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এই আইনে একবার দন্ডিত হওয়ার পর আবারও একই অপরাধ করলে তার শাস্তি হবে দ্বিগুন। এবং অনুরূপ ব্যক্তি অভিযুক্ত হইয়া ছয়শত টাকার অধিক জরিমানায় অথবা ১ বছরের অধিককালের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইবে না।

তবে, ক্যাসিনো বা জুয়া খেলার ১৫২ বছরের দুর্বল আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী কঠোর আইন করা সময়ের দাবি।