তারা হারালেন কোথায়?

রায়হান রহমান

‘আমার একটা নদী ছিল জানলো না তো কেউ’ পথিক নবীর এই গানটি একটা সময় সবার মুখে মুখে ছিল। এখনো চায়ের দোকানে কিংবা ভীড়ের মাঝে, আড্ডা দিতে দিতে অনেকেই গেয়ে ওঠেন গানটি। পথিক নবীর গানে শ্রোতারা থাকলেও গানে নেই তিনি। দীর্ঘ এগারো বছর ধরে নতুন কোন মৌলিক গান করছেন না। কিন্তু কেন? যেসব জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এতোদিন ধরে নিজেকে খুঁজছি। নিমগ্ন চিত্তে সঙ্গীতের সাধনা করেছি। একটা সময় হুট করেই তারকা খ্যাতি পাই। যার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অতিরিক্ত কাজ করতে করতে নিজের শরীরের দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারি নি। ফলে দুর্বল হয়ে যাই। তাছাড়া মিউজিক কম্পোজও করতে পারি না। এসব শিখছি। তবে শিগগিরই গানে নিয়মিত হবো কিনা সে বিষয় কিছু বলতে পারছিনা। আমার আরো সময় প্রয়োজন।
হারিয়ে যাওয়া আরেক সংগীত শিল্পীর নাম মাহাদী ফয়সাল। ‘তুমি বরুনা হলে আমি সুনীল, তুমি আকাশ হলে হব শঙ্খ চিল’ শিরোনামে গান গেয়ে কোটি প্রাণে স্পন্দন সৃষ্টি করা মানুষটাও হারিয়ে গেছে। ২০০৫ সালে গানের জগতে এসেই হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। হৃদয়ের ঝড়ে, নিঝুম রাত, ভোরের শিশিরসহ বেশ কয়েকটি গান তার দর্শকপ্রিয়তা পায়। বেশ কয়েক বছর ধরে নেই নতুন কোন গান। শোনা যায় বর্তমানে এ শিল্পী একটি কর্পোরেট হাউজে চাকরি করছেন।
সময়টা ২০০২। ‘রূপের মাইয়া’ শিরোনামে একটি গান গেয়ে রীতিমত আলোড়ন সৃস্টি করেছিলেন সিলেটের মামুন। লোকগানের এই শিল্পীর শুরুটা ছিল বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে। সে বছর এই গানের প্রায় ৪০ লাখ ক্যাসেট বিক্রি হয়েছিল। তারপরেই নিভে গেলেন তিনি। এরপরে আরো কয়েকটি একক গানের অ্যালবাম প্রকাশ করলেও তেমন একটি সাড়া পাননি তিনি। বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। নেই নতুন গানের কোন খোঁজ খবর।
রিয়্যালিটি শো ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গানের জগতে আসেন নোলক বাবু। ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’ ও ‘শোয়াচান পাখি’ গান দুটি দিয়ে নিজেকে চিনিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তিতে তার ‘চালচুলোহীন স্বপ্ন’ শিরোনামে একটি গান বেশ দর্শকপ্রিয়তাও পায়। এপরপরই ছন্দপতন। যে সম্ভাবনা নিয়ে তিনি এসেছিলেন তাতে ভাটা পড়ে। বিভিন্ন কারনেই শুরু করেন দেশের বাইরে থাকা। সম্প্রতি তিনি বলেন, আমি আগের মতই গানে ব্যস্ত হতে চাই। হয়তো শিগগিরই ফিরবো নতুন গানে।
‘যাও পাখি বলো তারে’ গানটা কথা মনে আছে? মনপুরা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কাজী কৃষ্ণকলি ইসলাম। রীতিমত হইচই ফেলে দেওয়া এই গানের জন্য পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। সেই শেষ। মাঝে নিজ বাড়িতে গৃহকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং সন্দেহভাজন হিসাবে স্বামীকে আটকের পর থেকেই মিডিয়ার আড়ালে চলে যান তিনি। নেই কোন নতুন গানে খবর।
ফুয়াদ আল মুক্তাদির অল্প দিনেই বাংলা সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন সৃস্টি করা একটি নাম। একটা সময় অ্যালবামের পাশাপাশি সিনেমাও কাজ করতেন তিনি। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বিজ্ঞাপনের জিজ্ঞেলেও। কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হোন তিনি। তার শরীরে প্যাপিলারি কারসিনোম ধরা পড়েছে। এটা থাইরয়েড ক্যানসার। নিয়মিত তার অস্ত্রোপাচার হচ্ছে। ফলে পবিরবার সহ অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। নেই নতুন কোন গানের খবরও।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল প্রমিথিউসের মূল ভোকাল বিপ্লব। অসংখ্য গান গেয়ে শ্রোতানন্দিত হয়েছিলেন তিনি। সিডির দোকানে দোকানে একসময় বাজতো বিপ্লবের গান। সেসব এখন অতীত। কিন্তু দীর্ঘদিন নেই তার নতুন গান। হারিয়ে যাওয়াদের কাতারে এই নামটিও রাখা যায়।
তাদের নিয়ে ভক্তশ্রোতাদের আগ্রহের শেষ নেই। সবার মনে হাজারো প্রশ্ন তারা হারালেন কেথায়? কবে ফিরছেন নতুন গান নিয়ে?