পঞ্চ ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ করে হয়ে উঠুন স্বাস্থ্যবান

সুস্থ থাকতে পৃথিবীতে কতশত নিয়ম, কতশত ওষুধের প্রচলন। আপনাকে এত কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না, যদি চক্ষু, কর্ণ, নাসিক্য, জিহ্বা এবং ত্বককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

এলিমেন্টাল নামের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক চার্লস স্পেন্স বলেছেন, ‘আমরা যা দেখি, অনুভব করি এমনকি স্বাদ নেই তার ওপর আমাদের সুস্থ থাকা নির্ভর করে। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ব্যথা কমে যাবে, দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন যেকোনো অসুস্থতা থেকে।’

ঘ্রাণ: ঘ্রাণ সার্বিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। পেনসিলভানিয়ার মেডিকেল স্কুলের গবেষক রিচার্ড ডটি বলছেন, ‘ঘ্রাণ বিষয়টি নিউরোডিজেনারেশন, হার্ট ডিজিজ এবং অকালে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত।’

‘বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যাদের ঘ্রাণশক্তি সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে তারা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হন।’

ডটির পরামর্শ, ‘ঘ্রাণশক্তি কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’

স্পর্শ: স্পর্শের অনুভূতি কিছুটা দৃষ্টিশক্তির মতো। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জুশয়া বলছেন, ‘মানুষ ঘণ্টায় গড়ে ১৫ বার ‍মুখে হাত দেয়। এতে কোনো বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত নিতে ‍সুবিধা হয়। স্পর্শের অনুভূতি ব্রেনের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

দৃষ্টি: সবুজ দৃশ্য দেখা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। সব সময়ই জানা গেছে, এমন পরিবেশ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। উপকার আছে আরও।

‘ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড কারভিং’ শিরোনামের গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা মাদকের প্রতি আসক্ত তাদের উচিত শহর ছেড়ে সবুজ গাছগাছালিতে ভরা পরিবেশে চলে যাওয়া। ঘর থেকে প্রতিদিন সবুজ দৃশ্যে চোখ রাখলে ধূমপান, মদ এবং ফাস্ট ফুডের প্রতি আসক্তি কমে যায়।

ঘরের পাশে এমন ভাবে গাছ লাগানো উচিত, যাতে বেডরুমের জানালা দিয়ে প্রতিদিন সবুজ দৃশ্য দেখা যায়।

গবেষণাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব প্লাইমাউথের শিক্ষকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়।

মার্টিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঘর থেকে দেখা সবুজ পরিবেশ প্রবলভাবে ক্ষতিকর আসক্তি দূর করে। অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমরা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছি। দেখেছি যারা প্রতিদিন প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকেন, মাদক কিংবা চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি তাদের আসক্তি কম।’

শব্দ: শ্রবণশক্তির ব্যাপারে খুব একটা না বললেও চলে। শব্দদূষণ কতটা ক্ষতিকর তা আধুনিক যুগে কারো অজানা নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ নয়েজ কন্ট্রোল বলছে, পথের শব্দের কারণে একজনের হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা বা স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ক্রুটি হতে পারে। শব্দ দূষণের কারণে ব্লাড প্রেশার, শ্বাসের সমস্যা এমনকি হজমের সমস্যাও হতে পারে।