হেয়ার স্টাইল : সেকালের ‘খোপা’ এখনকার ‘প্লেন বান’, ছবি: ইন্টারনেট
হেয়ার স্টাইল : সেকালের ‘খোপা’ এখনকার ‘প্লেন বান’, ছবি: ইন্টারনেট

হেয়ার স্টাইল : সেকালের ‘খোপা’ এখনকার ‘প্লেন বান’

ফারজানা বণি, বিউটিশিয়ান

আলগা করো গো খোপার বাধঁন, দিল ওহি মেরা ফাস গ্যেয়ি
বিনোদ বেণীর জরীণ ফিতায়, আন্ধা ইশ্ক মেরা কাছ গ্যেয়ি।
তোমার ও কেশে গন্ধে কখন, লুকায়ে আসিলো লোভী আমার মন-

কানে হেডফোন গুজে নজরুলের এই গান শুনলেই কল্পনায় আঁকিবুকি করে- পরনে আটপৌর শাড়ি, কপালে বড় একটি লাল টিপ আর মস্ত একখানা খোঁপা। এ যেন নব্বই দশকের আবেদনময়ী এক নারীর প্রতিচ্ছবি। ঠিক তাই, সেকেলে এই ছিল বহুল চর্চিত নারীর চুলের সাজ গোজ। একরাশ ঘন কালো চুলে বেণি, বড় খোঁপা, যেকোন স্টাইলে ঝুঁটি আবার চুল খোলা রেখেও নিজেদের আবেদনময়ী করে রেখেছিলেন সেকেলের ফ্যাশন সচেতন নারীরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের ধরনে বা রঙ্গে এসেছে পরিবর্তন। আজ জানবো মেয়েদের হেয়ার স্টাইল -এর সেকাল ও একাল।

 

সেকালের হেয়ার স্টাইল

 

গোল করে ঘাড় অবদি কাটা আর বেশ খানিকটা ফোলানো চুলে নিজেদের রাঙ্গাতে বেশ পছন্দ করতো ষাট-সত্তর দশকের নারীরা। নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চুলে আনা হতো ঢেউ ঢেউ এক ধরনে ভাব। লাগতোও বেশ। নারী চুলের এ দৃশ্যপট পাল্টে যায় আশির দশকে এসে। তখনকার সময় বব কাট বেশ জমেছিল। কপালের দিকে চুল ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই বব কাটের অন্যতম উপলক্ষ। ফলে চুলের স্টাইলে পেয়েছিল নতুনত্ব। তবে নব্বইয়ের দশকে চাহিদার শীর্ষে ছিল ঘন কালো দীঘল চুল। দৈর্ঘ্যে পিঠ অবদি না নামলে জমতোই না এ স্টাইল। তবে বাঙ্গালী নারীদের ক্ষেত্রে লম্বা চুলের আকর্ষণ সবসময়ই ছিল। এখনও আছে।

বহুল চর্চিত নারীর চুলের সাজ, ছবি : ইন্টারনেট

ষাট থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত নারীরা চুলে বেনী অথবা উচু করে ফোলানো খোপাঁ বেশ পছন্দ করতেন। মূলত খোঁপাকে ঘিরেই চলত চুলের সাজসজ্জা। কখনো কখনো খোঁপায় রুপার কাটাঁ অথবা নকশা করা খোপাঁ ছিল বেশ জনপ্রিয়। উৎসব আমেজ এলেই খোঁপায় ফূল গুজে দেওয়া ছিল নারীর পছন্দের তালিকার শীর্ষে।

 

এখকার চুলের ফ্যাশন

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে নারীর চুলের ফ্যাশনে। দীঘল কালো চুলের পরিবর্ততে সোনালী, লালচে, লালচে বেগুনি ও কফি রঙ্গের চুলের প্রতি নারীদের ঝোঁক বেশি। সঙ্গে মেকি রঙ্গে চুল রাঙ্গানো এখন ট্রেন্ডই বলা চলে। এছাড়াও ভলিম লেয়ার, স্লাইস লেয়ার, ইমো কাট, ব্যাংস কাট, কার্লি বা কোকড়ানো চুল, রিবন্ডিং বা পুরোপুরি সোজা চুলের আধিপত্ত বেশ চলছে। কেউ বা ফ্যাশনের অনুসঙ্গ হিসাবে চুলগুলোকে এলো মেলা রাখতেই স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বিভিন্ন ধরনের ববিপিন, কাটা, ক্লিপ ব্যবহার নারী চুলের ফ্যাশনে এনেছে ভিন্ন মাত্রা। ছোট ছোট খোপাঁ, ঘাড়ের এক পাশে চুল এনে খোঁপা করাও বেশ চলছে এখন। যেভাবে খুশি সেভাবেই নিজের চুলকে সাজাতে পারছে নারীরা। অতীতের রেট্রো স্টাইল আবার নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে নয়া ফ্যাশনে। তাই চোখে পড়ছে নিত্যনতুন চুলের স্টাইল।

পড়ছে নিত্যনতুন চুলের স্টাইল, ছবি: ইন্টারনেট

এখনকার নারীরা কর্মজীবী। তাই অফিস হোক কিংবা পার্টি সব ক্ষেত্রেই নারীরা চায় ম্যানেজেবল হেয়ার কাট। আগে সাবাই ওয়েভি সার্প পছন্দ করতো এখন স্ট্রেট হেয়ার কাট বা রিবন্ডিং সবার পছন্দ। সাভাবিক ভাবে এর ফলে চুল আচড়াতে হয় না। চুলের ফ্যাশনে নতুন মাত্রা দিয়েছে চুলে কালার করা। দশ বছর আগেও মেয়েরা চুলে কালার করার বিষয়ে ছিল হিসাবি, এখন হয়েছে সাহসী। চুল স্ট্রেট করে হাইলাইটিং করা, ব্রেথ কালার বেশ জনপ্রিয় এখন। কালারের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। বর্তমানে রেড, টি, গ্রীন কালারের মত ক্রজি কিছু হেয়ার কালারও চলছে। একটা সময় ব্যান্ড করা চুল আর বয় কাট খুব চলতো এখন সবাই লং স্ট্রেট চুল চায়। ঝামেলা ছাড়াই ম্যানেজ করা যায় এসব। আবার পুরনো স্টাইল গুলো ফেরত আসছে নতুন আঙ্গিকে। এ ক্ষেত্রে মুল থিমটা ঠিকই থাকে পাল্টে যাচ্ছে ধরণ। যেমন খোঁপা বা বান তার মধ্যে অন্যতম।

 

জনপ্রিয় কয়েকটি হেয়ার স্টাইল

 

রিং খোপাঁ

যেকোন এক দিকে সিঁথি করে চুল আঁচড়ে, উচু একটি খোপা বাঁধা হয়। সামনের দিকে চুল কপাল পর্যন্ত অনেকটা ছেড়ে পিছন দিয়ে পনিটেল বাঁধা থাকে। চুলগুলোকে কম করে হলেও পাঁচ ভাগে রোল করে প্রতিটি রোল ক্লিপ দিয়ে আটকে রাউন্ড শেপে আনা হয়।

প্লেন বান

সামনের দিকের চুলে সামান্য পাফ করে সব চুল পেছনের দিকে নিয়ে গার্ডার বাধা হয়। সঙ্গে ছেড়ে রাখা হয় একগোছা চুল। বাকি চুল দিয়ে হাত খোপাঁ করে ছেড়ে রাখা চুলে ক্লিপ এটে দেওয়া হয় এতে। এর বাইরেও রয়েছে ক্রস বান, ভ্যালেনটাইন বান, নর্মাল বান, কিউট বান বা আলগা খোপাঁ টাইপ স্টাইল। যে কোন বয়সের নারীরাই চুলে এসব আধুনিক খোঁপা বাধতে পারেন।

কার্ল পনিটেইল

কার্লি চুলে এই হেয়ার স্টাইলের বাজার বেশ রমরমা। চুলগুলোকে ওপরের দিকে তুলে একটু টেনে বাঁধা থাকে কার্ল পনিটেইলে। সোজা চুলের পনিটেইলের থেকে কার্ল পনিটেইল বেশ আর্কষণিয়।

হেয়ার ব্যান্ড স্টাইল

সামনের চুল আঁচড়ে বামদিকের কানের ওপরের অংশের চুল থাকে বিনুন করা।বিনুন করা চুলগুলোকে টেনে আনা হয় ডান দিকের কানে কাছে। এখানে আটকানো হয় ক্লিপ দিয়ে। খুব সহজ হওয়ায় হেয়ার ব্যান্ড স্টাইলটি বেশ জনপ্রিয় ট্রেন্ড।

টুইস্ট এন্ড পিন 

এই হেয়ার স্টাইলে কপালের সামনের দিকের চুলগুলোকে ফুলিয়ে ক্লিপ লাগানো হয়। বাকি চুল পেঁচিয়ে খোপার মত করে লাগানো হয় হেয়ার পিন দিয়ে। এই খোপার ঠিক নীচেই ছোট ছোট আরো বেশ কয়েকটি খোঁপা থাকে। এছাড়াও ট্রেন্ডি ফ্যাশন হিসাবে পার্টি বান ক্যাজ্যুয়াল স্টাইল, ফিশেটেইল ব্রেইড পার্টি হেয়ারস্টাইল উইথ লুজ কার্লস এবং পার্টি হেয়ারস্টাইল উইথ পাফ অ্যান্ড কার্লস নারীদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।