হিলারি ক্লিনটন
হিলারি ক্লিনটন, ছবি: getty

হিলারি ক্লিনটন : আমেরিকানরা যাকে ইতিহাস গড়তে দেয়নি

টি. চৌধুরী: হিলারি ক্লিনটন আমেরিকাতেই নয়, গোটা বিশ্বেই জনপ্রিয়। বুদ্ধিমত্তা ও পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক জ্ঞান হিলারিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একাধিকবার সিনেট সদস্য ও মন্ত্রীত্বের স্বাদ তিনি পেয়েছেন। প্রথমবারের মত আমেরিকার নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে ছিলেন এই রাজনীতিবিদ। তবে মার্কিনীরা তাকে ইতিহাস গড়তে দেয়নি। পুরুষতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদের প্রবক্তা এই দেশটি নারী নেতৃত্বের ভার বহন করতে এখনো অক্ষম।

ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলে হয়ে রাজনীতি করেন। এর বাইরেও ক্লিনটনের আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের স্ত্রী। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আইন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

হিলারি ক্লিনটন ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর  শিকাগো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাবা-মায়ের বড় সন্তান। তার ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তিনি শিক্ষাজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন।  মজার ব্যাপার হলো রাজনীতির শুরুর দিকে হিলারি ছিলেন রিপাবলিকান দলের সদস্য। ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাকতালীয় ভাবে তিনি ডেমোক্রেট দলে যোগদান করেন।

হিলারি সিনেটর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন

হিলারি সিনেটর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, ছবি : ইন্টারনেট

ওয়েলেসি কলেজ থেকে ভর্তি হয়েছিলেন ইয়েল ইউনির্ভাসিটির ল স্কুলে। ১৯৭৩ সালে এখান থেকে তিনি আইনের উপর স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ইয়েল চাইল্ড স্টাডিজ সেন্টার থেকে চিল্ডেন ও মেডিসিন বিষয়ে স্নাতকোত্তার ডিগ্রি অর্জন করেন।

হিলারি তার শিক্ষাজীবন চলাকালীন সময়ে সামার ভেকেশনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চাকরি করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনেটর ওয়াল্টের মন্ডাসের সাব কমিটিতে কাজ করেছেন মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার নিয়ে। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ইম্পিচমেন্ট নিয়ে কাজ করেছিলেন। যারা ‘ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি’ নিয়ে জুডিশিয়ারি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করতো। এই ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির কারণেই প্রেসিডেন্ট রিচার্ডকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এরপর হিলারি ইউনিভার্সি অব আরকানাসের আইন বিষয়ক শিক্ষক হিসাবে যুক্ত হোন। সেখানে তার ক্লাসমেট এবং বয়ফ্রেন্ড বিল ক্লিনটনও শিক্ষকতা করতেন। মূলত একসঙ্গে লেখাপড়ার করার সময়েই তাদের মনের মিলন হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১১ অক্টোবর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। তাদের সংসারে একটি মেয়ে আছে। যার নাম চেলছি ভিকটোরিয়া।

আরও পড়তে পারেন- আমেরিকার বিধ্বংসী অস্ত্র: বোমা নাকি ডলার?

হিলারি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে আরও অনেক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও তিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন আইনজীবী হিসাবে। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার ন্যাশনাল জার্নালের জরিপে একশ জন ‘মোস্ট পাওয়ারফুল’ আইনজীবীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৯৩ সালে বিলক্লিটন যখন ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিসাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন তখন হিলারী ফার্স্ট লেডি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এরপর তিনি আমেরিকার গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

২০১৬ সালে হিলারি ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়েন

২০১৬ সালে হিলারি ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়েন, ছবি : ইন্টারনেট

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি নিউয়র্কের সিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু, ওবামার জনপ্রিয়তার কারণে তার সঙ্গে সমঝোতা করে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি আমেরিকার ইতিহাসে প্রথবারের মত নারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হোন। এতে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু এই নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ভাগ্যের কাছে হেরে যান। সারা জীবন তিনি যেখানে প্রতিটি বাঁধাকে জয় করেছেন, সেখানে জীবনের শেষ দিকে এসে ব্যার্থ হোন। যদিও নির্বাচনের আগ দিন পর্যন্ত হিলারি সবদিক থেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। কিন্ত কাকতালীয় ভাবে তিনি ট্রাম্পের কাছে হেরে যান।

১৯৯৭ সালে হিলারি ক্লিনটন আমেরিকার সেরা সঙ্গীত পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। এটা ছিল নন-মিউজিক্যাল ক্যাটেগরিতে। ‘দিইট টেকস আ ভিলেজদ’ শিরোনামে হিলারি ক্লিনটনের লেখা বইটির অডিও সংস্করণ এই ক্যাটেগরিতে বিজয়ী হয়। বইয়ের মূল বিষয় ছিল শিশুদের বৃদ্ধি এবং শিক্ষা। মিসেস ক্লিনটন বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন।