যে রহস্যের সমাধান হয়নি ১০০ বছরেও

মারি এমপ্রেস : যে রহস্যের সমাধান ১’শ বছরেও হয়নি

হাজারও চোখের সামনে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন নির্বাক যুগের তারকা অভিনেত্রী মারি এমপ্রেস। কিভাবে? কখন? কোথায়? ১০০ বছরেও সেই রহস্যের সমাধান হয়নি। তিনি ছিলেন নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী। ‘ছবির দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ বলে ডাকা হতো তাকে। ছিলেন জনপ্রিয় গায়িকা ও নৃত্যশিল্পীও।

তার জন্ম ১৮৮৪ সালের ২৬ মার্চ; ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। সামুদ্রিক জাহাজ ‘এসএস অর্ডুনা’য় উঠেছিলেন অ্যাটলান্টিক পাড়ি দেবেন বলে। সেই তিনিই কি না হাজারও যাত্রী ও নাবিকের মাঝ থেকে উধাও হয়ে গেলেন! কেউ কিছু টেরও পেল না? বলছি মারি এমপ্রেসের কথা। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও তার এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

ঘটনাটি ১৯১৯ সালের ২৭ অক্টোবরের। সেদিন ছিল সোমবার। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটির কানার্ড লাইন জেটিতে নোঙর করল অর্ডুনা। অ্যাটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে জাহাজটি সেবারের যাত্রা শুরু করেছিল ১১ দিন আগে, ইংল্যান্ডের লিভারপুল থেকে। নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর আগে কানাডার নোভা স্কটিয়া রাজ্যের হ্যালিফ্যাক্সে ফেলেছিল নোঙর।

ভিআইপি, সাধারণ যাত্রী ও অভিবাসীতে ভরা জাহাজটিতে সবচেয়ে আলোচিত যাত্রী ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী মারি এমপ্রেস। কিন্তু নিউ ইয়র্ক এসে দেখা গেল, যাত্রীদের সবাই আছেন, শুধু তিনি ছাড়া। একবার-দুইবার নয়, তিনবার তন্ন তন্ন করে খোঁজা হলো পুরো জাহাজ। না; কোথাও নেই মারি। বিনোদন দুনিয়ায় সাড়া পড়ে গেল। এত মানুষের মাঝখানে তিনি কখন কীভাবে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন, সেই অনুসন্ধানে ঘাম ঝরাতে থাকলেন জাঁদলেন গোয়েন্দারা। ফলাফল শূন্য! খবর হিস্টোরি ডটকমের।

আগের দশকেই ব্রিটিশ ভ্রাম্যমান বিনোদন দলে ক্যারিয়ার শুরু তার। দ্রুতই অ্যাটলান্টিকের উভয় পাড়ে গায়িকা, নৃত্যশিল্পী ও নাট্যাভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। এরই মধ্যে আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাক চলচ্চিত্রে নিয়মিতই তার ডাক পড়তে থাকে। ‘দ্য গার্ল হু ডাজেন্ট নো’, ‘দ্য স্টাববর্ননেস অব জেরাল্ডিন’, ‘দ্য ওম্যান পেইস’ ও ‘বাহাইন্ড ক্লোজড ডোরস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পত্রিকার শিরোনামও হতে থাকেন। আবারও শিরোনাম হলেন তিনি, রহস্যময়ভাবে হারিয়ে গিয়ে।

জাহাজটির স্টুয়ার্ডেস জানান, আগের দিন সন্ধ্যায় এমপ্রেসের কেবিন ‘স্টেটরুম ৪৮০’তে খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর কেবিন পরিষ্কার করতে আবারও যান সাড়ে ছয়টায়। তাকে তখন অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, সাড়ে নয়টায় স্যান্ডউইচ খাবেন। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময়ে কেবিনে ঢুকে এমপ্রেসকে দেখতে পাননি সেই স্টুয়ার্ডেস। ফলে স্যান্ডউইচটি রেখে তিনি বেরিয়ে আসেন। সকালে কেবিনে ঢুকে দেখেন, খাবারটি যেমন রেখে গিয়েছিলেন, তেমনই পড়ে আছে। বিছানাও পরিপাটি। তার মানে, রাতে ওখানে ঘুমাননি এমপ্রেস।

সোমবার স্টুয়ার্ডেসের সঙ্গে কেবিনটিতে ঢুকে এক সাংবাদিক দেখেন, তাকভর্তি এমপ্রেসের ছবি। নিউ ইয়র্কে আসা উপলক্ষ্যে ছবিগুলো সম্ভবত সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন এই নায়িকা। তাছাড়া নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে তার পাঠানো একটি টেলিগ্রাফের কপিও পাওয়া যায় ‘স্টেটরুম ৪৮০’-এ। তাতে লেখা : ‘সোমবার আসছি। আমার জন্য একটা রুম রাখবেন।‘

সেই সাংবাদিক আরও জানিয়েছেন, ইন্টারিয়র প্যাসেজওয়ের একটা দরজা ছিল কেবিনটিতে। ১৩ ইঞ্চি প্রশস্ত সেই পথ দিয়ে এমপ্রেসের পক্ষে বের হওয়া মোটেও সম্ভব নয়। তাছাড়া সেই দরজাটি ছিল বন্ধ। কিন্তু এই পথ দিয়ে যদি না যেয়ে থাকেন, তাহলে কী করে জাহাজ থেকে লাপাত্তা হলেন তিনি?

মূল দরজা দিয়ে বের হয়ে যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে থাকেন, তাহলে অনেক যাত্রী, স্টুয়ার্ট ও অফিসারদের পাশ দিয়েই যেতে হতো তাকে। এমন বিখ্যাত একজন অভিনেত্রী কারওই চোখে পড়বেন না, তা তো হতে পারে না। তাই তার লাপাত্তা হওয়ার কোনো সদুত্তর ১০০ বছরেও বের করা সম্ভব হয়নি কারও পক্ষে।