বাংলাদেশের চা বাগান
বাংলাদেশের চা বাগান, ছবি : ইন্টারনেট

বাংলাদেশের চা শিল্প : রেকর্ড উৎপাদনে বড় রপ্তানির সম্ভাবনা

টি চৌধুরী: বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে। ফলে তলানিতে নেমেছে চা আমদানি। বেঁচে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। শতভাগ দেশিয় চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক চা বাজারের দিকে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত তিন বছরে চা রফতানিমুখী হয়েছে। যা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত) উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৪৬ হাজার কেজি। ২০১৯ সালে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয় দেশে। তার আগের বছর ২০১৮ সালে দেশে ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। এই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি কেজিতে উন্নীত করতে কাজ করছে চা বোর্ড।

চায়েরর উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে চা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে। চা রফতানি করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।
১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের সময় দেশে চা বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। তখন তিন কোটি কেজির মতো চা উৎপাদন হত।

বর্তমানে সারাদেশে বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯২টি চা বাগান। বাকিগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে সাতটি, রাঙ্গামাটিতে দুটি ও ঠাকুরগাঁওয়ে একটি। এসব বাগানে মোট জমির পরিমাণ দুই লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ একর। দিনকে দিন চা বাগানের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, বাংলাদেশ চা শিল্প আরও বেশি বেগবান হয়েছে।

চা রফতানি কওে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে

চা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও হচ্ছে, ছবি : ইন্টারন্টে

এদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডে থেকে জানা যায়, রেকর্ড উৎপাদনের নেপথ্যে রয়েছে সঠিক পরিকল্পনা ও অনুকূল আবহাওয়া। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা, খরার কবলে না পড়ায় চায়ের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে গত বছর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা থেকেও এক কোটি কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের (পিডিইউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক বলেন, ‘চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ৯ কোটি কেজির বেশি চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) কেজি বেশি চা পাতার উৎপাদন হয়েছে।’

বিটিবি জানায়, ২০১৮ সালে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার (৮২.১৩ মিলিয়ন) কেজি। যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৮ কোটি ৫৫ লাখ (৮৫. ৫ মিলিয়ন) কেজি চা পাতা উৎপদিত হয়েছিল।

আরও পড়তে পারেন-বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প: ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার হাতছানি

চা বাগানবিটিবি উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমদ বলেন, ‘গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন ছিল ৯৫ মিলিয়ন কেজির ওপরে। এটিই চা উৎপাদনে রেকর্ড। চা উৎপাদনে সাফল্যের পেছনে সরকারের নানামুখী দিক নির্দেশনাগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। ঠিকমতো তদারকি, ফ্যাক্টরি থেকে চা পাতা যাতে লিকেজ হতে না পারে এবং নিলামের বাইরে যাতে বেআইনিভাবে কোথাও বিক্রি না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি ছিল। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়নে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে

বাংলাদেশের চা শিল্প ১৬৫ বছরের উৎপাদন রেকর্ড ভেঙেছে, ছবি : ইন্টারনেট

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চায়ের চাহিদা বছরে ৯ কোটি কেজি। ২০১০ সাল থেকে এ চাহিদা পূরণ করতে চা আমদানি শুরু হয়। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৪ লাখ কেজি চা আমদানি হয়। ২০১৬ সালে আট কোটি ৫০ লাখ কেজি রেকর্ড উৎপাদন করে চায়ের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ।