ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়-রোজগার কেমন?

বাতিঘর ডেস্ক:

বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত শব্দগুলোর একটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। হয়তো তুমিও শুনেছ; কিন্তু জানো কি, ফ্রিল্যান্সিংয়ে বর্তমান বিশ্বে প্রথম সারির সেরা পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ! তোমারও কি এমনটাই মনে হয় না? হ্যাঁ, কমবেশি আমাদের সবারই এমনটাই মনে হয়। আর এই সব সুযোগ-সুবিধার জন্যই আছে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার। একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হয়ে তুমি যেমন একদিকে ঘরে বসেই মাসে লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করতে পারবে; আবার অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের মধ্য দিয়ে। দিন যত গড়াচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ঠিক ততটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

ক্যারিয়ার হিসেবে কেমন
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এখন অনেকেই সফল। অথচ কিছুদিন আগেও ফ্রিল্যান্সিং আমাদের কাছে অনেকটাই দুর্লভ বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের এই যুগে বিশ্ব যেমন বিশ্বায়নের এক গ্রামে পরিণত হচ্ছে, ঠিক তেমনি কর্মের ব্যাপ্তিও বৃদ্ধি পেয়ে তা দেশের সীমানা পেরিয়ে কাজের এক সুবিশাল মার্কেটপ্লেসে পরিণত হয়েছে। ধরো, তুমি খুব ভালো এবং দক্ষ একজন ওয়েব ডেভেলপার। কিন্তু যথাযথ সম্মানী এবং কাজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছ না। আবার একজন নারী হিসেবে যথেষ্ট দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয় সংসার সামলানোর জন্য।

সেক্ষেত্রে কেবল ফ্রিল্যান্সিংয়েই তুমি পাচ্ছো এমন সুযোগ, যেখানে ঘরে বসেই উপার্জনের পাশাপাশি সংসার সামলানোও সম্ভবপর হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিয়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও তোমার কাজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছ। আর বর্তমানে সময় বাঁচাতে, স্বল্প খরচ এবং ঝুঁকি হ্রাসের আশায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো নিজেদের কাজের বেশির ভাগই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে করিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটপ্লেস।

কাজের ক্ষেত্র
ফ্রিল্যান্সিং আসলে একটি যুক্তাক্ষরের শব্দ হলেও এর পরিধি বিশাল। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অসংখ্য কাজ অহরহ বিচরণ করে। তোমাকে শুধু নিজের দক্ষতা অনুসারে কাজ বাছাই করে নিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে আছে প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ট্যাক্স প্রিপারেশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এসইও, গ্রাফিক ডিজাইনিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং, রাইটিংসহ অসংখ্য ক্ষেত্র।

দক্ষতা
তোমাকে প্রথমেই কাজের ক্ষেত্র বাছাই করে নিতে হবে। কোন কাজটা তোমার জন্য উপযুক্ত? কিংবা কোন কাজে তোমার দক্ষতা না হোক অন্তত মোটামুটি ধারণা আছে। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগেই অনেক প্রশিক্ষণ সংস্থা এবং প্রায়ই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বেসরকারিভাবে প্রচুর প্রতিষ্ঠান রাতারাতি গড়ে উঠেছে ফ্রিল্যান্সিংয়ে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে। আর অনলাইন কোর্সসহ ইউটিউবেও প্রচুর টিউটোরিয়ালের দেখা মেলে।

চ্যালেঞ্জসমূহ
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন, দিন-রাতজনিত সময়ের তারতম্য, ইংলিশে পরিপূর্ণ দক্ষতার অভাব, উপার্জিত অর্থ উত্তোলনজনিত সমস্যা, সামাজিক স্বীকৃতির অভাব, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার অভাবসহ আরও নানান চ্যালেঞ্জ।

প্রস্তুতি
ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রস্তুতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। কেননা, এখানে ৯-৫টা অফিস হয়তো নেই কিন্তু আবার একই সঙ্গে অফিসের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও নেই। কেননা, ক্লায়েন্টের কাছে যখন কাজের সময় তোমার কাছে হয়তো সেটা ঘুমের সময়। সময়ের এই তারতম্যের প্রস্তুতি নেওয়াটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও প্রথম অবস্থায় কাজ পাওয়াটা বেশ কষ্টকর। তাই কাজে লেগে থাকার মানসিকতা থাকাটাও বিশেষভাবে জরুরি।

আয়রোজগার
ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়রোজগারের ব্যাপারটা আসলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। প্রথম অবস্থায় এমনও হতে পারে যে ছয় মাস অবধি তোমাকে হয়তো কেবল কাজের সন্ধান করতে হতে পারে। আবার ধরো বিগত মাসে তোমার অর্জন ছিল প্রায় হাজার পঞ্চাশেক, কিন্তু চলতি মাসের মাঝামাঝি অবধি কোনো কাজের দেখা নেই। তাই সঠিক আয়রোজগারের বিষয়ে ধারণা দেওয়াটা মুশকিল, অন্তত ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে। তবে কাজে লেগে থাকলে এবং দক্ষতা থাকলে প্রতি মাসে লাখখানেক উপার্জন করা সফল ফ্রিল্যান্সারদের তালিকাও নেহাত কম নয়।