‘রবিবার’ ছবির দৃশ্যে জয়া আহসান ও প্রসেনজিৎ

জয়ার ‘রবিবার’ ও কিছু প্রশ্ন

রায়হান রহমান
পেশায় একজন ল’ আফিসার। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকতা তিনি। তবে পুরো ছবিতে একবারের জন্যও কোটের বারান্দায় জাননি। সঙ্গে লেখালিখাটাও করছেন। ড্রাফট, সে ড্রাফট নিয়ে ফোনে কথোপকোথন চলছেই। সঙ্গে যুঁতসই কিছু পেলে, চ্যাপ্টার বাড়বে বলে প্রকাশককে জানিয়ে দিচ্ছেন। যদিও বিখ্যাত নাকি অখ্যাত লেখিকা, তার লেখার ধাচই বা কেমন; ছবির শেষ দৃশ্য পর্যন্তও জানার সুযোগ হয়নি। কিন্তু কেন? পরিচালক জেনে বুঝেই জয়ার সঙ্গে এমনটি করলেন, নাকি অজ্ঞাত কারনে জয়াকে নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনায় জাননি?

আচ্ছা চলুন, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আসি-

জয়া আহসান ও প্রসেনজিতের ‘রবিবার’ সিনেমাটি দেখেছেন, তারা ভালো করেই জানেন এ ছবিতে জয়া কিংবা প্রসেনজিতের ব্যক্তিগত পেশা গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিনা? রবিবার মানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সেদিন হঠাৎ করেই প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে দেখা হয়। কোন ধরনের ইন্ট্রুডাকশনে না গিয়ে পরিচালক ছবির গল্পে ঠুকে পড়েন। পাড়ার রেস্তোরায় জয়ার চোখ যখন প্রসেনজিতের দিকে পড়ে, একজন সুদর্শক হিসাবে আন্দাজ করা কঠিন হয় না তাদের একজনের মনে প্রচন্ড ক্ষোভ অন্যজনের মনে আহত ভালোবাসার কথা। প্রসেনজিত জয়াকে সরাসরি ফেরত পেতে চাইছেন বহুবার। কিন্তু জয়া একটুও ফিরতে না চাওয়ার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছেন একুশ ক্যারেটের ভালোবাসা। অব্যক্ত ভাবে সেসব সুড়সুড়ি দিয়ে বার বার বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন পরিচালক।

এতোক্ষণেও যারা বুঝে উঠতে পারেননি তাদের বলছি; হাতে সময় থাকলে একবার জয়া আহসান ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘রবিবার’ সিনেমাটি দেখুন। বলে রাখা ভালো, যারা এই সিনেমাটি দেখনি, লেখাটি তাদের জন্য নয়।

‘রবিবার’ ছবির দৃশে প্রসেনজিৎ ও জয়া আহসান

এবার তবে শুরুর দিকে ফেরা যাক-

‘রবিবার’ ছবির প্রাণ বলা যায় এর সংলাপকে। ক্ষণে ক্ষণে সংলাপে সংলাপে যুদ্ধ হয়েছে। সেগুলো প্রাণ পেয়েছে জয়ার মুখে উচ্চারিত হয়ে। আবার কখনো কখনো শব্দজুগল মার খেয়ে হারিয়ে গেছে, এ অভিনেত্রীর এক্সপ্রেশনের কাছে। তখন মনে হয়েছে, জয়ার কথাটা না বললেও চলতো। একটু চুপ থাকলে আরও মোহনীয় লাগতো আবহটাকে। (এখানে ছবির ডায়লগ হুবহু দিতে হবে।) লড়াইটা জয়ার সঙ্গে প্রসেনজিতেরও হয়েছে। এই হয়তো জয়া উৎতরে গেছেন প্রসেনজিতের বুদবুদ অভিনয়কে। আবার সেই জয়াকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি, প্রসেনজিতের ভেলকির সামনে। খানিকবাদেই জয়া স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন। ছবিতে জয়া, প্রসেনজিতের প্রাক্তন। তবুও ভালোবাসাটা একদম আটপৌড় রয়েগেছে। ভিতরে ক্ষোপ পুষে রেখেছিলেন জয়া ঠিকই, প্রসেনজিৎ সেসব পাত্তা দিতেন না। জানতেন, মান অভিমান ভালোবাসার কাছে কিছুই না। একবার যাকে মন দেওয়া যায়, শত চেষ্টা করেও সে মন আর ফেরত নেওয়া যায় না। তার আচ পাওয়া গেছে পুরো ছবির গতর জুড়ে। বিচ্ছেদের আগমুহুর্তে জয়ার ফেরত দেওয়া সব কিছু আগলে রেখে প্রসেনজিত তার প্রমাণ দিয়েছেন। যদিও জয়ার কাছে তিনি একজন চিটার ছাড়া আর কিছুই নন।

‘রবিবার’ ছবির দৃশে জয়া ও প্রসেনজিৎ

যদিও বাঙালী স্বামীর মতই নিজ হাতে ডিম ভেজে খাওয়ানো, রেস্তোরা থেকে জোর করে বাড়ি নিয়ে আসা, সব কিছুর মধ্যেই প্রসেনজিতের পাগলাটে মনের উদাহরণ মিলেছে। শেষ মুহুর্তে এসে ছবির কাহিনীকে আরও গাড় করে রাখলেন পরিচালক। যদিও ফাইনাল কাট বলার আগেই মনে হয় ছবির ফুটেজ ফুরিয়ে গিয়েছিল। নাহলে এমন অসমাপ্ত সমাপ্তি তিনি কেন টানলেন?

বিদ্র : আমি ছবি দেখতে বসি সংলাপ, অভিনয় আর ক্যামেরার ফ্রেম দেখার জন্য। কখনো কখনো আড়াই ঘন্টার ছবি টেনেটুনে শুধু বিশ মিনিটও দেখি। তবে ‘রবিবার’ পুরোটা দেখেছি। সে অর্থে ছবির রেটিং ১০-এর মধ্যে ৮ অথবা ৯ হওয়ার কথা। তবে আপাতত ৬-এর বেশি দিতে পারছি না।

বিশেষ দ্রষ্টব্যের বিদ্র : আমি ছবির বিশারদ নই। তাই চুলচেড়া বিশ্লেষণ আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ছবিটি দেখার পর, যা মনে হয়েছে লিখেছি।