করোনা নিয়ে শিশুদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলবেন

যাপিত জীবন ডেস্ক :

পুরো বিশ্ব এককথায় লকডাউন। কোথাও ঘোষিত, কোথাও অঘোষিত। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ লোক এর কারণে গৃহবন্দী। প্রতিদিনই হুহু করে বাড়ছে লাশ ও আক্রান্তের সংখ্যা। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও এটি ভীতিকর সময়। তাদের স্কুল বন্ধ। মা-বাবারাও যাচ্ছেন না অফিসে। ঘরে টয়েলেট পেপার থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ করা হচ্ছে। কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বড়দের কথায়, চোখে মুখে আতংক।এরকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভয়ে থাকে শিশুরা। তাদের নরম মনে এক ধরনের চাপা আতংক কাজ করে। এটি মানসিক ও শারীরিক ভাবে তাদের প্রভাবিত করে। শিশুদের এ অবস্থায় চাঙ্গা রাখতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখতে হবে মা-বাবাকেই, এমনটিই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।করোনা ভাইরাসের দিনগুলিতে শিশুদের সঙ্গে মা-বাবাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

প্রথমত, শিশুদের সঙ্গে করোনাভাইরাস নিয়ে কোন লুকোচুরি করা যাবে না। এই ভাইরাস নিয়ে তাদের সঙ্গে সোজাসাপ্টা আলোচনা করতে হবে। চাইল্ড মাইন্ড ইনস্টিটিউটের শিশু মনোবিজ্ঞানী জ্যানাইন ডোমিংস সব মা-বাবাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনি যেভাবে বাচ্চাকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকেন, সেটা কোন খুশির সংবাদ হোক, কিংবা স্কুলের রেজাল্ট; একই ভাবে করোনা বিষয়ক সংবাদ তাকে দিবেন। প্রয়োজনে ক্ষণে ক্ষণে তার সঙ্গে আলাপ করবেন। আপডেট জানাবেন। তবে তথ্য প্রদানের মধ্যে আপনাকে অবশ্যই স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে হবে।

আরও পড়ুন:  মানসা মুসা: সর্বকালের সেরা ধনী মুসলিম শাসক

দ্বিতীয়ত, তথ্য দেওয়ার সময় বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিবেন। গুজব ও ভীতি ছাড়ায় এমন কোন তথ্য দিবেন না। অতিরিক্ত কোন তথ্য শেয়ার করার প্রয়োজন নেই। তথ্য দেওয়ার সময় সন্তান কোন প্রশ্ন করলে, স্বাভাবিক ভাবে এর উত্তর দিবেন। এটি আপনার সন্তানকে আতংকিত হওয়া থেকে বিরত রাখবে। অবশ্যই সত্য গোপন করবে না।
তৃতীয়ত, আপনার সন্তানের কাছ থেকে শোনার চেষ্টা করুন, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা তার বন্ধুর কাছ থেকে করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে সে কতটুকু জেনেছে। সেখানে কোন তথ্যগত ভুল থাকলে আপনি ঠিক করে দিন। তাকে সত্য জানানো দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। সত্য তথ্যই পারে সন্তানের ভীতিকর কল্পনা ও অবসাদ দূর করতে। তবে, হ্যা আপনি যদি ব্যক্তিগত ভাবে করোনাভাইরাস নিয়ে আতংকিত হয়ে থাকেন, সে বিষয়টি সন্তানের কাছে গোপন রাখা ভালো। সন্তানেরা সবসময় মা-বাবাকে সবচেয়ে সাহসী মানুষ ভাবে। যখন দেখবে, মা-বাবা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তখন তাদের মধ্যে আরও বেশি আতংক বিরাজ করবে।

চতুর্থ, আশ্বাস দিন। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে বলুন, করোনাভাইরাস কতটা বিরল। পাশাপাশি কিভাবে এ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সেসব বিস্তারিত বলুন। একটি বিষয় মনে রাখতেই হবে, এ ভাইরাস সর্ম্পকে কোন তথ্য গোপন করলে, আপনার শিশুর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ সতর্কতা আসবে না। চাইল্ড মাইন্ড ইনস্টিটিউটের শিশু মনোবিজ্ঞানী জেমি হাওয়ার্ড বলেছেন, ‘ বাচ্চারা যদি মাস্ক সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করে, তবে ব্যাখ্যা করুন যে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলির বিশেষজ্ঞরা বলেছেন- এটি বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রযোজনীয় নয়। আর বাচ্চারা যদি মাস্ক পরিহিত কোন লোককে দেখতে পান তবে ব্যাখ্যা করুন তারা অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছেন। খুব সম্ভবত তাদের আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে।

টিউফটস ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের পেডিয়াট্রিক সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান কোডি মেসনার বলেছেন, মা-বাবাদের শিশুদের বলা উচিত, করোনাভাইরাসে বাচ্চাদের অসুস্থ হওয়া বিরল একটি ঘটনা।

 

‘পয়েন্টার’ থেকে রংপেনসিলের পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন- রায়হান রহমান