করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে সময় লাগছে কেন

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

এই প্রথম উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলো এক লাইনে দাঁড়িয়েছে।সবার মধ্যেই একটাই আতংক করোনাভাইরাস। যে দেশে এর অবাদ বিস্তার ঘটেছে, কোন ধরনের মড়লগীরি দিয়েই একে আটকে রাখা যায়নি এবং যাচ্ছেও না। হুহু করে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্ত মানুষে সংখ্যা। ভেঙ্গে পড়ছে অর্থনীতি,বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লোকসমাগম।বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ কার্যত ঘরবন্দি। প্রায় ২০০ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ভয়াল থাবা। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে বিশ্বের নামিদামি মেডিসিন কম্পানিগুলো উঠে পড়ে লেগেছে করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এতো সময় লাগছে কেন?

কোন পদ্ধতিতে আবিষ্কার হবে করোনার প্রতিষেধক

যেকোনো ভাইরাস ধ্বংসে সবচেয়ে কার্যকারী হলো টিকা বা ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন মূলত ভাইরাসের সবচেয়ে দুর্বল দিকগুলোকে তাপ ও রাসায়নিক দ্বারা নিষ্ক্রিয় করতে চেষ্টা করে। তবে করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় করতে এ পদ্ধতি সক্ষম নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেক্ষেত্রে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করতে উচ্চতর ও বারবার ভ্যাকসিনের ডোজ প্রয়োগ করতে হয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নোভাভ্যাক্স গবেষকরা করোনাভাইরাসের রিকম্বিনেন্ট ভ্যাকসিন তৈরি করতে চেষ্টা করছে। এই পদ্ধতিতে ভাইরাসের উপরে প্রোটিন স্পাইকের জেনেটিক কোড বের করা হয়। এ প্রোটিন স্পাইকে সংক্রমিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে।অপর একটি পদ্ধতি হলো— ভাইরাসের প্রোটিনকে বাইপাস করা এবং এর জিনকে ধ্বংস করা। অর্থাৎ ভাইরাসের প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস করা। সহজ কথায় জিন হলো- উদ্ভূত হওয়া বা ভাইরাসের মূল শিকড় বলা যেতে পারে।

করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে কেন এত দেরি
এখন প্রশ্ন আসে করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে এত বেশি সময় কেন লাগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য একেবারে নতুন। এখন পর্যন্ত করোনার যতগুলো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে তার পরীক্ষামূলক ট্রায়েলের জন্য প্রয়োজন অনেক সময়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে তার অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন ১৮ মাস সময়। এই ১৮ মাস সময়ে এটি আসলে করোনা প্রতিরোধে কতটুকু সক্ষম তার পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি চীন কাজ করছে এ ভাইরাসে প্রতিষেধক আবিষ্কার জন্য। তবে তার জন্যও প্রয়োজন অনেক সময়। যেকোনো ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য কয়েক বছরও সময় লেগে যায়।

প্রতিষেধক আবিষ্কারই কি একমাত্র সমাধান
একইসঙ্গে প্রশ্ন আসে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হলেও কী সব দেশ এর প্রতিষেধক ব্যবহারে সক্ষম হবে কি না। কারণ দরিদ্র দেশ সমূহ এ ভ্যাকসিন কিনতে কতটা সক্ষম এবং ক্রয় করতে পারলেও এত সংখ্যক মানুষের জন্য সরবরাহ করতে পারবে কি না সেটা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন গবেষকরা। উদাহরণস্বরূপ তারা বলছেন- ২০০৯ সালে ফ্লু মহামারি চলাকালীন এর প্রতিষেধক পেতে বেগ পেতে হয়েছিল দরিদ্র দেশগুলোকে। এমনকি উন্নতদেশগুলো সে সময় তাদের জন্য বেশি সংখ্যক ভ্যাকসিন মজুর রেখেছিল।

বিশ্লেষকরা উদাহরণস্বরূপ ভারতের কথা বলেছেন। উন্নতদেশ সমূহে বড় ধরনের ওষুধ রফতানির বাজার ভারতের। সেখানে ভারতের মতো একটি দেশ যদি করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সক্ষম হয় তাহলে তারা রফতানি করার আগে নিজের ১.৩ বিলিয়ন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রাখবে আগে। আর অনুন্নত দেশ সমূহ যারা এখনও চাহিদা অনুযায়ী পিপিই ও কিট আমদানি করতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে কতটা সক্ষম প্রশ্ন থেকে যায়।