সাজেক ভ্যালি : রুপে গুণে একশ

রঙপেনসিল ডেস্ক: সতেরো’শ ফিট উচুঁর শহরটি তখন নিস্তব্ধ। কোথাও কোথাও সৌর বিদ্যুতের লাইট গুলো নিভু নিভু করছে। নিস্তব্ধতার সঙ্গে যোগ হলো অন্ধকার। তাতে কি? আকাশ জুড়ে চলছে তারার মিছিল। হরেক রকমের তারা। কংলাক পাড়া থেকে ভারতের মিজোরামের আকাশ পর্যন্ত ছেয়ে থাকা এ লালস্যময়ী আবহ আগে কেই বা উপভোগ করেছে? শ’য়ে শ’য়ে ঝিঝি পোকার ডাক, গভীর অন্ধকারে শো শো শব্দে ঠান্ডা বাতাস। সঙ্গে গিটারের টুংটাং, কন্ঠে- ভেবে দেখেছো কি তারাও কত আলোক বর্ষ দুরে. . . .। মেঘ কাব্য কর্টেজ তখন শব্দের অনুরণে জিবন্ত হতে লাগলো। ছাদের কার্ণিসে বসে নগ্ন আকাশ দেখার লোভ সামলানো বড্ড কঠিন। সন্ধ্যাটাও ছিল চমৎকার। রাতটা ভয়ানক সুন্দর। সকালটা মন্ত্রমুগ্ধকর। মেঘের খামখেয়ালিপনায় ক্ষনে ক্ষনে হারিয়ে গেছি মেঘ রাজ্যে। কল্পনাতীত।

সাজেক ভ্যালিকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়। মেঘে মেঘে আচ্ছাদন তার পুরো গতর জুরে। ভেলকি লাগার মতই, পুরো ২৪ ঘন্টায় দেখা মেলে তিনটি আবহের। কখনো প্রচন্ড গরম, কিছুক্ষণ বাদে বৃষ্টি, বৃষ্টির পরে মেঘের খেলা। অপরুপ রুপে রুপবতী। জিবনান্দ দাশ যথার্থই বলেছেন, বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।

সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ ফিট উপরে। পাড়ার প্রত্যেকটি কর্টেজই বাঁশ কাঠ দিয়ে তৈরি করা। রুইলুই পাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুইট পাড়া নিয়েই মূলত সাজেক। ১৭০০ ফিট উপরে পাহাড়র ঘেসেই কর্টেজগুলা দাড়িয়ে। এখান থেকেই গধুলী, মিষ্টি ভোর, কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত আকাশ আর মেঘকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। সাজেকের পাশের ভারতের মিজোরাম। কংলাক পাড়া এই প্রাচ্যের সবচেয়ে উচু পাড়া। এটি প্রায় ১৮০০ ফিট উপরে। রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়ায় যাওয়ার জন্য ৩০-৩৫ মিনিট ট্রেকিং করতে হয়। তাই পায়ে হেটেই যতে হয়। সবচেয়ে জাদুকরি দৃশ্য হচ্চে কংলাক পাড়ার উপরে পৌছে। একদিকে মেঘের সাড়াশী দৃশ্য, অপর পাশে ভারতের মিজোরামের ভয়ঙ্কর সুন্দর পাহাড়। সত্যিই অসাধারণ।