থাকবনা আমি কিংবা তোরা
আজ থেকে আর থাকবে না এই আড্ডা থাকবে না ক্লাস রুটিন ঠাসা থাকবে ক্যান্টিনের চায়ের কাপ আর চেয়ার থাকবনা আমি কিংবা তোরা। রেল লাইনের ধারে ঝুপড়িটা থাকবে হয়ত থাকবে লাইব্রেরীর সামনে জটলাটা থাকবে না কিছু পুরনো মুখ থাকবনা আমি কিংবা তোরা। আঙ্গুলের ফাঁকে সিগারেট থাকবে থাকবে বাসের পিছে ছোটাছুটি থাকবে না কয়েক যুগল চোখ থাকবনা আমি কিংবা তোরা। …
ফার্স্ট ডেট ও তার পরের কাহিনী
ডেটের নাম শুন লেই আগে জানি কেমন কেমন লাগত। যেমন কেউ আমারে সুরসুরি দিতেছে। আহা! ডেট ও মনে হয় সুরসুরির মতো মজা। নাহ! মনে হয় ক্যাটবেরী ডেইরী মিল্কের মতো! আবার মাঝে মাঝে মনে হতো টিএসসি’র টং দোকানের চায়ের মতো। তবে যার মতোই হোক না কেন চেখে দেখার অনেক খায়েশ ছিল আমার। বন্ধুরা এসে যখন তাদের ফার্স্ট ডেটের কথা বলত তখন …
অতীত আজ অতীতেই থাক…..
কিছু কথা না বলাই থাক । কিছু স্মৃতি নাই বা ভোলা যাক । যেসব ঘটনা মনেতে কেটে যায় দাগ, হৃদয়ের কুঠিরে সেসব আবদ্ধই থাক । কিছু কথা না বলাই থাক । কিছু ব্যথা নাই বা প্রকাশ পাক । প্রত্যাশার চাদরে ঢাকা প্রাপ্তির খাতা, আজ না হয় অপূর্ণই থাক । জানি কাল হয়ত জীবন নেবে নতুন বাঁক । তাই অতীত আজ …
হিমুর আছে জল(পরের অংশ)
পাঠক আপনাকে অনুরোধ করছি এই লিখা পড়ার আগে হুমায়ুন আহমেদের “হিমুর আছে জল” গল্পটি পড়ার জন্য। আমরা খাচ্ছি।লঞ্চ ডুবছে।তৃষ্ণা ওয়াইনের বোতলের মুখ খুলতে খুলতে বলল, হাউ এক্সাইটিং! কী সুন্দর যে তাকে লাগছে,‘মুখের পানে চাহিনু অনিমেষ,বাজিল বুকে সুখের মত ব্যাথা।’তৃষ্ণা চমকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি।আমি মাঝে মাঝে মানুষের মনের কথা বুঝতে পারি। নিচ থেকে বিকট …
আমার প্রথম প্রেম
মোঃ আব্দুল মালেক মঙ্গলবার, ১২ই চৈত্র, ১৪১৯, ২৬শে মার্চ, ২০১৩ যেতে পথে একদিন, হঠাৎ চকিত দেখা, খেলেছিল ওষ্ঠবৃনতে মুচকি হাসির রেখা। নেচেছিল সরু কটি, পদ তালে তালে, ছুটেছিল পিঙ্গল আভা, টোল পরা গালে। তুলছিল ঢেউ কালো কুন্তল রাশি, খেলছিল শোভা, শত পুলক আসি। নাকে ঘাম, চিকচিক বেধেছিল দানা, প্রতিবিম্বন লোভে কিরণ, দিয়েছিল হানা। বায়ু লয়ে বহিছিল বন্য পরিমল, মোহে …
আমার আর নিশির বিয়ে ভাবনা !
বাসায় আসতে গিয়েই বিয়ে বাড়িটা চোখে পড়লো আবার ! একেবারে সাজ সাজ রব রব অবস্থা ! কয়েকদিন থেকেই লক্ষ্য করতেছি এই বাড়িটা এমন লাইটিং করা ! আচ্ছা একদিনের বিয়ের জন্য এতোদিন লাইটিং করার কি কোন মানে আছে ? কি জানি ? নিশিকে এই কথা বললে ও দুম করে আমার উপর রেগে উঠত ! বলত -তোমার এতো দরকার কেন ? ওরা …
নিশি এবং আমার ছোট্ট একটু গল্প !!
আমার আগেই ধারনা ছিল নিশি আজকে আসবে আমার সাথে দেখা করতে ! এমনটা প্রায়ই হয় ! আমার সাথে ও এমন কোন কাজ করে । আমি মনে কষ্ট পাই ! তারপর আমার সাথে দেখা করতে চলে আসে । আমি এমনি যদি ওকে বলি যে দেখা কর আমার সাথে তাহলে দেখা করবে না কিন্তু এদিক দিয়ে ঠিকই চলে আসবে দেখা করতে ! …
একটি সনেট
তুমি করেছ নিমন্ত্রণ নিশুতি রাতে, গিয়েছি তোমার তরে রাত দ্বিপ্রহরে। সে রাত ছিল আধার ঘেরা কুয়াসাতে, আমি পেয়েছি গো ঠাই তোমারি অন্তরে। দেখেছি আমারে তোমারি মন মন্দিরে, নিয়েছি টেনে তোমারে আপন বাহুতে। হাত দুটি ছিল তোমার পিঠের পরে, কখনো পাইনি সে সুখ এই ধরণিতে। আমি উল্লাসিত হয়েছি মুক্ত আনন্দে। অনন্য সুখে বুকে আমার ব্যথা বাজে, লাজে ভরা ঐ মুখ …
চিরচেনা
সম্ভাবত অপর্ণা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর অদ্ভুত এক পরিবর্তন এলো তার ছোট বোন তন্দ্রার ভেতর। হঠাৎ করে সে হয়ে উঠলো সুন্দর। আসলে তার চেহারায় কখনও কোন আকর্ষণ ছিল না। লাবণ্যহীন কালো কুৎসিত একটা মেয়ে। কিন্তু পরিবর্তনটাও খুব বেশি নজরে পড়েছিল অনেকের। আমার কাছে ব্যপারটার খুব বেশি গুরুত্ব ছিলনা। সাধারণত কৈশোর ছেড়ে যৌবনে পা রাখার সময় প্রকৃতির নিয়মে মেয়েদের দেহ মনে …
এই বর্তমান আর বৃদ্ধের প্রত্যাশা
মধ্যরাত ভেদ করে ছুটে আসে কাকের কর্কশ সুর; আর আমার বয়োবৃদ্ধ পিতা নির্ঘুম বারান্দায় বসে অনাহুত আতঙ্কের তাপে শিউরে উঠেন প্রতিবার; বস্তুতঃ এখন তিনি উত্তাপবিহীন। প্রতি প্রত্যুষে কপোতেরা যখন নিয়ে আসে দিনের সংবাদ তিনি ঝাপসা চোখে তাকান খোলা জানলার দিকে, কুরুক্ষেত্রে দস্যুদল বেজায় মত্ত তখন সংহার খেলায়, ছদ্মবেশী সন্ন্যাসীরা লম্বা আস্তিনের নিচে লুকিয়ে রাখে রক্তলোলুপ নিঠুর পটাস আর পরিণামে …

